মেয়েদের জন্য চাকরি – মেয়েদের জন্য কোন চাকরি ভালো

মেয়েদের জন্য চাকরি – মেয়েদের জন্য কোন চাকরি ভালো বর্তমানে নারী পুরুষের সমান অধিকার হলেও, সকল ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ একত্রিত হয়ে কাজ করলেও তবুও একটা প্রশ্ন হরহামেশাই মানুষ করে থাকে, সেটা হচ্ছে— মেয়েদের জন্য কোন চাকরি ভালো? এমনকি আমি এই মুহূর্তে গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারব আপনি নিজেও কখনো না কখনো এই প্রশ্ন নিয়ে ভেবেছেন। কেননা নারীরা সকল ক্ষেত্রে কাজ করার স্বাধীনতা পেলেও এখনো কিছু কিছু দায়বদ্ধতা রয়েছেই।

হ্যাঁ, এটা ঠিক একটা সময় ছিল যখন সংসার সামলানোর ঝামেলায় বহু মেয়েদের চাকরি করার স্বপ্ন শুধুমাত্র স্বপ্নই থেকে যেত। কিন্তু সময় এবং যুগ দুটোই পাল্টেছে, তাই এখন নারীরা বিভিন্ন কর্ম ক্ষেত্রে অংশগ্রহণ করছে এবং নিজেদের ভিত্তি তৈরি করছে। তবে সামাজিক অবনতির কারণে নারীদেরকে কর্ম ক্ষেত্রে নানাভাবে হেনস্থার শিকার হতে হয়। আর তাই সবদিক বিবেচনা করে আমরা মেয়েদের জন্য সবচেয়ে ভালো চাকরিটির বিষয়বস্তু নিয়ে আজকে আলোচনা করব।

পাশাপাশি জানাবো– মেয়েরা সাধারণত কোন কোন চাকরি চাইলেই করতে পারে এবং কোন ধরনের চাকরি গুলো থেকে দূরে থাকা প্রয়োজন। তাহলে আসুন আমাদের মূল আলোচনা পর্ব শুরু করি এবং জেনে নেই— মেয়েদের জন্য চাকরি সম্পর্কে।

মেয়েদের জন্য চাকরি

হাতেগোনা বেশ কয়েকটি চাকরি রয়েছে যে চাকরিগুলো মেয়েদের জন্য উপযুক্ত। তাই এ পর্যায়ে আমরা মেয়েদের জন্য চাকরির তালিকা তৈরি করব। একটি মেয়ে সাধারণত ক্রয় এবং বিক্রয় পরিচালকদের বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত হতে পারেন,  আবার স্নাতক ডিগ্রী ছাড়াই সৃজনশীল পেশায়ও নিযুক্ত হতে পারেন, কেউ কেউ অনলাইনেও ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে পারেন আবার ফ্যাশন ডিজাইনার বা নিজের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার উপর ভিত্তি করেও বেশ কয়েকটি কাজে নিযুক্ত হতে পারেন।  এ পর্যায়ে আমরা আলাদা আলাদা ভাবে সেই বিষয় এবং চাকরি সমূহ একটি চার্টের মাধ্যমে প্রকাশ করবো।

তাহলে আসুন জেনে নেই মেয়েদের জন্য কোন চাকরি ভালো এবং চাকরির ছোট্ট একটি তালিকা:-

চাকরির ধরণ চাকরির নাম
স্নাতক ডিগ্রী ছাড়াই সৃজনশীল পেশা–শিল্পী, অভিনেত্রী, পেইন্টিং, গায়ক, প্রফেশনাল রাধুনী প্রভৃতি।
মেয়েদের জন্য অনলাইন চাকরি–ফ্রিল্যান্সার, ইউটিউবার, ব্লগার, ভিডিও ক্রিয়েটর, ডিজিটাল ক্রিয়েটর প্রভৃতি।
মেয়েদের জন্য বিক্রয় ধর্মী চাকরী–বিউটিশিয়ান, ওয়েটার, ফ্যাশন ডিজাইনার, মালি বা কারুকার্য
প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার উপর ভিত্তি করে চাকরি–ডাক্তার, নার্স, শিক্ষকতা, ফিটনেস প্রশিক্ষক, মনোবিজ্ঞানী, হিসাব রক্ষক, বিসিএস ক্যাডার, সাংবাদিক, গ্রন্থাগারিক, কাস্টমার সার্ভিসার, সম্পাদক, বিজ্ঞাপন ব্যবস্থাপক, মানব সম্পদ ব্যবস্থাপক, বিপণন বিশেষজ্ঞ, আইনজীবী।

