করোনা ভাইরাস অনুচ্ছেদ রচনা বাংলা ২০২২

করোনা ভাইরাস অনুচ্ছেদ রচনা: মানব সভ্যতার ইতিহাসে মানুষ যতগুলি ভয়ঙ্কর প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়েছে তাদের মধ্যে অন্যতম করোনা ভাইরাস। করোনা ভাইরাস একটি মারাত্মক ছোঁয়াচে রোগ যা ‘SARS-COV-2’ নামক ভাইরাস থেকে ছড়ায়। এর মারাত্মক সংক্রমণ ক্ষমতার জন্য সাধারণ ফ্লু থেকে এটি বেশ আলাদা একটি রোগ। করোনাভাইরাস হাঁচি-কাশির মাধ্যমে মানুষ থেকে মানুষে সংক্রামিত হয়। চীন দেশের উহান প্রদেশের প্রথম করোনাভাইরাস এর খোঁজ পাওয়া যায়। কিছু সূত্র অনুযায়ী জানা যায়, এই করোনাভাইরাস বাদুড় থেকে মিউটেশন ঘটিয়ে মানুষের শরীরে প্রবেশ করেছে।

এখনো পর্যন্ত, করোনাভাইরাস এর বেশ কয়েক প্রজাতির সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। এইসব প্রজাতি গুলির মধ্যে বিশেষ উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হল – Beta, Omicron, Alpha প্রভৃতি। পৃথিবীতে প্রথম করোনাভাইরাস এর সন্ধান মেলে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে। ভারতে মানুষের দেহে প্রথম করোনাভাইরাস এর সন্ধান পাওয়া যায় ২৭ শে জানুয়ারী ২০২০ সালে। সাধারণ সর্দি-কাশির মত করনা ভাইরাসের কিছু পরিচিত উপসর্গ রয়েছে। এগুলির মধ্যে সবথেকে পরিচিত একটি উপসর্গ হল – জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি।

করোনা ভাইরাস শরীরে ঢোকার পর এর উপসর্গ বহিঃপ্রকাশের জন্য মোটামুটি ১ সপ্তাহ সময় লাগে। করোনাভাইরাস সাধারণত আরোগ্যলাভ যোগ্য কিন্তু বয়স্ক মানুষ যাদের শরীরে অন্যান্য বিভিন্ন জটিল রোগ আছে, কোন কোন ক্ষেত্রে করোনাভাইরাস তাদের কাছে প্রাণঘাতী হতে পারে। কোন ব্যক্তি করোনাভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হলে আরোগ্য লাভ করতে মোটামুটি ১৪ দিন সময় লাগে।

করোনাভাইরাস যেহেতু সংক্রামক রোগ তাই কিছু নির্দিষ্ট পন্থা অবলম্বন করলে এই ভাইরাসের সংক্রমণ সংখ্যা কমানো যায়। বাইরে বেরোলে উপযুক্ত ধরনের মাক্স পরা, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করা প্রভৃতি অভ্যাস করলে পালন করলে এই ভাইরাসের সংক্রমণ বহুলাংশে কমানো যায়।

বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানীরা এই ভাইরাসের সংক্রমণ কমানোর জন্য বিভিন্ন ধরনের ভ্যাকসিন আবিষ্কার করেছেন। ভারতের কোভ্যাক্সিন, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কোভিশিল্ড, ফাইজার ইত্যাদি ভ্যাকসিন ইতিমধ্যেই আবিষ্কার হয়ে গেছে এবং সাধারণ মানুষকেও এই ভ্যাকসিন গুলো দেওয়া হয়েছে যাতে আক্রান্তের সংখ্যা এবং মৃত্যুর হার কমানো যায়।

এই অনুচ্ছেদের বিষয় : ‘করোনা ভাইরাস’, ‘Paragraph On Coronavirus In Bengali’। করোনা ভাইরাস এর ওপর মোটামুটি ২৫০ শব্দে লেখা এই অনুচ্ছেদে এই রোগ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ের

