বিদায় অনুষ্ঠানের বক্তব্য বিদায়ী ভাষণ

বিদায় অনুষ্ঠানের বক্তব্য দেয়ার নিয়মাবলী সম্পর্কে আজাকে আপনাদের জানাবো। বিদায় অনুষ্ঠানের সাহে পরিচিত নন এমন মানুষ নেই বললেই চলে। জীবনে একটি পরযায় থেকে অন্য একটি পর্যায়ে যেতে আগের পর্যায়কে বিদায় করে আসতে হয়। আমরা আজকে বিদায় অনুষ্ঠানের বক্তব্য নিয়ে কথা বলবো।

যেকোনো ক্ষেত্রেই হোক না কেন বিদায় মানেই খনিকের জন্য হলেও আবেগ আপ্লুত।

এই বিদায় বেলায় আমাদের অনেকের বিদায়ী বক্তব্য দিতে হয়। কিন্তু নিয়মিত মানুষের সামনে বক্তব্য দেওয়ার অভ্যাস না থাকার কারণে মানুষের সামনে কথা বলতে গিয়ে ঘাবড়ে যেতে হয়।

অন্যদিকে বিদায়ের আবেগ যখন মনকে করে দেয় আবেগি।

আজকের এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আমরা জানবো, বিদায় অনুষ্ঠানের বক্তব্য সম্পর্কে। কিভাবে বিদায়ী বক্তব্য দিবেন।

বিদায়ী বক্তব্য দেওয়ার নিয়ম সম্পর্কে। বিদায় অনুষ্ঠানের বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রথমে কি বলবেন মধ্যস্থ সময়ে কি বলবেন। কি কি বিষয়ে কথা বলবেন।

শেষ করবেন কি দিয়ে সব জানবো এই আর্টিকেলের মধ্যে। চলুন, জেনে নেওয়া যাক বিদায় অনুষ্ঠানের বক্তব্য সম্পর্কে বিস্তারিত।

বিদায় অনুষ্ঠানের বক্তব্যের ভূমিকা । বিদায় বক্তব্য

একটি বিদায় অনুষ্ঠানকে স্মরণীয় করতে একটি মনে রাখার মত বিদায়ী বক্তব্য অত্যন্ত ভূমিকা রাখে।

বিদায় অনুষ্ঠানের বক্তব্য লিখে সকলের মাঝে সবার সামনে উপস্থাপন করাটা প্রত্যেকের কাছে খুব জটিল মনে হতে পারে।

প্রক্রিতপক্ষে নিয়মিত মানুষের সামনে বক্তব্য দেওয়ার অভভ্যাস না থাকলে এবং সঠিক সময়ে সঠিক শব্দ খুজে স্বরণে না আনতে পারলে স্বাভাবিক ভাবেই একটু কঠিন মনে হবেই।

মার্জিত এবং সুন্দর সাবলীল ভাষায় আপনার অভিজ্ঞতার সংক্ষিপ্ত, আপনার সাথে জড়িত সকলকে ধন্যবাদ এবং সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য দোয়া কামনা করা একটি কঠিন কাজ।

তবে, আপনি আজকের আর্টিকেলটি পড়ার মাধ্যমে খুব সহজে বিদায় অনুষ্ঠানের বক্তব্য সুন্দর সাবলীল ভাবে সাজিয়ে গুছিয়ে লিখতে আয়ত্ত করতে এবং সবার সামনে উপস্থাপন করতে পারবেন।

আমরা আজকে একটি বিদায় অনুষ্ঠানের বক্তব্য কিভাবে সাজিয়ে লিখে উপস্থাপন করতে হবে তা বিভিন্ন ধাপে ধাপে সাজিয়ে আলোচনা করেছি।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ার মাধ্যমে পুরোটাই বুঝতে পারবেন। চলুন জেনে নেওয়া যাক বিদায় অনুষ্ঠানের বক্তব্য সম্পর্কে।

বিদায় অনুষ্ঠানের প্রথম অংশে কি বলবেন? বিদায়ী বক্তব্যের প্রথম অংশ আপনার বক্তব্য শুরু কি ভাবে করবেন তা আপনাকেই স্থির করতে হবে।

আপনি যে সংস্থা অথবা স্বেচ্ছাসেবী অথবা স্কুল অথবা কলেজ অথবা প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত ছিলেন সেখান থেকে আপনি যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলেন তা মনে রাখবেন।