মেয়েদের জন্য কোন চাকরি ভালো

সবদিক বিবেচনা করে মানুষ স্বাভাবিকভাবে মেয়েদের জন্য শিক্ষকতা পেশাকে সবার প্রথমে রাখে। তাছাড়াও নারীরা স্বভাবতই সহানুভূতিশীল, বুঝদার এবং ধৈর্যশীল হওয়ার কারণে শিক্ষকতা পেশায় এরা বেশি সফল হতে পারেন। এর বাইরেও মেয়েদের জন্য চাকরি রয়েছে যেগুলো আমরা ইতিমধ্যে আপনাদেরকে জানিয়েছি।

এমনকি উল্লেখিত চাকরীগুলো ছাড়াও এমন অসংখ্য চাকরি রয়েছে যেগুলো চাইলেই একটা মেয়ে করতে পারে। আবার কিছু কিছু চাকরি আছে যেগুলো শুধুমাত্র মেয়েরাই করতে পারে আবার কিছু কিছু চাকরি রয়েছে যেগুলো শুধুমাত্র ছেলেদের করা পসিবল হয়। 

কিন্তু আপনি যদি কাউকে মেয়েদের চাকরি করার ব্যাপারে এই প্রশ্নটি জিজ্ঞাসা করেন যে, মেয়েদের জন্য কোন কোন চাকরি ভালো বা মেয়েদের জন্য কোন চাকরিটি সবচেয়ে বেশি ভালো! তাহলে সবার প্রথমে একটি উত্তর অধিক বেশি জানতে পারবেন আপনি সেটা হলো শিক্ষকতা। এই পেশার জন্য যেমন নারীরা উপযুক্ত ঠিক একইভাবে এই চাকরির পরিবেশ নারীদের কর্মক্ষেত্রের জন্য সবচেয়ে বেশি সহায়ক এবং নিরাপত্তা জনক।

স্পষ্ট ভাবে বললে বলা যায়, অন্যান্য অফিস বা প্রতিষ্ঠানে নারীরা যদি কর্মরত থাকেন তাহলে নানা প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয়। কখনো কখনো বাজে অভিজ্ঞতাও হয়ে থাকে নারীদের। কিন্তু শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত থাকলে মেয়ে হিসেবে সেসকল প্রতিবন্ধকতার শিকার হতে হয় না। আর পজিটিভ দিক চিন্তা করে যদি ভালো চাকরি হিসেবে সাজেস্ট করি তাহলেও শিক্ষকতাকেই করা সম্ভব।

কেননা মেয়েদের মন নরম এবং তারা ধৈর্যশীল ও শান্ত হওয়ার কারণে এই চাকরির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষার আলো এবং সুশিক্ষা জাগ্রত করেন। যেটা জাতি এবং দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই বলবো আপনি যদি দেশের হয়ে দশের হয়ে কিছু করতে চান বা স্বাধীনভাবে জীবিকা নির্বাহ করতে চান পাশাপাশি অন্যান্য চাকরিতে যে সমস্যাগুলোর সম্মুখীন হতে হয় সেগুলো থেকে নিজেকে দূরে রাখতে চান তাহলে শিক্ষকতাকে আপনার পেশা হিসেবে নির্বাচন করা উচিত। 

আর তাছাড়াও আপনি চাইলে ই আপনার যোগ্যতার উপর ভিত্তি করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকতা করতে পারবেন আবার উচ্চ বিদ্যালয়েও শিক্ষকতা করতে পারবেন। আর এটা সকলেই জানেন এখন মেয়েরাও কোন অংশে পিছিয়ে নেই তারাও বিসিএস ক্যাডার হচ্ছেন। তাই আপনি শিক্ষকতার উপরেই বিসিএস পরীক্ষাও দিতে পারবেন। এ পাশাপাশি মেয়েরা এখন প্রফেসর সহকারি অধ্যাপকের চাকরিও করতে পারবেন।