(যেমন : করোনা ভাইরাসের উৎস, সংক্রমণের পদ্ধতি, প্রজাতি প্রভৃতি) ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এই অনুচ্ছেদ মূলত শিক্ষার্থীদের জন্য লেখা, বিশেষত যেই শিক্ষার্থীরা করোনাভাইরাস এর ওপর সংক্ষিপ্ত অনুচ্ছেদের সন্ধান করছে তাদেরকে উদ্দেশ্য করে লেখা এই অনুচ্ছেদটি, তাই করোনা ভাইরাস সম্পর্কে যথার্থ তথ্য অনুসন্ধান করার প্রচেষ্টা এই অনুচ্ছেদে ব্যর্থ হতে পারে। করোনা ভাইরাস সম্পর্কে আরো জানতে Wikipedia অথবা WHO এর ওয়েবসাইটে যাওয়ার অনুরোধ করা হচ্ছে।

করোনা ভাইরাস প্রবন্ধ রচনা বাংলা:  ভয়ঙ্কর অতিমারী কোভিড-১৯

ভূমিকা: মন্বন্তরে মরিনি আমরা মারী নিয়ে ঘর করি’—একথা আবারও সত্য হল সাম্প্রতিক অতিমারী করােনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে। আমরা বাঙালি তথা ভারতীয়রা যে ধৈর্য, সাহস ও উদ্যম দেখিয়েছি তাতে বিশ্বের মধ্যে আমাদের সেরে ওঠার নিরিখে তথা করােনাকে জয় করার ক্ষেত্রে প্রথম স্থানেই রয়েছি। এর কারণ আমাদের নিজস্ব প্রতিরােধক্ষমতা। বিশ্বায়ন উত্তরকালে পৃথিবী যখন একটি মাত্র একক, সেখানে এ ধরনের রােগের আক্রমণ থেকে নিজেদের বাঁচাতে গেলে চাই যথাযথ পরিকল্পনা ও জনস্বাস্থ্য সম্পর্কে সম্যক সচেতনতা। তাহলেই অন্যান্য ক্ষেত্রের মতাে এইসব অতিমারীর ক্ষেত্রেও আমরা বলতে পারব—ভারত আবার জগৎসভায় শ্রেষ্ঠ আসন লবে।

মহামারী সংজ্ঞা : মানব সভ্যতার মতো পৃথিবীতে মহামারীরও এক দীর্ঘ ইতিহাস আছে। করোনা ভাইরাস কে জানতে বা বুঝতে গেলে সর্বপ্রথম মহামারী সম্বন্ধে অবগত হওয়া প্রয়োজন। স্বাভাবিকভাবে প্রথমেই প্রশ্ন আসে, আসলে কি এই মহামারী? কোন একটি রোগের জীবাণু যখন কোন কারনে একটি নির্দিষ্ট অঞ্চল জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে তখন তাকে বলে স্থানীয় সংক্রামক ব্যাধি বা ইংরেজি ভাষায় endemic. সেই জীবাণুই যখন একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের গন্ডি পেরিয়ে একটি বৃহৎ অঞ্চল জুড়ে বিস্তার লাভ করে এবং সংক্রমনের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়, তখন তা একটি মহামারী বা epidemic রূপে আখ্যায়িত হয়। আবার সেই রোগই যখন দেশ বা মহাদেশের গন্ডি পেরিয়ে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে তখন তা বিশ্বমহামারী, অতিমারী কিংবা pandemic নামে পরিচিতি লাভ করে। প্রতিটি মহামারীর সংক্রমণের ক্ষেত্রে একটি বিশেষ চরিত্র বা ধরন থাকে। কোন ক্ষেত্রে মহামারী ছড়ায় প্রতিদিনের ব্যবহৃত জল থেকে, কোন ক্ষেত্রে কোন রোগবহনকারী জীব থেকে, কখনো বা কোন ধরনের ছত্রাক থেকে; আবার কখনো মানুষ থেকে মানুষে সরাসরি।