এমনকি এমন কোনও স্থান শহর অথবা নগর যেখানে আপনি দীর্ঘ সময় ধরে কর্ম সুত্রে বাস করেছেন।

সেই সব জায়গায় অথবা স্থানে আপনার সাথে ঘটে যাওয়া সকল কিছুর বিষয়ে চিন্তা করবেন।

এবং আপনি যেমন ভাবে আপনার গল্পটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত উপস্থাপন করবেন তার একটি আকর্ষণীয় রূপরেখা তৈরি করবেন।

এরপর আপনি যে ভাবে এই ঘটনাগুলো নিয়ে বক্তব্য দিবেন তা সম্পূর্ণ আপনাকে কাগজে নোট আকারে লিখতে হবে।

নবীন বরণ ও বিদায় অনুষ্ঠানের বক্তব্য

প্রিয় পাঠক নবীন বরণ ও বিদায় অনুষ্ঠানের বক্তব্য ছাড়ও আপনি এই নিয়ম অনুসরণ করে সহজেই যে কোন অনুস্থানে উপস্থাপন করতে পারবেন।

তবে এমন সব বিষয়ে নোট তৈরি করবেন যা আপনার সকল কিছু মনে করিয়ে দেবে এবং আপনাকে সবচেয়ে স্মরণীয় বিষয়গুলো উপস্থাপন করতে অধিক সহায্য করবে।

বিষয়গুলো নিয়ে নোট লেখা শেষ হলে পরে, প্রশ্নবোধক ছোট ছোট বিবরণীগুলো নিজ থেকে মনে রাখার চেষ্টা করুন।

এটি একটি মজার বা হৃদয় বিদারক বিবরণীও হতে পারে।

আবার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সাধারণত এটি আপনার আবেগকে দেখানোর সময় এটি প্রতিদিনের জীবন কেমন ছিল তার একটি জানান আপনার অজান্তেই প্রকাশ করে দেয়।

অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সমসাময়িক বিষয় তুলে ধরতে হবে। বিদায়ী অনুষ্ঠানের বক্তৃতার সাধারণ সূচিপত্র সাধারণত হাসিখুশি শুরু হওয়া উচিত।

তবে আপনি সেখানে কী শিখেছেন আর কী কী মিস করেছেন এর কিছুটা অংশ উৎসর্গ করা উচিত।

আপনার এতদিনের কর্মস্থল অথবা শিক্ষাস্থলে আপনি যা কিছুর জন্য কৃতজ্ঞ সেগুলি এবং যে সময়টা আপনাকে আপনি হয়ে উঠতে সাহায্য করেছিল সেগুলি সম্পর্কে ভাবতে হবে।

আপনার জায়গাটি ছেড়ে যেতে কেন খারাপ লাগবে তা ভেবে দেখুন এবং উল্লেখ করুন আপনার বিদায় অনুষ্ঠানের বক্তব্যে।

অন্যদের সৌভাগ্যের জন্য মনের ভিতর থেকে শুভেচ্ছা কামনা করুন সবার সামনে থেকে।

যৌক্তিকভাবে, আপনি বিদায় জানাচ্ছেন, আপনার জায়গায় অন্য যে কেউ আসবেন।

যারা থাকবেন তাদের শুভকামনা জানান তাদের সামনে রেখেই। সত্যি কথা বলুন এবং হাসুন।

দুটো রসিকতা করা মন্দ নয় – যতক্ষণ না তারা এটা খারাপ ভাবে গ্রহন না করে থাকে।

আপনি নিজের জন্য নিজ জীবনে যা আশা করেন তাও বলতে ভুলবেন নাহ একদমই।

বিদায় অনুষ্ঠানের বক্তব্য নমুনা

প্রথম অংশ: ভূমিকা
দ্বিতীয় অংশ: স্মরণীয় বিষয়গুলো উপস্থাপনা করুন
তৃতীয় অংশ: সবার জন্য শুভকামনা ও ভালোবাসা দিয়ে বিদায় নিন

বিদায় বক্তব্যে দ্বিতীয় অংশে যা রাখতে হবে । Farewell speech

প্রথমে বিদায়ী বক্তব্য দেওয়ার জন্য সংক্ষিপ্ত বিবরণ তৈরি করতে হবে।

এবার আপনার হাতে বিষয়বস্তু নির্ধারণ করা হলে, এটিকে সংগঠিত করতে হবে বক্তৃতার সময় অনুযায়ী।