বাংলাদেশে কিন্তু সরকারি বেসরকারি অসংখ্য স্কুল কলেজ রয়েছে। তাই সরকারি স্কুল-কলেজ না হলেও আপনি বেসরকারি স্কুল অথবা কলেজে শিক্ষকতা পেশাটি তে কর্মরত হতে পারবেন।  আর হ্যাঁ, আরেকটি মজার বিষয় হচ্ছে– আজকাল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির উন্নয়নের কারণে নারীরা অনলাইনেও শিক্ষকতা করছেন। যা একটি স্মার্ট চাকরির অন্তর্ভুক্ত। 

মূলত দৃষ্টিকোণ থেকে একটি মেয়ের জন্য সবচেয়ে ভালো নিরাপত্তা জনক চাকরি হচ্ছে শিক্ষকতা। তাই আপনি যদি মেয়েদের জন্য চাকরি খোঁজাখুঁজি করেন এবং কোনটা সবচেয়ে ভালো তার তুলনা করার চেষ্টা করেন তাহলে প্রথম চয়েজে অবশ্যই নিঃসন্দেহে শিক্ষকতা কে রাখতে পারেন। 

মেয়েদের জন্য সরকারি চাকরি

বাংলাদেশের সবচেয়ে সেরা এবং সর্বাধিক বেতনের বেশকিছু সরকারি চাকরি রয়েছে। যেগুলো মেয়েরা চাইলেই করতে পারেন। এ পর্যায়ে মূলত আমরা মেয়েদের জন্য বাছাইকৃত সেরা কয়েকটি সরকারি চাকরির নাম উল্লেখ করব। যথা:

  1. বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস জব
  2. প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের চাকরি
  3. সরকারি ব্যাংক চাকরি
  4. চিকিৎসক
  5. বিজ্ঞানী
  6. শিক্ষক
  7. ইঞ্জিনিয়ার
  8. আইটি প্রোজেক্ট ম্যানেজার
  9. আইনজীবী
  10. আর্থিক বিশ্লেষক
  11. বুক কিপার
  12. রেলওয়ে
  13. বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এবং 
  14. এনএসআই

তাই একজন মেয়ে হিসেবে আপনি চাইলে বাংলাদেশে অবস্থান করে এই অধিক বেতনের চাকরিগুলো করতে পারেন। তবে আমাদের মতে আপনার জন্য সবচেয়ে ভালো চাকরি হবে শিক্ষকতা ও চিকিৎসক।

মেয়েদের জন্য বেসরকারি চাকরি

সরকারি চাকরির পাশাপাশি মেয়েদের জন্য অসংখ্য বেসরকারি চাকরিও রয়েছে। তাই একজন মেয়ে হিসেবে আপনি চাইলেই বেসরকারি সেই চাকরিগুলো বেছে নিতে পারেন ক্যারিয়ার হিসেবে। যেমন:

  1. সুপারভাইজার
  2. অপারেশন এক্সিকিউটিভ
  3. সিকিউরিটি অফিসার
  4. হিসাব রক্ষক
  5. কম্পিউটার অপারেটর
  6. অফিস এসিস্ট্যান্ট
  7. সিকিউরিটি সুপারভাইজার
  8. অফিস ম্যানেজার
  9. ডাটা এন্ট্রি অপারেটর
  10. সিভিল ইঞ্জিনিয়ার
  11. সাপ্লাই চেইন এক্সিকিউটিভ
  12. প্রোডাক্ট ইঞ্জিনিয়ার
  13. ডেপুটি ম্যানেজার (ফিন্যান্স এন্ড অ্যাকাউন্ট) সহ প্রভৃতি।

যেগুলোর বেশিরভাগ চাকরির ক্ষেত্রে মেয়েদের এসএসসি এবং এসএসসি পাশ হলেই যথেষ্ট। তবে কিছু কিছু পদের জন্য স্নাতক ডিগ্রি নির্ধারিত। তাই আপনি যদি একজন মেয়ে হয়ে থাকেন এবং জীবনের লক্ষ্য থাকে চাকরি করে নিজের জীবিকা নির্বাহ করার তাহলে আপনি চাইলেই এই বেসরকারি চাকরিগুলোও করতে পারেন। 

মূলত এই চাকরি গুলোর বেতন সর্বনিম্ন ৮ হাজার থেকে শুরু করে ২০ থেকে ৩০ হাজার পর্যন্ত হয়ে থাকে। তাহলে আর দেরি কেন যে কোন একটি চাকরি আপনার জন্য বাছাই করুন এবং প্রস্তুতি নিন। চাকরি সম্পর্কিত আরো পোস্ট পড়তে ভিজিট করুন—https://sottotv.com/.