ইতিহাসে মহামারী: বিশ্বজুড়ে মহামারীর এই ইতিহাস অত্যন্ত নির্মম এবং বেদনাদায়ক। কখনো মহামারী এসেছে কলেরা রূপে, কখনো বা নেমে এসেছে ভয়ানক কৃষ্ণমৃত্যু বা প্লেগের অভিশাপ, কখনো জিকা ভাইরাস, কখনো ইবোলা, আবার কখনো এসেছে স্প্যানিশ ফ্লু। আর এই তালিকায় সর্বাধুনিক সংযোজন করোনাভাইরাস। ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে, পৃথিবী জুড়ে বিভিন্ন স্থানে নানাধরনের মহামারী হানা দিয়ে প্রাণ কেড়েছে লক্ষ লক্ষ মানুষের। সভ্যতার অগ্রগতির সাথে সাথে জনসংখ্যা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় এই মহামারীর প্রকোপ আরো তীব্রভাবে অনুভূত হবার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে।

উৎস: করােনা ভাইরাসের উৎপত্তিস্থল চিনের উহান প্রদেশ হলেও আমাদের পশ্চিমবঙ্গে প্রথম তা ছড়িয়েছে লন্ডন থেকে আগত এক যুবকের মাধ্যমে। কোনাে কোনাে বিজ্ঞানীদের অনুমান ‘প্যাঙ্গোলিন’ নামক প্রাণী বা বাদুড় থেকে এই ভাইরাস ছড়াতে পারে। আবার কারাে মতে তা ল্যাবরেটারিতে কৃত্রিমভাবে তৈরি। এ নিয়ে তথ্যানুসন্ধান ও গবেষণা চলতেই থাকবে, আসল কারণ ভবিষ্যই বলতে পারে। তবে এই ভাইরাস দুদিন থেকে চোদ্দ দিন গুপ্তভাবে থেকে মানুষের মধ্যে তা ছড়াতে পারে হাঁচি, কাশি, থুতু, কফ-এর কণার (droplet) মাধ্যমে এবং তাই তা এত সংক্রামক। এই ভাইরাস নাক, সাইনাস বা গলার উপরিভাগে সংক্রমণ ঘটায়।

নামকরণ: প্রথমেই বলে রাখা দরকার যে করোনা এবং ভাইরাস দুটি শব্দই লাতিন ভাষা থেকে গৃহীত। করোনা শব্দের অর্থ মুকুট বা crown এবং ভাইরাস বলতে বোঝায় একপ্রকার অকোষীয় আণুবীক্ষণিক রোগ সৃষ্টিকারী বীজাণুকে যার আক্ষরিক অর্থ হল ‘বিষ’। ভাইরাস জীবগোষ্ঠীর অন্তর্গত নাকি জড়, সে ব্যাপারে বিজ্ঞানীদের মধ্যে বিস্তর মতপার্থক্য আছে। তাই ভাইরাসকে একটি রোগ বহনকারী বীজাণু রূপে ধরে নেওয়াই বাঞ্ছনীয়।অন্যদিকে, আমাদের আলোচ্য ভাইরাসটির নাম করোনা হওয়ার কারণ হল এর আকৃতি। ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপ এ পর্যবেক্ষিত এই ভাইরাসটির শরীরজুড়ে খাজকাটা অসংখ্য কন্টক একে আপাতভাবে একটি রাজমুকুটের আকার দেয়। এই ভাইরাসটি ভাইরাসগোষ্ঠীর অন্যান্য সদস্যদের তুলনায় আয়তনে বেশ খানিকটা বড়। এটি ডায়ামিটারে ০.০৬ মাইক্রন থেকে ০.১৪ মাইক্রন বা গড়ে ০.১২৫ মাইক্রন পর্যন্ত হয়ে থাকে।