এমনটি করার একটি ভালো উপায় একটি রূপরেখা তৈরি করতে হবে।

রূপরেখার থাকবে স্থান, ভূমিকা, পাঠ্যের মূল অংশ এবং সর্ব শেষে উপসংহার।

আপনার বিদায় অনুষ্ঠানের বক্তব্যের সম্পূর্ণ পাঠ্য বিষয়গুলো লিখে রাখার কোনো দরকার নেই।

মূল বিষয়গুলি শুধু মাত্র নোট ডাউন করে রাখতে পারেন। অনেকের তারও দরকার হয় নাহ।

সহজ এবং সাবলীল ভাবে শুরু করতে হবে।

রসিকতা দিয়ে শুরু হওয়া বক্তব্য সহজেই উপস্থিত সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে মুহূর্তের মধ্যে।

এটি বিদায় অনুষ্ঠান হিসাবে স্বাভাবিক ভাবে সবাই খুব জটিল ভাবে আশা করতে পারে।

একটি দার্শনিক উদ্ধৃতি বা প্রেরণাদায়ী বার্তা দিয়ে বক্তব্য শুরু হতে পারে অন্যতম বক্তব্য এর একটি।

তবে আদর্শ হবে দারশনিক বার্তা একেক অংশের জন্য একেক রকম শেষ পর্যন্ত বক্তব্যের বিভিন্ন অংশে পাঠ করা।

বিদায়ী বক্তব্য এর মূল অংশটি লিখতে হবে।

এইখানেই আপনি ধারাবিবরণী আওতাভুক্ত করবেন এবং যথাযথ হলে সেখানে ঘটে যাওয়া সমস্ত কিছু সংক্ষিপ্ত করে রাখার চেষ্টা করবেন।

আপনার কাছে সবকিছু কেমন এবং প্রত্যেকের সাথে সম্পর্ক কেমন তা প্রকাশ করে ঔ সকল ব্যক্তি এবং নিজস্ব অভিজ্ঞতা সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আকারে গল্পগুলো বলুন।

গল্প বলার সময়, অন্য কথা বলে সাধারণীকরণের চেয়ে বিশদ এবং উদাহরণ তুলে ধরাটা সবচেয়ে বেশি ভালো হয়।

বক্তব্যের উপসংহারে এমন কিছু উপস্থিত থাকবে যাতে উপস্থিত ব্যক্তিরা আজীবন আপনাকে এবং আপনার কাজকে বা সার্ভিসকে মনে রাখবেন।

আপনার মাঝে সৃজনশীলতা থাকলে আপনি বক্তৃতাটি এমন একটি বাক্য বলে শেষ করতে পারেন যা আপনি পরিচয় পর্বে বলেছিলেন রসিকতা বা উপাখ্যানে সাথে মিলিয়ে।

উপরের নিয়ম অনুযায়ী ৪-৮ মিনিটের একটি বক্তব্যই যেকোনো বিদায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য হিসেবে যথেষ্ট।

বক্তব্য গুলোর নিয়ম অনুযায়ী বক্তব্য দিলেই আপনার বিদায় অনুষ্ঠানের বক্তব্য হবে অসাধারণ।

নিচে নমুনা হিসেবে স্কুলের বিদায় অনুষ্ঠানের বিদায়ী বক্তব্য তুলে ধরা হলো । বিদায় অনুষ্ঠানের বক্তব্য নমুনা
সকল প্রসংশা মহান সৃষ্টিকর্তার।

মঞ্চে উপস্থিত প্রধান অতিথি এবং আমার শ্রদ্ধেয় সকল শিক্ষক ও আমার সামনে উপস্থিত সকল শিক্ষার্থীদের আমার পক্ষ থেকে আন্তরিক সালাম ও শুভেচ্ছা।

অত্যান্ত দুঃখ ও ভারাক্রান্ত মন নিয়ে বলতে হচ্ছে, আজ আমাদের বিদায়ের অনুষ্ঠান।

যদিও আমরা মনে করি এটা একটা বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা শুধু মাত্র। কারণ মন থেকে চিরতরে বিদায় নেওয়া হয়তো কখনোই সম্ভব না।

অনেক দিন ধরে আমরা এই প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেছি এবং এই প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষক শিক্ষিকাবৃন্দ আমাদেরকে বিভিন্ন বিষয় অত্যান্ত দক্ষতার সাথে পড়িয়েছেন তা আমাদের মনে থাকবে সবসময়।

এজন্য আমরা স্যারদের কাছে চির কৃতজ্ঞ হয়ে থাকবো।

কিন্তু ইচ্ছে না থাকা সত্ত্বেও আমাদেরকে আজ অত্র প্রতিষ্ঠান থেকে বিদায় নিতে হইতেছে।

