পদ্মা সেতুতে মোটরসাইকেল চলাচল নিষিদ্ধ

উদ্বোধনের একদিন পরই পদ্মা সেতুতে মোটরসাইকেল চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আগামীকাল সোমবার (২৭ জুন) সকাল ৬টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পদ্মা সেতুতে মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ থাকবে।

রবিবার (২৬ জুন) রাতে তথ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিবরণীতে এ তথ্য জানায় সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। বিবরণীতে বলা হয়, আগামীকাল ২৭ জুন ২০২২, সোমবার ভোর ৬টা থেকে পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত পদ্মা সেতুতে মোটরসাইকেল চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে সরকার।

এর আগে রোববার (২৬ জুন) সাধারণের জন্য খুলে দেওয়ার প্রথম দিনেই পদ্মা সেতুতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় অন্তত দুইজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভিডিওতে দেখা যায়, দুইজন গুরুতর আহত হয়ে সেতুর ওপর পড়ে আছে। তাদের পাশে রক্তের দাগ। এ বিষয়ে পদ্মা সেতু উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ‌দুর্ঘটনার তথ্যটি জেনেছি। তবে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।

পদ্মা সেতু পাড়ি দিতে বাসে ২০০, মোটরসাইকেল-মাইক্রোবাসে কত সাধারণ যানবাহনের জন্য রবিবার (২৬ জুন) থেকে উন্মুক্ত হয়েছে বহুল প্রতিক্ষীত স্বপ্নের পদ্মা সেতু। পদ্মা সেতু উন্মুক্ত হওয়ার প্রথম দিনেই উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে সেতু পাড়ি দিচ্ছে সাধারণ যাত্রীরা। এ দিন সকালে পদ্মা পাড়ি দিতে জাজিরা প্রান্তে বাসের জন্য অপেক্ষা করেন অনেক যাত্রী। দীর্ঘ অপেক্ষার পর বাস না পেয়ে অনেকে আবার পিকআপে করেই পদ্মা সেতু পার হন। অনেকে আবার মোটরসাইকেলে।

এদিন সরজমিনে দেখা যায়, সেতু চালু হওয়ার প্রথম দিনেই জনপ্রতি কমপক্ষে ২০০ টাকা বাস ভাড়া লাগছে। অথচ সেতুর মাওয়া প্রান্ত থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত ভাড়া হওয়ার কথা একশ টাকার মতো। কোনো কোনো বাসে ভাড়া আরও বেশি নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া জনপ্রতি ২০০ টাকা করে দিয়ে মোটরসাইকেল ও মাইক্রোবাসে করেও সেতু পাড়ি দিচ্ছেন অনেক মানুষ।

এসময় রেজওয়ান নামের এক যাত্রী জানান, দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করে বাস পেলাম। আমি আগে ৮০ টাকা দিয়ে লঞ্চে নদী পার হতাম। এখন সেতু পার হতে ২০০ টাকা ভাড়া নিচ্ছে বাসে। ব্রিজ হয়ে লাভ কী হলো?

এছাড়া আরও দেখা যায়, ভাড়া মোটরসাইকেলে দুইজন করে যাত্রী নিয়ে সেতু পার হচ্ছে। অনেকের মাথায় নেই হেলমেট। এতে বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। মোটরসাইকেলে যাত্রীপ্রতি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে দুই থেকে চারশ টাকা। এতে তাদের যাত্রীর কমতি নেই।

মোটরসাইকেলের মতো মাইক্রোবাসেও বাণিজ্যিক ভাবে যাত্রী পরিবহণ করা হচ্ছে। সেখানে দেখা যায়, ১১ আসনের একটি মাইক্রোবাসে নেওয়া হচ্ছে ১৫ থেকে ১৭ জন যাত্রী। জনপ্রতি ভাড়া দুইশ টাকা। ১৩শ টাকা টোল দিয়ে একেক ট্রিপে লাভ থাকছে প্রায় দুই হাজার টাকা।

স্বপ্নের পদ্মা দিয়ে আজ সকাল ৫টা ৪০ মিনিট থেকে পার হচ্ছে যানবাহন। সেতু চালু উপলক্ষে ভিড় করেছেন শত শত উৎসাহী মানুষ। তারা এসেছেন পদ্মা সেতু ঘুরে দেখতে। সবাই উন্মুখ হয়ে আছে সেতু পাড়ি দিতে। তাদের চাপ সামলাতে ইতোমধ্যে প্রায় ২৫টি বাস নামানো হয়েছে। ভাড়ার মোটরসাইকেল ও মাইক্রোবাসের সংখ্যাও বাড়ছে সময়ের সাথে সাথে। উল্লেখ্য, গতকাল শনিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধন করেন। এরপর আজ থেকে সাধারণ যানবাহনের জন্য পদ্মা সেতু উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

About admin

Check Also

সম্পর্কের পর বাতি জ্বালাতেই দেখেন অন্য কেউ!