করোনা’র চরিত্র বিশ্লেষণ: আজকের করোনাভাইরাসের প্রকৃত রূপ সম্পর্কে জানার জন্য এর চরিত্রের চুলচেরা বিশ্লেষণ একান্ত প্রয়োজনীয়। করোনাভাইরাস এই পৃথিবীর রোগের দুনিয়ায় নতুন নয়। ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে প্রথম মানুষের শরীরে করোনা ভাইরাসের অস্তিত্ব চিহ্নিত হয়। তারপর থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত মানুষের শরীরে রোগ বহনকারী প্রায় পাঁচ প্রকারের করোনাভাইরাস আবিষ্কৃত হয়। এই ভাইরাস মানুষের শরীরে বাসা বেঁধে মূলত শ্বাস-প্রশ্বাসের ক্ষেত্রে বিশেষ জটিলতার উদ্রেক ঘটায়। কিন্তু যে করোনাভাইরাস নিয়ে আমাদের মূল আলোচনা, তা পুরনো করোনাভাইরাস থেকে বহুলাংশে পৃথক এবং সম্পূর্ণ নতুন প্রকৃতির। যার ফলে প্রথম থেকেই একে চিহ্নিত করা হচ্ছে নোভেল করোনাভাইরাস নামে। ২০১৯ সালের শেষ দিক থেকে চীনে এই ভাইরাসের সংক্রমণ দেখা যায়। মিউকাস এর মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে এই ভাইরাসটি বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে আক্রমণ করে। এক্ষেত্রেও প্রধান লক্ষ্য হয়ে থাকে মানুষের শ্বাসযন্ত্র। অত্যন্ত ছোঁয়াচে এই ভাইরাসটি প্রধানত মানুষ থেকে মানুষে ছড়িয়ে পড়ে সংক্রমণ ঘটায়। নোভেল করোনা ভাইরাস ঘটিত রোগটিকে বিশেষজ্ঞরা চিহ্নিত করেছেন কোভিড-১৯ নামে। যার পুরো কথা হল COrona VIrus Disease 19 (COVID-19).

সংক্রমণ: করােনা ভাইরাস মানুষ থেকে মানুষে প্রধানত দুই ধাপে ছড়াতে পারে। প্রথম পর্যায়ে করােনা ভাইরাস-সংক্রমিত ব্যক্তি ঘরের বাইরে গিয়ে মুখ না ঢেকে হাঁচি, কাশি উন্মুক্ত স্থানে প্রকাশ করলে আশেপাশে ১-২ মিটার পরিধির মধ্যে বাতাসে কয়েক ঘণ্টা ভাসমান থাকতে পারে। দ্বিতীয় পর্যায়ে সেই ভাইরাস কণাযুক্ত বাতাসে শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণ করলে অন্য ব্যক্তিদের ফুসফুসেও শ্বাসনালি দিয়ে করােনা ভাইরাস প্রবেশ করতে পারে। এছাড়া অন্য একটি সংক্রমণের প্রক্রিয়া হল—করােনা আক্রান্ত ব্যক্তি যদি নিয়মবিধি না মানেন তাহলে তার হাতে বা ব্যবহৃত বস্তুতে ভাইরাস লেগে থাকতে পারে। দ্বিতীয় পর্যায়ে সংক্রমিত ব্যক্তি যদি কোনাে বস্তুর পৃষ্ঠতলে স্পর্শ করেন তাহলে পরবর্তী কয়েকদিন সেই ভাইরাস থেকে যেতে পারে। তৃতীয় পর্যায়ে যদি অন্য কোন ব্যক্তি ঐ বস্তুতে হাত দেন তাহলে সে সংক্রমিত হতে পারে। চতুর্থ পর্যায়ে ভাইরাস থাকা অবস্থায় হাত দিয়ে যদি কেউ নাক, মুখ, চোখ স্পর্শ করে তাহলে তখনই ভাইরাস উন্মুক্ত শ্ৰেঝিল্পি দিয়ে দেহের ভিতর প্রবেশ করে গলায় ও ফুসফুসে বংশ বিস্তার করে।

চিকিৎসা: করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হবার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা চিহ্নিত করেছেন মানুষের শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার অভাবকে। এতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে গলা ব্যথা, জ্বর কিংবা শ্বাসকষ্টের মতন উপসর্গগুলি লক্ষ্য করা যেতে পারে। ভাইরাস ঘটিত এই রোগটির নির্দিষ্ট চিকিৎসা বলে এখনো অবধি কোন কিছুকে চিহ্নিত করা যায়নি। আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে উদ্রেক হওয়া জটিলতার উপসর্গ অনুসারে ওষুধ প্রয়োগ করে রোগীর শরীরকে এক্ষেত্রে বাইরে থেকে প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা দেওয়া হয়। শরীর এই প্রতিরোধমূলক চিকিৎসার দ্বারা নিজেই নিজের ভিতর ধীরে ধীরে ভাইরাসের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি গড়ে তোলে। এই প্রক্রিয়া চলাকালীন রোগীকে সম্পূর্ণভাবে আইসোলেশনে বা অন্তরীণ অবস্থায় থাকতে হয়। যদিও সম্প্রতি গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে করোনাভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে যেতে পারে।