আজ শিক্ষাজীবনের একটি অধ্যায় সমাপ্ত। পরের আরেকটি নতুন অধ্যায়ে পা রাখার উদ্দেশ্যে আমরা বিদায় নিতেছি।

আপনারা আমাদের জন্য দোয়া করবেন যেন ভবিষ্যতে শিক্ষাজীবনে আরো উন্নতি করে দেশ এবং জাতি গঠনে অনন্য ভূমিকা রাখতে পারি।

আমরা এখানে দীর্ঘ শিক্ষাজীবনে আপনাদের অনেক শাসন-বাড়নের মধ্য পার করে এসেছি।

এই শাসন সাময়িক বিরক্তিকর মনে হলেও এখন এই শেষ মুহূর্তে বুঝতে পারছি এটা আমাদের জন্য খুব দরকারি একটি বিষয় ছিলো।

তাই আমাদের কোনো আচরণের যদি কোনো শিক্ষক বা শিক্ষিকা কষ্ট পেয়ে থাকেন, বা ছোট কিংবা বড় কোনো ভুল করে থাকি তাহলে আমাদেরকে নিজ গুনে ক্ষমা করবেন।

সমস্ত ছাত্র-ছাত্রীদের পক্ষ থেকে আমি বিনীতভাবে আপনাদের কাছে ক্ষমা আবেদন প্রার্থী।

যাই হোক, বিদায়ী মুহূর্তে আর বেশি কিছু বলতে চাই না, এই প্রতিষ্ঠান এবং প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষক/শিক্ষিকাবৃন্দের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও দীর্ঘায়ু কামনা করি।

এবং আমার স্নেহের ছোট ভাই বোনদের প্রতি রইল অফুরন্ত ভালোবাসা। তোমরা শিক্ষকদের কথা শুনবে এবং পালন করবে।

এই আমি আমি আমার বক্তব্য এখানেই শেষ করছি। – ধন্যবাদ সবাইকে।

৫ম শ্রেণির বিদায় অনুষ্ঠানের বক্তব্য – এস এস সি বিদায় অনুষ্ঠানের বক্তব্য সঠিকভাবে বক্তব্য প্রদান করার জন্য উপরে আমরা আপনাদের বেশকিছু পদ্ধতি সম্পর্কে বলেছি। আপনি যেকোনো বিদায় অনুষ্ঠানে উল্লিখিত পদ্ধতি অনুসরণ করে সহজে আপনার বক্তব্য উপস্থাপন করতে পারবেন এবং সকলের কাছ থেকে বাহাবা পাবেন।

তবে যেকোন বক্তব্য বা অনুষ্ঠানে নিজের কথা বলার ভাবভঙ্গি ও বাচনভঙ্গির অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় আপনি যত ভালো স্পিসি দেন না কেন যদি আপনার বলার ধরন ও শব্দ উচ্চারণ সঠিক না হয় তবে আপনি সঠিক ভাবে উপস্থাপন করতে পারবেন না।

৫ম শ্রেণির বিদায় অনুষ্ঠানের বক্তব্য, ssc বিদায় অনুষ্ঠানের বক্তব্য যে ধরনের বক্তব্য হোক না কেন আপনি নিজের জন্য কিছু শব্দগুচ্ছ নোট করুন যে শব্দগুচ্ছ করে উপস্থাপন করা হলে আপনার বক্তব্যটি গঠনমূলক হবে ওই ধরনের শব্দগুলো ভালোভাবে সুস্থ করুন।

বিদ্যালয়ের বিদায় অনুষ্ঠানের বক্তব্য কিভাবে দিবেন? অনেকে বিদ্যালয়ে বিদায় অনুষ্ঠানের বক্তব্য দেয়ার বিষয়ে বেশ চিন্তিত হয়ে পড়েন। তবে সঠিক গঠনমূলক শব্দ ব্যবহার করে সহজেই আপনি বিদ্যালয় সহজে কোন অনুষ্ঠানের বক্তব্য দিতে পারবেন।