মেয়েদের জন্য অনলাইন জব

অনলাইনে ইনকামের জন্য রয়েছে প্রচুর রাস্তা। যারা সরকারি বেসরকারি চাকরিতে জয়েন করতে ইচ্ছুক নয়, তারা চাইলেই ঘরে বসে অনলাইনে বিভিন্ন কাজ করতে পারেন। তাছাড়াও অনলাইনে রয়েছে রিমোট জবের সুযোগ।বর্তমানে মেয়েদের জন্য এই অনলাইন চাকরি নিরাপত্তা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে এ সম্পর্কে সকলের পূর্ণাঙ্গ ধারণা না থাকার কারণে অনেকেই অনলাইন চাকরি কে অন্য চোখে দেখেন। যেটা একেবারেই ভুল।

তবে সেটা যাই হয়ে থাকুক না কেন আমরা মূলত মেয়েদের জন্য ঘরে বসে টাকা ইনকামের এমন কয়েকটি চাকরির কথা জানাবো এ পর্যায়ে।  সত্যি বলতে আপনার কাছে যদি একটি ল্যাপটপ একটি স্মার্টফোন এবং ইন্টারনেট সংযোগ থাকে তাহলে আপনার কোন কিছুরই আর প্রয়োজন নেই। ঘরে বসে নিজের স্বাধীনতা অনুযায়ী আপনি অনলাইনে চাকরি করতে পারবেন। মেয়েদের জন্য মূলত জনপ্রিয় কয়েকটি অনলাইন চাকরি হচ্ছে:

  1. ব্লগিং
  2. গুগল এডসেন্স
  3. অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং
  4. আর্টিকেল রাইটিং
  5. ইউটিউবিং
  6. ভয়েস আর্টিস্ট
  7. ডাটা এন্ট্রি
  8. ডিজিটাল মার্কেটিং 
  9. Facebook মার্কেটিং
  10. গ্রাফিক্স ডিজাইন
  11. ওয়েব ডিজাইন
  12. অনলাইন টাইপিং জব
  13. ই-বুক ব্যবসা
  14. ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট
  15. অনলাইন শিক্ষক
  16. ট্রানসলেশন জব
  17. ফ্রিল্যান্স রাইটিং সহ ইত্যাদি

মেয়েদের জন্য ঘরোয়া চাকরি

একজন মেয়ে চাইলেই ঘরোয়া পরিবেশেও বেশকিছু কাজ করে স্বাবলম্বী হতে পারে। আর তাই মহিলাদের জন্য আমরা এ পর্যায়ে দশটি ব্যবসায়িক আইডিয়া সাজেস্ট করব। যেগুলো আপনি একজন নারী হয়েও করতে পারবেন এবং স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি মোটা টাকা ইনকাম করতে সক্ষম হবে। সেগুলো হচ্ছে:

  • ঘরে তৈরি খাবারের বিজনেস
  • ক্রাফ্টিং ব্যবসার আইডিয়া
  • অনলাইন বিজনেস
  • কুটির শিল্প
  • ফুলের বিজনেস
  • প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন

ঘরে তৈরি  খাবারের বিজনেস

যারা রান্না করতে ভালোবাসেন তাদের জন্য ইনকামের দারুন একটি মাধ্যম হতে পারে এটি। একটু লক্ষ্য করলে দেখতে পাবেন বর্তমান সময়ের তুমুল জনপ্রিয় একটি ব্যবসার আইডিয়া হচ্ছে ঘরে তৈরি খাবারের ব্যবসা। আপনি যদি সুস্বাদু খাবার রান্না করতে পারেন তাহলে এই ব্যবসা খুব অল্প সময়ের মধ্যে বিশাল আকার ধারণ করবে। কেননা এখন আর খাবার তৈরি করে আপনার নিজের পায়ে হেঁটে বাড়ি বাড়ি দিয়ে আসতে হবে না। ডিজিটাল এই টেকনোলজিক্যাল যুগে এখন খাবার ডেলিভারি দেওয়াটা অনেক সহজ হয়ে গিয়েছে। 