প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা: ইতিপূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে যে কোভিড-১৯ এর নির্দিষ্ট চিকিৎসা বলে কোন কিছু নেই। উপসর্গ অনুযায়ী এর চিকিৎসা হয়ে থাকে। তাই এই ভাইরাস থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় হল ভ্যাক্সিনেশন বা টিকাকরণ এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ। বিশেষজ্ঞদের মতে এই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা বলতে প্রধানত মানুষে মানুষে সামাজিক বা শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার প্রথাকে বোঝানো হয়।

এই নিয়মের পালনের নিমিত্তই বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের সরকারগুলি দেশ বা নির্দিষ্ট সংক্রমিত অঞ্চল জুড়ে জারি করে লকডাউন। তাছাড়া বিজ্ঞানীরা এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে বারবার বিশেষ ধরনের মাস্কের ব্যবহার এবং হাত পরিষ্কার রাখার উদ্দেশ্যে ৭০% আইসোপ্রোপাইল অ্যালকোহল দ্বারা তৈরি স্যানিটাইজার তথা সাবান ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন। এছাড়াও তারা জানিয়েছেন সংক্রমণ চলাকালীন বিশেষ প্রয়োজন এবং মাস্ক ছাড়া বাড়ির বাইরে বেরোনো সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করতে হবে। তা না হলে করোনাভাইরাস কে প্রতিরোধ করা আমাদের পক্ষে আদৌ সম্ভব হবে না।

টিকাকরণ: সমগ্র বিশ্বব্যাপী দীর্ঘ গবেষণার পর পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন বা টিকা আবিষ্কারে সক্ষম হয়েছে। সর্বপ্রথম যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি দল দীর্ঘ গবেষণার পর করোনাভাইরাসের একটি টিকা আবিষ্কার করে তার ট্রায়াল’ শুরু করে। এর পরবর্তীতে প্রথমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়া ও চীন নিজের স্বদেশে আবিষ্কৃত ভ্যাকসিনের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু করে দেয়। রাশিয়াতে সর্বপ্রথম এই ভ্যাকসিন গ্রহণ করেন রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিনের কন্যা। আমাদের উপমহাদেশও ভ্যাকসিন আবিষ্কার এবং তার প্রয়োগের ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকেনি। ভারতের দুটি সংস্থা: সিরাম ইনস্টিটিউট এবং ভারত বায়োটেক দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ভারতে তৈরি দুটি ভ্যাকসিন নিয়ে আসে। এর একটির নাম হলো কোভিশিল্ড এবং অপরটি ভারত বায়োটেকের তৈরি কোভ্যাক্সিন। প্রথমে পরীক্ষামুলকভাবে এর প্রয়োগ শুরু হয় এবং ট্রায়ালের পর্যায় সফলভাবে শেষ হবার পর ধাপে ধাপে ব্যাপকহারে জনমানসে টিকাকরণ শুরু হয়ে যায়।

বিশ্বব্যাপী করোনার প্রভাব:

প্রত্যক্ষ প্রভাব:

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসের প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ প্রভাব অত্যন্ত সুদূরপ্রসারি। প্রত্যক্ষ প্রভাব রূপে আমরা প্রতিদিন দেখতে পাচ্ছি আমাদের চোখের সামনে প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষ কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হচ্ছেন। ঘন জনবসতি অঞ্চলে আক্রান্তের হার সবচেয়ে বেশি। এই আক্রান্ত মানুষদের মধ্যে হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন তাদের প্রাণ বিসর্জন দিচ্ছেন। অন্যদিকে অনুন্নত এবং উন্নয়নশীল দেশগুলিতে চিকিৎসা তথা পরিকাঠামোগত দুরাবস্থা ক্রমশ আরও প্রকট হচ্ছে। এমনকি উন্নত দেশগুলিও বিপুল সংখ্যক রোগীদের পরিষেবা দানের ক্ষেত্রে যথেষ্ট ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে খবর আসছে মানুষ মারা যাচ্ছেন বিনা চিকিৎসায়।

