ভাইয়ের লাশের টুকরো ফ্রিজে রাখছে, মা যেন লাশটা দেখতে পায়

বুধবার বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় গণমাধ্যমের খবরে ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দরে আটকে পড়া বাংলাদেশি জাহাজে নাবিক হাদিসুর রহমানের মৃত্যুর খবর জানতে পারে তার পরিবার। বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে নয়টার দিকে ‘বাংলার সমৃদ্ধি’তে রকেট হামলা হলে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান হাদিসুর রহমান আরিফ।

শুরুতে গণমাধ্যমের বরাতে হাদিসুর রহমানের মৃত্যুর খবর জানতে পারলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই জাহাজে থাকা তার সহকর্মীরাও ফোন করে জানান পরিবারকে জানান মর্মান্তিক সে খবর। তারা (জাহাজের নাবিকেরা) বলছে, আমার ভাইয়ের লাশ জাহাজের ফ্রিজে রাখছে। আমার মা জানি লাশটা একবার দেখতে পায়, এইটাই শুধু আমরা

চাই এখন,” কান্নাজড়িত বলছিলেন হাদিসুর রহমানের ছোট ভাই তরিকুল ইসলাম তারেক। বাংলার সমৃদ্ধি জাহাজের থার্ড ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন তিনি। এই মূহুর্তে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তিনি। তরিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, জমি বন্ধক রেখে বড় ছেলেকে পড়াশোনা করিয়েছিলেন তার বাবা। সাত বছরে বন্ধকী জমির অনেকটাই ছাড়িয়েছিলেন তার ভাই, কিন্তু শেষ করতে পারেননি সে কাজ।

“ভাইয়া আব্বা-আম্মাকে বলত, অনেক কষ্ট করছো তোমরা, এখন খালি সুখ করবা। কিন্তু সেই সুখ হইল না, তারও হইল না, আমার বাপ-মায়েরও হইল না,” বলছিলেন তরিকুল ইসলাম। অবসরপ্রাপ্ত মাদ্রাসা শিক্ষক বাবা আব্দুর রাজ্জাক আর অসুস্থ মা আমেনা বেগমের চার সন্তানের মধ্যে দ্বিতীয় ছিলেন হাদিসুর রহমান। এক বোনের পরে তিনজন ভাই, ভাইদের মধ্যে বড় ছিলেন মি. রহমান। জাহাজটিতে এখনো নাবিক এবং ইঞ্জিনিয়ারসহ ২৮জন অবস্থান করছেন।

গত ২৬শে জানুয়ারি এটি ভারতের মুম্বাই বন্দর থেকে যাত্রা করে এবং তুরস্কের ইরেগলি হয়ে ২২শে ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দরের বহির্নোঙ্গরে পৌঁছায় বাংলার সমৃদ্ধি। জাহাজটি বন্দরে পৌঁছানোর পরদিন ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা শুরু হয়। দত্ত জানিয়েছেন জাহাজটিতে এক মাসের খাদ্য মজুত রয়েছে। দুইদিন আগে আটকে পড়া জাহাজের একজন নাবিক সাক্ষাৎকারে দেশে ফিরে আসার জন্য তাদের তীব্র আকুতির কথা জানিয়েছিলেন। বাংলার সমৃদ্ধি জাহাজটির মালিক বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন। সূত্র: বিবিসি বাংলা।

About admin

Check Also

ঢাকা কলেজের সামনে পড়ে ছিল রক্তাক্ত মরদেহ

ঢাকা কলেজের সামনে পড়ে ছিল রক্তাক্ত মরদেহ

ঢাকা কলেজের সামনে থেকে একজনের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।আজ মঙ্গলবার বিকেলে এই ঘটনা ঘটে। …