পাশাপাশি আপনি শুধু আপনার আশেপাশে মানুষদের মাঝে যে ডেলিভারি করবেন এমনটা নয়। আপনি চাইলে এখন বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ, ফেসবুক পেজ এর মাধ্যমে আপনার বিজনেসটাকে বড় আকৃতিতে পৌঁছাতে পারেন। তাছাড়াও সহজেই আপনি আপনার রান্না করার সুস্বাদু খাবার বিক্রি করতে পারেন বেশ কিছু ফুড ডেলিভারি অ্যাপ এর মাধ্যমে। 

যেমন ধরুন:–

  • ফুড পান্ডা
  • কুকআপস
  • ফুডটং
  • ফুড পিয়ন সহ প্রভৃতি।

অনলাইনের মাধ্যমে ইনকাম

ইতোমধ্যে আমরা অনলাইনের মাধ্যমে কোন কোন বিষয়বস্তুর উপর কাজ করে অর্থ উপার্জন করা যায় সেগুলো উল্লেখ করেছি। তবে এ পর্যায়ে আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সাজেস্ট করব। কেননা আপনি চাইলেই অনলাইন এর মাধ্যমে ঘরে বসে বাড়তি এই কাজগুলো করেও অর্থ উপার্জন করতে পারেন। 

সেগুলো হলো:—

  • অনলাইনে কোর্স বিক্রি
  • অনলাইন টিউশনি
  • অনলাইনে জামা কাপড় এর বিজনেস
  • ই-বুক ব্যবসা
  • ই-কমার্স এর ব্যবসা প্রভৃতি
ক্রাফ্টিং ব্যবসার আইডিয়া

যারা সুন্দর সুন্দর ঘর সাজানোর যাবতীয় জিনিসপত্র বানাতে পারেন এবং ক্রিয়েটিভ মাইন্ডের তারা মূলত ঘরে বসে এই ব্যবসাটি শুরু করতে পারবেন। যেটা ডিমান্ড সবসময় অধিক বেশি এবং সময়ের সাথে সাথে আরও বেশি বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর এজন্য আপনি যা যা করতে পারবেন–

  • কাগজ দিয়ে তৈরি বিভিন্ন শোপিস
  • মাটির তৈরি বিভিন্ন খেলনা
  • জামার মধ্যে রং দিয়ে ডিজাইন
  • সেলাইয়ের ইউনিট ডিজাইন
  • ফ্লোরাল জুয়েলারি
  • ছবি আঁকা ও তা বিক্রি করা
  • ফ্রেম তৈরি করা
  • ক্রাফ্টিং এর ভিডিও তৈরি করে ইউটিউবে বিজনেস করা
  • ক্রাফ্টিং এর বিজনেস করে ফেসবুক থেকে ইনকাম করা প্রভৃতি।
কুটির শিল্প

কুটির শিল্প হচ্ছে আমাদের বাঙালি জাতির ঐতিহ্য। আদি ও মধ্যযুগীয় বাংলার গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ছিল এটি। যার কদর সময়ের সাথে সাথে এখন না কমে বরং বৃদ্ধি পাচ্ছে। এখন মূলত মানুষ অনেকটাই প্রযুক্তি নির্ভর তাই কুটির শিল্পের সমাপ্তি ঘুরতে চলেছে। কেননা আগে মানুষ এই শিল্পটা যতটা চর্চা করতো এখন করে না কিন্তু এর ডিমান্ড এখনো রয়েছে।

তাই কেউ যদি গ্রাহকদের কথা চিন্তা করে এই শিল্পকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করে এবং এটাতে কিছু ক্রিয়েটিভিটি অ্যাড করে তাহলে অনেক ভালো কিছু সম্ভব। তাই যে কেউ চাইলে এখন এটাকেও পেশা হিসেবে গ্রহণ করতে পারে। আপনি যদি স্বাবলম্বী হতে চান বা উদ্যোক্তা হিসেবে নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে চান তাহলে অবশ্যই এ বিষয়টি আপনার জন্য অধিক বেশি কার্যকরী।