পরোক্ষ প্রভাব:

এদিকে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্ত লকডাউন এর ফলস্বরূপ ছোট মাঝারি বিভিন্ন ধরনের শিল্প অস্তিত্বসংকটের মুখে পড়েছে। বৃহৎ শিল্প গুলিও মূলধনের অভাবে ধুঁকতে শুরু করেছে। এগুলির সাথে যুক্ত অসংখ্য মানুষের জীবিকাও পড়েছে প্রশ্নের মুখে। পৃথিবীজুড়ে বেকারত্ব অস্বাভাবিক রকমের বেড়ে যাচ্ছে। বিশ্ব অর্থনীতি পড়েছে সংকটের মুখে। স্বাভাবিকভাবেই সমাজের বুকে থাবা বসাচ্ছে দারিদ্র, অনাহার, খাদ্যাভাব। সমাজের বৈষম্যমূলক চিত্রটা দিন দিন আরো বেশি প্রকট হচ্ছে। এরই পাশাপাশি অস্বাভাবিক ভাবে বেড়ে গিয়েছে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সামগ্রীর কালোবাজারী। মাস্ক বা স্যানিটাইজারের মত প্রতিরোধমূলক উপকরণগুলো ছাড়াও অতি প্রয়োজনীয় টেস্টিং কিটের ক্ষেত্রেও শুরু হয়েছে দুর্নীতি।

অনির্দিষ্টকালব্যাপী লকডাউন এর কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় দৈনন্দিন সামগ্রী না পাওয়ার আশঙ্কায় মানুষের মধ্যে বাড়িতে পণ্য মজুত করে রাখার প্রবণতা অত্যন্ত বেড়ে গিয়েছে। সরাসরি যার সুযোগ নিয়েছে কালোবাজারি মজুতদারেরা। ফলতই নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম অস্বাভাবিক ভাবে বেড়ে যাওয়ার ঘটনাও চোখে পড়ছে।

পরিসংখ্যান ও টীকা: ইতিমধ্যে (৩০/১০/২০২০) ভারতে প্রায় একাশি লক্ষ ও পশ্চিমবঙ্গে ৩.৭০ লক্ষ আক্রান্ত হয়েছে এই রােগে এবং ভারতে প্রায় এক লক্ষ বাইশ হাজার মানুষের ও পশ্চিমবঙ্গে প্রায় সাত হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্তের নিরিখে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (৯৪ লক্ষ)র পরেই ভারত (৮১ লক্ষ)। তবে মৃত্যুর হারে ভারত তৃতীয় (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ২.৩৬ লক্ষ, ব্রাজিল ১.৫৯ লক্ষ ও ভারত ১.২২ লক্ষ)। বসন্ত রােগ যেমন টীকা প্রয়ােগ করে প্রতিরােধ করা সম্ভব হয়েছে তেমনি করােনা ভাইরাসও টীকা (vaccine) প্রয়ােগ করে প্রতিরােধ করা সম্ভব। ইতিমধ্যে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়, রাশিয়া ভ্যাকসিন-এর বিষয়ে অগ্রণী ভূমিকা গ্রহণ করেছে, ভারতের বিজ্ঞানীরাও পিছিয়ে নেই। আশা করব শীঘ্র টীকা মানবশরীরে প্রয়ােগ করে তার সুফল পাওয়া যাবে।