কিভাবে বিদায় অনুষ্ঠানের বক্তব্য দিতে হয়? বিদায় অনুষ্ঠানের বক্তব্য দেয়ার জন্য আপনার বক্তব্য কে তিনটি ভাগে ভাগ করতে হবে। প্রথম অংশে উপস্থাপনা আপনার কিছু ভাললাগার বিষয় সম্পর্কে হবে পরবর্তী অংশে আপনার কর্ম জীবনের কিছু সফলতা ও অসফলতা এবং তৃতীয় অংশে সকলের উদ্দেশ্যে আপনার ইচ্ছা আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করবেন।

https://youtu.be/bESEX5wzbcU

বিদায় অনুষ্ঠানের বিদায়ী বক্তব্য একটি নমুনা সহ

বিদায়ী বক্তব্যের ভূমিকায়ঃ একটি সুন্দর বিদায়ী বক্তব্য বা বিদায় অনুষ্ঠানের বক্তব্য উক্ত অনুষ্ঠান কে সকলের কাছে স্মরণীয় করে রাখে।

বিদায় অনুষ্ঠানের বক্তব্য সুন্দর করে সাজিয়ে লিখে তা প্রদান করা একটি জটিল কাজ মনে হতে পারে। সঠিক সময়ে সঠিক শব্দ খুজে পাওয়া সহজ নয়, যদি না সেটা আপনার অভ্যাসে থাকে।

একটি মার্জিত এবং সুন্দর উপায়ে আপনার অভিজ্ঞতার সংক্ষিপ্ত, আপনার সাথে জড়িত সকলকে ধন্যবাদ এবং সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য দোয়া কামনা করা একটি কঠিন কাজ। তবে, আপনি এই ব্লগটি পড়লে খুব সহজে বিদায় অনুষ্ঠানের বক্তব্য সুন্দর সাবলীল ভাবে সাজিয়ে গুছিয়ে লিখতে পারবেন। এবং খুব সহজে সেটা অন্যের সামনে উপস্থাপন করতে পারবেন, ইনশাল্লাহ।

আমরা একটি বিদায় অনুষ্ঠানের বক্তব্য কিভাবে সাজিয়ে লিখে উপস্থাপন করতে হবে তা বিভিন্ন ধাপে সাজিয়ে আলোচনা করেছি।

১ম অংশ: কী বলবেন তা ঠিক করুন

আপনার বক্তব্য শুরু কি ভাবে করবেন তা স্থির করুন। আপনি যে সংস্থা/স্বেচ্ছাসেবী/স্কুল/কলেজ/প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত ছিলেন সেখান থেকে আপনি যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলেন তা মনে রাখবেন। এমনকি এমন কোনও স্থান শহর বা নগর যেখানে আপনি দীর্ঘ সময় ধরে বাস করেছেন।
সেই জায়গায় বা স্থানে আপনার সাথে ঘটে যাওয়া সকল কিছুর বিষয়ে চিন্তা করুন এবং আপনি যেমন ভাবে আপনার গল্পটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত উপস্থাপন করবেন তার রূপরেখা তৈরি করুন।
আপনি যে ভাবে এই ঘটনাগুলো নিয়ে বক্তব্য দিবেন তা সম্পূর্ণ আপনাকে কাগজে নোট করতে হবে না। তবে এমন সব বিষয়ে নোট তৈরি করুন যা আপনার সকল কিছু মনে করিয়ে দেবে এবং আপনাকে সবচেয়ে স্মরণীয় বিষয়গুলো উপস্থাপন করতে সহায্য করবে।
এ সময়ে উপস্থাপনের কিছু কৌশল জেনে নিন এখান থেকে।
বিষয়গুলো নোট লেখার পরে, প্রশ্নবোধক ছোট ছোট বিবরণীগুলো মনে রাখার চেষ্টা করুন। এটি একটি মজার বা হৃদয় বিদারক বিবরণীও হতে পারে – গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হ’ল সাধারণত এটি আপনার আবেগকে দেখানোর সময় এটি প্রতিদিনের জীবন কেমন ছিল তার একটি জানান দেয়।
একটি গুরুত্বপূর্ণ বা সমসাময়িক বিষয় তুলে ধরুন। বিদায়ী অনুষ্ঠানের বক্তৃতার সাধারণ সূচিপত্র হাসিখুশি শুরু হওয়া উচিত, তবে আপনি সেখানে কী শিখেছেন এবং কী কী মিস করেছেন এর কিছুটা অংশ উৎসর্গ করা ভাল।
আপনি যা কিছুর জন্য কৃতজ্ঞ সেগুলি এবং যে সময়টা আপনাকে আপনি হয়ে উঠতে সাহায্য করেছিল সেগুলি সম্পর্কে ভাবুন। আপনার জায়গাটি ছেড়ে যেতে কেন খারাপ লাগবে তা ভেবে দেখুন।
অন্যদের সৌভাগ্যের জন্য শুভেচ্ছা কামনা করুন। যৌক্তিকভাবে, আপনি বিদায় জানাচ্ছেন, আপনার জায়গায় অন্য যে কেউ থাকবেন। যারা থাকবেন তাদের শুভকামনা জানান। সত্যি কথা বলুন এবং আসুন, দু’টো রসিকতা করা মন্দ নয় – যতক্ষণ না তারা এটা খারাপ ভাবে গ্রহন না করে থাকেন। আপনি নিজের জন্য যা আশা করেন তাও বলুন।

