টুকরো টুকরো করে দুই বস্তায় ভরা ছিল নায়িকা শিমুর লাশ

ঘড়ির কাঁটায় তখন সকাল ১০টা। কেরানীগঞ্জ আলীপুর ব্রিজের পাশে দুটি বস্তা পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় লোকজন। এতে সন্দেহ হলে পুলিশে খবর দেন তারা। এরপর পুলিশ এসে বস্তার ভেতরে টুকরো টুকরো লাশ দেখতে পায়। আর এ লাশটি চিত্রনায়িকা রাইমা ইসলাম শিমুর। সোমবার সকালে শিমুর

বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার হলেও এখনো শনাক্ত হননি খুনি। তবে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে শিমুর স্বামী নোবেলসহ দুজনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। এরই মধ্যে তাদের নিয়ে অভিযানে নেমেছে র‌্যাব ও পুলিশ। কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সালাম মিয়া জানান,

লাশটি টুকরো করে ওই দুই বস্তায় ভরে রাস্তার পাশে ফেলে রাখা হয়েছিল। কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরে বস্তার ভেতর থেকে লাশের টুকরো অংশগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মিটফোর্ড হাসপাতালে পাঠানো হয়। সোমবার রাতে হাসপাতাল মর্গে গিয়ে লাশ শনাক্ত করেন শিমুর বড় ভাই শহিদুল ইসলাম খোকন।

ওসি আরো জানান, অন্য কোথাও তাকে হত্যার পর লাশ টুকরো করে বস্তায় ভরে গাড়িতে করে হত্যাকারীরা ওখানে ফেলে রেখে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে, লাশ শনাক্তের পরই শিমুর স্বামী নোবেলকে প্রধান আসামি করে মামলা করেন ভাই শহিদুল ইসলাম খোকন।

ওই মামলায় নোবেলের বন্ধু ফরহারকেও আসামি করা হয়েছে। সোমবার রাতেই তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ সময় একটি গাড়িও উদ্ধার করা হয়। শিমুর ভাই শহিদুল ইসলাম খোকন বলেন, সবশেষ দুদিন আগে শিমুর সঙ্গে কথা হয়েছিল। তার কোনো শত্রু নেই। তবে এফডিসিতে ১০ দিন আগে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া নিয়ে চিত্রনায়ক জায়েদ খানের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়েছিল।

অভিনেত্রী শিমুর বোন ফাতেমা জানান, স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে রাজধানীর গ্রিনরোড এলাকার বাসায় থাকতেন শিমু। রোববার সকাল ১০টায় বাসা থেকে বের হন শিমু। সন্ধ্যা ৭টায় এক বন্ধু শিমুকে ফোনে পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানান। পরে রাত ১১টায় কলাবাগান থানায় জিডি করা হয়।

About admin

Check Also

সম্পর্কের পর বাতি জ্বালাতেই দেখেন অন্য কেউ!