উপসংহার: কথায় বলে, সভ্যতা যখন নিজের গতিকে অপ্রতিরোধ্য বলে মনে করে, সৃষ্টি তখন সমগ্র সভ্যতাকে ক্ষণিকের জন্য স্তব্ধ করে দেয়। একটি ক্ষুদ্র আণুবীক্ষণিক ভাইরাস যেন আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে এই প্রবাদবাক্যের সত্যতাই প্রমাণ করে দিল। আবারো আমরা দেখতে পেলাম সৃষ্টির কাছে আমরা ঠিক কতখানি অসহায়। তবে মানুষের এই অসহায়তায় প্রকৃতি বিশ্বজুড়ে দূষণকে কমিয়ে বায়ুকে আবারো বিশুদ্ধ করে তুলেছে ধীরে ধীরে। লকডাউনে শুনশান হাইওয়েতে বন্য নীলগাইয়ের চরে বেড়ানো এই দুর্যোগের পরিস্থিতিতেও আমাদের মুগ্ধ করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে করোনাভাইরাস পরবর্তী পৃথিবী আর আগের মতন থাকবে না। রাজনৈতিক তথা আর্থসামাজিক দিক থেকে এই বিশ্বে হয়তো আমূল পরিবর্তন ঘটে যাবে। মানুষের জীবন যাপনের ক্ষেত্রেও হয়তো আসবে জন্য স্থায়ী পরিবর্তন। তবে একথা সত্যি যে এই দুর্যোগের মেঘ কাটিয়ে উঠে আমরা খুব তাড়াতাড়ি আবার সুস্থ পৃথিবীতে শ্বাস নিতে পারব। নতুন নিয়মের সেই পৃথিবীতে আমাদের সবসময় মনে রাখতে হবে সৃষ্টির সাথে তাল মিলিয়ে সভ্যতার যাপনেই জীবনের প্রকৃত সার্থকতা।

পশ্চিমবঙ্গে করােনা পরিস্থিতি ভৌগােলিক অবস্থান অনুযায়ী অন্য রাজ্য অপেক্ষা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। স্বাস্থ্য পরিকাঠামাে তৈরি করে, উপযুক্ত পরিচালন ব্যবস্থার মাধ্যমে, টেস্টের সংখ্যা বাড়িয়ে, সুদূরপ্রসারী প্রচার করে, লকডাউন এর সুফল গ্রহণ করে ও সর্বোপরি স্বাস্থ্যকর্মী ও পুলিশকর্মীদের সেবামূলক মানসিকতায় পশ্চিমবঙ্গ তথা ভারতবর্ষ এই ভাইরাসকে প্রতিহত করতে যে অনেকটা সক্ষম হয়েছে, তাতে সন্দেহের অবকাশ থাকে না।

করোনা ভাইরাস নিয়ে প্রতিবেদন রচনা: করোনার ভাইরাস লাগামছাড়া, প্রাণের বলি 65500

বিশেষ সংবাদদাতা

কলকাতা, ২০ ডিসেম্বর, ২০২১: রাজ্য জুড়ে করোনার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। ভারত এখন মহামারী রোগে সংক্রামিত হয়েছে কোভিড -১৯। এর প্রাদুর্ভাবটি চিনের উহান, চিনে ডিসেম্বর, ২০১৮ সালে প্রথম সনাক্ত করা হয়েছিল। ভারতে চীন, উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া, ইউরোপ ও ইতালি এ পর্যন্ত প্রধান প্রভাবিত অঞ্চল, ভারতে ১ লাখ + জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, ভাইরাসের শ্বাসকষ্টের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে যে আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি বা হাঁচি তা আমাদের টি-জোন হয়ে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। সাধারণ লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে জ্বর, কাশি এবং শ্বাসকষ্ট। হাত ধোয়া, কাশি হওয়ার সময় মুখ কে ঢেকে রাখা, অন্যের থেকে দূরত্ব বজায় রাখা, এগুলি হল প্রাথমিক পদক্ষেপ করোনা ভাইরাসের হাত থেকে নিজেকে রক্ষার জন্য । বর্তমানে কোভাক্সিন, কোভিশিল্ড ইত্যাদি রোগের কয়েকটি ভ্যাকসিন রয়েছে। প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার জন্য স্ব-বিচ্ছিন্নতা বাঞ্ছনীয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় 24 * 7 হেল্পলাইন এবং নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। সরকার ঘোষণা করেছে যে শীঘ্রই ফ্রি মাস্ক এবং স্যানিটাইজার সরবরাহ করা হবে। সমালোচনামূলক প্রকোপের জন্য পৃথক তহবিল অনুমোদিত হয়েছে। সারা দেশে নতুন পরীক্ষা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, হাসপাতালে বিচ্ছিন্নতা শব্দ স্থাপন করা হয়েছে।

Coronavirus Paragraph writing in English CORONAVIRUS PARAGRAPH IN ENGLISH
[#01] “coronavirus paragraph writing in english” – Here it is (150 Words)

Corona is the name of a virus that can make people and animals sick. This condition can range from a simple cold to severe respiratory issues. Covid-19 is the name given to it. It’s an illness that spreads quickly. It has a high rate of spread. In the year 2020, it infected and killed a vast number of individuals all across the planet. That’s why it’s referred to as a pandemic.