২য় অংশ: বিদায় বক্তব্য লেখা

একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ তৈরি করতে হবে। এবার আপনার হাতে বিষয়বস্তু নির্ধারণ করা হলে, এটিকে সংগঠিত করতে হবে সময় অনুযায়ী। যেন বিদায়ী বক্তৃতাটি সুন্দর ভাবে প্রবাহিত হয় এবং উপস্থিত লোকেরা বিদায়ী বক্তব্য এর উক্তি গুলো অনুসরণ করতে পারে।
এটি করার একটি ভাল উপায় একটি রূপরেখা তৈরি করা। রূপরেখার থাকবে স্থান, ভূমিকা, পাঠ্যের মূল অংশ এবং উপসংহার।
আপনার বিদায় অনুষ্ঠানের বক্তব্যের সম্পূর্ণ পাঠ্য বিষয়গুলো লিখে রাখার দরকার নেই। মূল মূল বিষয়গুলি কেবল লিখুন।
সহজ এবং সাবলীল ভাবে শুরু করুন। রসিকতা বা রসিকতা দিয়ে শুরু হওয়া বক্তব্য সহজেই উপস্থিত সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এটি বিদায় অনুষ্ঠান হিসাবে, লোকেরা খুব জটিল বা ভারী কিছু আশা করতে পারে। এমনকি অনুষ্ঠানটি হৃদয়বিদারক হলেও বক্তব্য অনেক মজাদার উপায়ে শুরু করুন। এইভাবে, আপনি একটি ভাল পরিবেশ তৈরি করুন, যেন তারা আপনাকে শুনেন।
আপনার প্রস্তুতকৃত কোনও উপাখ্যান বা বিবরণ যদি খুব রশিকতার হয় তবে এটি দিয়ে শুরু করুন!
একটি দার্শনিক উদ্ধৃতি বা প্রেরণাদায়ী বার্তা দিয়ে বক্তব্য শুরু ভাল হতে পারে, তবে আদর্শ হবে এটি শেষ পর্যন্ত বক্তব্যের বিভিন্ন অংশে পাঠ করা।
বিদায়ী বক্তব্য এর মূল অংশটি লিখুন। এইখানেই আপনি ধারাবিবরণী গুলো অন্তর্ভুক্ত করবেন এবং যথাযথ হলে সেখানে ঘটে যাওয়া সমস্ত কিছু সংক্ষিপ্ত করে রাখবেন। আপনার কাছে সবকিছু কেমন এবং প্রত্যেকের সাথে সম্পর্ক কেমন তা প্রকাশ করে ঔসকল ব্যক্তি এবং নিজস্ব অভিজ্ঞতা সম্পর্কে গল্পগুলো বলুন।
গল্প বলার সময়, অন্য কথা বলে সাধারণীকরণের চেয়ে বিশদ এবং উদাহরণ তুলে ধরাটা ভালো হয়।
বক্তব্যের উপসংহারে এমন কিছু উপস্থিত থাকবে যাতে উপস্থিত ব্যক্তিরা আজীবন মনে রাখবেন।
আপনার মাঝে সৃজনশীলতা থাকলে আপনি বক্তৃতাটি এমন একটি বাক্য বলে শেষ করতে পারেন যা আপনি পরিচয় পর্বে বলেছিলেন রসিকতা বা উপাখ্যানে সাথে সংযুক্ত করে।
বিদায় অনুষ্টানের বক্তব্য
বিদায়ী বক্তব্য