ফুলের বিজনেস

ফুল পছন্দ করে না এমন মানুষের সন্ধান নেই বললেই চলে। আর তাই আপনি যদি উদ্যোক্তা হতে চান এবং মেয়ে হিসেবে ঘরে বসে থেকে কোন কাজ করতে চান তাহলে, ফুলের ব্যবসা আপনার জন্য দারুন একটি মাধ্যম হবে স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য।  কেননা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ইভেন্টে ফুলের প্রয়োজন পড়ে আর তাই আপনি যদি আপনার বাড়ির আঙিনা বা অল্প কিছু জমিতে ফুলের চাষ করেন তবুও মোটামুটি ভালো ইনকাম করতে পারবেন। 

প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন

দেখুন আপনি যদি কোন কাজে দক্ষ হয়ে থাকেন তাহলে সেটা অন্যের মাঝে ছড়িয়ে দিতে আপনি চাইলেই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করতে পারেন এবং আপনার পারিশ্রমিকের জন্য একটি নির্ধারিত এমাউন্ট ধার্য করতে পারেন। যেমন ধরুন আপনি অনলাইন সম্পর্কে অনেক কিছু জানেন এবং অনলাইনে ইনকাম সম্পর্কিত বিষয় সম্পর্কেও আপনার বেশ ভালো ধারণা রয়েছে। অথবা আপনি সেলাইয়ের কাজ করতে পারেন। 

এই মুহূর্তে আপনি চাইলেই ঘরোয়া ভাবে একটা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করেও আপনার এলাকা সহ আশপাশের এলাকার মানুষদের আপনার জানা সেই বিষয়গুলো সম্পর্কে শিক্ষা দিতে পারবেন। আর আপনি যদি এমন কোন উদ্যোগ নেন তাহলে অবশ্যই মানুষ অংশগ্রহণ করবে এবং আপনার পাওনা টাকা দেবে। 

মূলত স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য ঘরে বসে কাজ করার মত মেয়েদের জন্য এগুলোই রয়েছে। তবে হ্যাঁ, আপনি মেয়ে অথবা ছেলে ক্যারিয়ার হিসেবে যে মাধ্যমিকেই বেছে নেন না কেন, আপনাকে হতে হবে পরিশ্রমই আপনার মাঝে থাকতে হবে ধৈর্য এবং জানতে হবে নতুন বিষয় অর্জন করতে হবে জ্ঞান। ব্যাস তাহলে আপনি যে কোন চাকরি করতে পারবেন।

মেয়েদের চাকরি করার সুবিধা অসুবিধা

মেয়েদের মত চাকরি করা না করার বেশ কিছু সুবিধা এবং অসুবিধা রয়েছে। তবে অনেকেরই প্রশ্ন মেয়েদের চাকরি করার সুবিধা কি এবং মেয়েদের চাকরি করার অসুবিধা গুলো কি কি? তাই ধারাবাহিকভাবে আমরা এ বিষয়ে সম্পর্কে অল্প বিস্তর আলোচনা করব। 

মেয়েদের চাকরি করার সুবিধা

মেয়েরা যদি চাকরি করে তাহলে যে সকল সুবিধা ভোগ করা সম্ভব হয় সেগুলো হচ্ছে–

  • নিজেরা স্বাবলম্বী হতে পারে
  • পরিবারকে সাহায্য সহযোগিতা করতে পারে
  • নিজের আলাদা একটা অস্তিত্ব তৈরি করতে পারে
  • নিজের ইচ্ছে অনুযায়ী কিছু কাজ করা সম্ভব হয়
  • সামাজিক মর্যাদা পাওয়া যায়

এর বাইরেও আবার অনেক সুবিধা রয়েছে। যেগুলো আপনি একটু ভালোভাবে লক্ষ্য করলেই দেখতে পাবেন বা বুঝতে পারবেন।

মেয়েদের চাকরি করার অসুবিধা

সামাজিক অবক্ষয়ের কারণে মূলত মেয়েদের চাকরি করার কিছু অসুবিধাও রয়েছে। কেননা আমাদের সমাজে এখনো পর্যন্ত এমন অনেক মানুষ রয়েছে যারা কুরুচিপূর্ণ এবং যাদের মধ্যে নৈতিকতার অভাব রয়েছে। আর তাই মেয়েদের চাকরি হলে যে সকল অসুবিধা হয়ে থাকে সেগুলো হলো—