Because there was no vaccination to combat the sickness, social isolation was the only way to keep it at bay. To prevent it from spreading, almost every country in the globe has declared a state of emergency. Wear a face mask and use hand sanitizers, according to doctors. Let’s hope this illness goes away quickly and life returns to normal.

CORONAVIRUS PARAGRAPH WRITING IN ENGLISH

[#02] “coronavirus paragraph writing in english” – Here it is (312 Words)

Corona virus, also known as Covid-19, is a contagious virus. The World Health Organization has now designated the disease a global epidemic. 2019-NCOV, or Novel Corona Virus, is another name for the virus. The first coronavirus patient was discovered in Wuhan, China, on November 17, 2019. The total number of casualties is estimated to be around one crore, with approximately five lakh deaths. Various media sites, however, claim that the true number is higher. The main symptoms of affected patients include fever, cough, and respiratory difficulties. It wreaks havoc on the lungs. Symptoms usually appear after five days on average. According to the World Health Organization, the virus has a 14-day incubation period. The virus’s source, according to the World Health Organization, is an animal. According to the experts, the virus is related to a Chinese bat known as Horseshoe. A viral infection causes fever, which is followed by a dry cough. Shortness of breath started around a week afterwards.

Many people must be admitted to the hospital for treatment. The disease’s death rate has been estimated to be between 1% and 2% thus far. People who are older and have any form of sickness, such as asthma, diabetes, heart disease, high blood pressure, and so on, are more prone to become critically ill. Experts suggest that vaccines against the virus are currently in the development stage. However, it will take a few more months to see if it works at all. To date, the only way to avoid this is to keep the virus from spreading. This entails limiting people’s freedom of mobility. Everyone should be reminded to wash their hands. After the health personnel’ protective garb has been removed, provide medical care to the patients individually. Detectives are also conducting surveillance to see if patients are infected with the virus and to identify anyone who come into touch with them.

Keyword: প্রবন্ধ রচনা করোনা ভাইরাস, করোনা ভাইরাস অনুচ্ছেদ রচনা বাংলা, বাংলা অনুচ্ছেদ করোনা ভাইরাস‌, করোনা ভাইরাস অনুচ্ছেদ রচনা, করোনা ভাইরাস অনুচ্ছেদ রচনা বাংলা,করোনা ভাইরাস রচনা pdf,করোনা ভাইরাস রচনা লিখন,করোনা ভাইরাস অনুচ্ছেদ বাংলা,করোনা ভাইরাস অনুচ্ছেদ,করোনা ভাইরাস অনুচ্ছেদ রচনা,করোনা ভাইরাস নিয়ে অনুচ্ছেদ রচনা,করোনা ভাইরাস সম্পর্কে অনুচ্ছেদ রচনা,করোনা ভাইরাসের অনুচ্ছেদ রচনা,করোনা ভাইরাস সম্পর্কে অনুচ্ছেদ রচনা বাংলা,করোনা ভাইরাস নিয়ে অনুচ্ছেদ রচনা বাংলা,করোনা ভাইরাস রচনা অনুচ্ছেদ বাংলা,করোনা ভাইরাস অনুচ্ছেদ রচনা pdf,করোনা ভাইরাস অনুচ্ছেদ রচনা লিখন,করোনা ভাইরাস বাংলা অনুচ্ছেদ,অনুচ্ছেদ রচনা করোনা ভাইরাস বাংলা,অনুচ্ছেদ,অনুচ্ছেদ রচনা করোনা ভাইরাস, করোনা টিকা নিবন্ধন ফরম, করোনা ভাইরাস সম্পর্কে তথ্য

Check Also

বিসিএস পরীক্ষা দেওয়ার যোগ্যতা কি কি? (শিক্ষাগত, বয়স,স্বাস্থ্য, নাগরিকত্ব)

এমন অনেক মানুষ আছেন, যারা বিসিএস পাশ করেও ক্যাডার হতে পারেননি। কি, অবাক লাগছে? অবাক …