৩য় অংশ: বিদায়ী বক্তব্য প্রদান

প্রথমে নিজেকে অনুপ্রাণিত করুন যে আপনি পারবেন। বক্তৃতা পাঠ করা শুধু মাত্র প্রথম ধাপ। আপনি উচ্চস্বরে জোরে জোরে অনুশীলন করবেন। সব শেষে বক্তব্যের, ভাষা সবসময় ঠিক রাখ যায়, সেটা খেয়াল রাখবেন।
সবচেয়ে বেশি বিভ্রান্তি প্রদান করে এমন অংশগুলি রিহার্সেল করুন এবং বক্তব্যকে সুন্দর গুছালো করতে পারে এমন পরিবর্তনগুলির নোট তৈরি করুন বক্তৃতার সময়।
আয়নার সামনে দাড়িয়ে অনুশীলন করুন যে আপনি নিজের বক্তব্যকে নষ্ট না করে কাগজ থেকে চোখ সরিয়ে নিয়ে বিদায়ী অনুষ্ঠানের বক্তব্য দিতে পারেন কিনা।
দরকার হলে আপনার কোনও বন্ধুকে সামনে দাড়িয়ে ওর সাথে কথা বলার অনুশীলন করুন এবং তাদের আপনাকে একটি মন্তব্য প্রদান করতে বলুন।
ছোট ছোট নোট করুন, আপনার বক্তব্য বলার মতো বেশি কিছু থাকলেও, এবং আপনি যে জায়গা ছেড়ে যাচ্ছেন সে সম্পর্কে আবগত হওয়ার জন্য অনেক আবেগ থাকলেও এটি কন্ট্রোল করুন। মনে রাখবেন, লোকদের অবশ্যই এখনও কাজে ফিরে আসতে হবে, বা দিনের অন্যান্য দিনের কাজগুলিতে মনোযোগ দেওয়া উচিত। পর্যাপ্ত পরিকল্পনা সহ, একটি শক্তিশালী এবং সংক্ষিপ্ত বক্তৃতা দেওয়া সম্ভব।
৫/৮ মিনিটের বক্তব্যই যথেষ্ট। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে, আপনি দশ মিনিট সহ্য করতে পারেন। এর চেয়ে বড় বিষয়, শুধুমাত্র রাজনৈতিক বক্তৃতাগুলো হয় বিশেষ বিশেষ অনুষ্ঠানগুলিতে।
আত্মবিশ্বাসের সাথে কথা বলুন। প্রকাশ্যে কথা বলার সময় অনেকেই নার্ভাস হন। এটি আপনার হতে যাতে না ঘটে তার জন্য বেশ কয়েকটি কৌশল রয়েছে। বক্তব্যটি বেশ কয়েকবার রিহার্সাল করুন এবং সবার কাছে পৌঁছানোর আগে নিজেকে প্রস্তুত করুন।
আপনার ভুল হতেই পারে মনে রাখবেন। এর জন্য প্রস্তুতি নিন, এবং এটি নিয়ে চিন্তিত হবেন না। নিজেকে হাসি খুশি রাখুন এবং আপনার বক্তব্য থামাবেন না। শ্রোতারা এতে আপনাকে ভুল মনে করবে না।
আপনার বক্ত্যব্য মনোযোগ দিয়ে শুনবে এমন লোকদের প্রতি মনোযোগ দিন। আপনার লক্ষ্য এমন সব লোকের দিকে নিয়ে যান যারা হাসছেন, মাথা ঝাঁকিয়েছেন এবং চোখের যোগাযোগ করছেন। তাদের শক্তি আপনার আত্মবিশ্বাসকে বাড়িয়ে তুলবে।
এসব কাজ করতে আপনার দৈন্দিন কাজের পাশাপাশি সময় বের করতে হবে। সময়ে ব্যাবস্থাপনার কৌশল গুলো জেনে নিস খুব সংক্ষেপে টাইম ম্যানেজমেন্ট এর উপর লিখিত ব্লগ পড়ে।

পরামর্শ: যদি সন্দেহ হয়, তাহলে একটি ইতিবাচক পরিবেশ বজায় রাখুন। লোকেরা ভাল জিনিসগুলি তাদের চলে যাওয়ার অনেক পরেও মনে রাখবে। যারা ভাল আমেজে আছেন এবং আপনাকে ভুল ভাববে না কেবল তাদের সাথে কৌতুক করুন।

নিচে নমুনা সরূপ একটি স্কুলের বিদায় অনুষ্ঠানের বিদায়ী বক্তব্য তুলে ধরা হলো :

“বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম, মঞ্চে উপস্থিত প্রধান অতিথি এবং আমার শ্রদ্ধেয় সকল শিক্ষক ও আমার সামনে উপস্থিত সকল শিক্ষার্থীদের আমার পক্ষ থেকে আন্তরিক সালাম এবং শুভেচ্ছা জানাই।

অত্যান্ত দুঃখ ও ভারাক্রান্ত মন নিয়ে বলতে হচ্ছে আজ আমাদের বিদায় অনুষ্ঠান। যদিও আমরা মনে করি এটা একটা বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। কারণ মন থেকে চিরতরে বিদায় নেওয়া হয়তো সম্ভব হবে না।

অনেক দিন ধরে আমরা এই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা গ্রহণ করছি এবং এই প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষক শিক্ষিকাবৃন্দ আমাদেরকে বিভিন্ন বিষয় অত্যান্ত দক্ষতার সাথে পড়িয়েছেন তা আমাদের মনে থাকবে সারা জীবন ।

এজন্য আমরা আপনাদের কাছে চির কৃতজ্ঞ। কিন্তু ইচ্ছে না থাকা সত্ত্বেও আমাদেরকে আজ অত্র প্রতিষ্ঠান থেকে বিদায় নিতে হচ্ছে। আজ শিক্ষাজীবনের একটি অধ্যায় সমাপ্ত। পরের আরেকটি নতুন অধ্যায়ে পা রাখার উদ্দেশ্যে আমরা বিদায় নিচ্ছি। আপনারা আমাদের জন্য দোয়া করবেন যেন ভবিষ্যতে শিক্ষাজীবনে আরো উন্নতি করে দেশ ও জাতি গঠনে ভূমিকা রাখতে পারি।

আমরা এখানে দীর্ঘ শিক্ষাজীবনে আপনাদের অনেক শাসন-বাড়নের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। এই শাসন সাময়িক বিরক্তিকর মনে হলেও এখন এই শেষ মুহূর্তে বুঝতে পারছি এটা আমাদের জন্য কতটা প্রয়োজন ছিলো। তাই আমাদের কোনো আচরণের যদি কোনো শিক্ষক/শিক্ষিকা কষ্ট পেয়ে থাকেন, বা ছোট কিংবা বড় কোনো ভুল করে থাকি তাহলে আমাদেরকে ক্ষমা করবেন। সমস্ত ছাত্র-ছাত্রীদের পক্ষ থেকে আমি বিনীতভাবে ক্ষমার আবেদন প্রার্থী।

যাই হোক, বিদায়ী মুহূর্তে আর বেশি কিছু বলতে চাই না, এই প্রতিষ্ঠান এবং প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষক/শিক্ষিকাবৃন্দের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও দীর্ঘায়ু কামনা করে আমি আমার বক্তব্য এখানেই শেষ করছি। – ধন্যবাদ সবাইকে।”

তাহালে বন্ধুরা আজকের এই ব্লগটি থেকে আমরা শিখলাম বিদায় অনুষ্ঠানের বক্তব্য প্রদানের ধাপ এবং বিদায় অনুষ্ঠানের বক্তব্য নমুনা সম্পর্কে। আমার এই ব্লগটি যদি আপনাদের কাছে ভালো লাগে এবং কিছু শিখতে পারেন তাহালে নিচের কমেন্ট বক্সে আপনাদের গুরুত্বপূর্ণ মতামত প্রকাশ করবেন এবং কোন প্রকার প্রশ্ন থাকলে করবেন। ধন্যবাদ পুরো ব্লগটি মন দিয়ে পরবার জন্য।

tag: শিক্ষক বিদায় অনুষ্ঠানের বক্তব্য, কওমি মাদ্রাসার বিদায় অনুষ্ঠানের বক্তব্য, নবীন বরণ ও বিদায় অনুষ্ঠানের বক্তব্য, বিদায় অনুষ্ঠানের উপস্থাপনা, বিদায় অনুষ্ঠানের বক্তব্য ইংরেজিতে, বিদায় অনুষ্ঠানের ছন্দ, স্কুলের বড় ভাই বোনদের বিদায় অনুষ্ঠানের বক্তব্য, Hsc বিদায় অনুষ্ঠানের বক্তব্য, বিদায় অনুষ্ঠানে বিদায় সম্ভাষণ বক্তব্য, বিদায় অনুষ্ঠানের বক্তব্য, বিদায় অনুষ্ঠানের বিদায়ী বক্তব্য একটি নমুনা সহ, Farewell Speech in Bangla, ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশ্যে শিক্ষকের বক্তব্য

About admin

আমার পোস্ট নিয়ে কোন প্রকার প্রশ্ন বা মতামত থাকলে কমেন্ট করে জানাতে পারেন অথরা মেইল করতে পারেন admin@sottotv.com এই ঠিকানায়।