  1. শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়
  2. মানুষের নেতিবাচক চিন্তাভাবনার কারণে কচু কথা শুনতে হয়
  3. চাকরিজীবী মেয়েরা আত্মবিশ্বাসী হওয়ার কারণে অনেকেই তাদেরকে অপছন্দ করে এবং 
  4. ধর্ষণের শিকার হতে হয় কখনো কখনো

আবার অনেকেই চাকরিজীবী মেয়েদেরকে নিয়ে একটি প্রশ্ন করে থাকেন সেটা হচ্ছে চাকরিজীবী মেয়ে বিয়ে করার অসুবিধা গুলো কি! আসলে এই প্রশ্নটা খুবই ইন্টারেস্টিং সেই সাথে অত্যন্ত বাজে। আপনি যদি বর্তমান প্রজন্মের চারিদিকে তাকান তাহলে এটা নিশ্চয়ই চোখে পড়বে মহিলারা সংসার নিয়ে খুব বেশি ব্যস্ত না থেকে অফিস নিয়ে ব্যস্ত। তাই অনেকেই এমনটা বলে থাকেন, মেয়েরা তাদের দায়িত্ব পালন করতে নারাজ। ছেলেদের সমানে সমানে চলবে বলে চাকরি করছে।

তবে আপনি যদি পজিটিভ মাইন্ডের হন তাহলে অবশ্যই এই প্রশ্নগুলো বা এই চিন্তাভাবনা গুলো আপনার মাথায় আসবে না। কেননা বর্তমানে আমাদের সমাজে যেমন নেতিবাচক চিন্তাভাবনার নারী রয়েছে ঠিক একই ভাবে পুরুষও রয়েছে। তাই চাকরিজীবী নারীরা অনেক বেশি আত্মনির্ভরশীল বা আত্মবিশ্বাসী হলে সেটা খারাপ নয়। অনেকেই রয়েছেন যারা বলেন নারীরা চাকরি করলে তাদের আর্থিক সাপোর্টের প্রয়োজন হয় না তাই অধিক বেশি উশৃংখল আচরণ করে বা নিজের যা ইচ্ছা তাই করে।

তবে ভালোভাবে লক্ষ্য করলে এটা সুস্পষ্টভাবে ফুটে উঠে যে– এটা মূলত সম্পূর্ণই ভুল ধারণা। কারণ যে সকল নারীরা ওইরকম মাইন্ডের হয় তারা মূলত চাকরি করুক অথবা না করুক সকল অবস্থাতেই অধিক বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়ে থাকে এবং তাদের মধ্যে উশৃঙ্খল ভাব প্রকাশ পায়। এটা মূলত নারী পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই।একটা বিষয় মাথায় রাখবেন আপনার স্ত্রী অথবা আপনার বাড়ির মেয়ে সে শুধুমাত্র আপনার স্ত্রী নয় বা সম্পর্কে মা অথবা বোন নয়, পাশাপাশি তারা হলেন আপনার সবচেয়ে কাছের বন্ধু যারা আপনার বিপদে আপদে সকল অবস্থায় পাশে থাকবে।

যেটা আর্থিক ক্রাইসিস হয়ে থাকুক বা অন্য কোন সমস্যা।  তবে নারী পুরুষের চাকরি নিয়ে আমাদের মাঝে যে বিতর্কমূলক আলোচনা বা কথাবার্তা হয়ে থাকে এটা মূলত নৈতিক অবক্ষয়ের কারণে ঘটে। তাই আমাদের সবার উচিত ইতিবাচক চিন্তা ভাবনা করা এবং মিলেমিশে একসঙ্গে এগিয়ে চলা পাশাপাশি নারীদেরকে সম্মানের চোখে দেখা এবং নারীদের উচিত সংযত হয়ে চলাফেরা করা।

About Sotto TV

Check Also

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট এর উপবৃত্তি পাওয়া যায় কিভাবে

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট এর উপবৃত্তি পাওয়া যায় কিভাবে

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট এর উপবৃত্তি পাওয়া যায় কিভাবে? শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট উপবৃত্তি পাওয়ার জন্য …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *