রাগী টিচার যখন রোমান্টিক হাসবেন্ড সম্পূর্ণ গল্প এক সাথে …

আম্মু আমাকে খেতে দাও।তাড়াতাড়ি। আজ কলেজে নতুন টিচার আসবে। শুনেছি চিটার নাকি খুব রাগী। এক সেকেন্ড দেরি হলে ক্লাস রুমে প্রবেশ করতে দেয় না।
সিঁড়ি দিয়ে নিয়ে নামতে নামতে কথা গুলো বললো আফরিন আয়াত শখ।
তখনি শখের আম্মু বলে উঠলো।
–কেনো রে আরো একটু ঘুমাবি তাহলে তাড়াতাড়ি কলেজে যেতে পারবি।আমি বুঝি না তুই এত ঘুমাস কি করে।ঘুম পাগলি মেয়ে একটা।এখন তুই খাবি কখন আর কলেজ পৌছাবি কখন বলতো।
–আম্মু তুমি আমাকে টিফিন দিয়ে দাও আমি ব্রেক টাইমে খেয়ে নিব।
বলেই শখ তাড়াতাড়ি করে চলে যেতে লাগলে, শখের আম্মু বললো দাড়া দুইবার তো খেয়ে যাবি নাকি।আজ তোর ফিয়াজ ভাইয়া’ও নেই।যে,ওকে বলবো তোকে একটু দিয়ে আসতে।দেখি হা করতো।
–না আম্মু আমার খাওয়ার সময় নেই আসি,বলেই দৌড় দিলো শখ।শখের আম্মু’ও যায় কিসে সে’ও মেয়ের পেছনে পেছনে ছুটলো দুইবার খাইয়ে দিয়ে।তারপরে-ই মেয়েকে ছাড়লো।
শখের আম্মু ভেতরে আসতেই মুনতাহা রাগী চোখ নিয়ে মারের দিকে তাকিয়ে আছে।
তখন মিসেস রহিমা বেগম বললেন।
–কিরে এভাবে তাকিয়ে আছিস কেনো,যা খেয়ে নে।তোকে তো কলেজে যেতে হবে নাকি।আজ তোর দেরি হয়ে যাচ্ছে না।
–বাবা বাহ আম্মু,ও মেয়েটার জন্য তোমার কি দরদ,আদর,ভালোবাসা।কই আমার জন্য তো এমন করো না।
–এসব তুই কি বলছিস আমি তোকে ভালোবাসি না।তুই বল তোকে কোন দিকে কম রেখেছি।
–ভালোবাসার দিকে কম রেখেছো মা।তোমরা আমার থেকে ঐ মেয়েকে বেশি ভালোবাসো।ও তো তোমাদের…..
–মুনতাহা কি ঐ মেয়ে ঐ মেয়ে করছিস।ও’তোর ছোট বোন হয়।ওর ওপরে সব সময় রাগ না করে ওকে একটু ভালোবাসলেও তো পারিস।
–ছোট বোন মাই ফুট।ও আমার কিসের ছোট বোন আমি ওকে নিজের ছোট বোন হিসেবে মানি না।ও কোনোদিন আমার কাছে থেকে বড়বোনের ভালোবাসা পাবে না।ওর জন্য আমি আমার সবকিছু হারিয়ে ফেলছি।ঐ মেয়ে মরে না,কেনো।ও’মরলে আমার শান্তি সবকিছু কেঁড়ে নিয়েছে আমার থেকে।
ঠিক তখনি মুনতাহার বাবা আহনাফ সাহেব এসে মনতাহাকে থাপ্পড় বসিয়ে দিলো।
–তোমাকে এই শিক্ষা দিয়েছি।মেয়েটা তোমাকে কি করেছে কেনো ওকে দেখতে পারো না।তুমি।তোমাকে কতো ভালোবাসে মেয়েটা।আর তুমি ওকে সব সময় অপমান করো দেখতে পারো না।
–বেশ করি ওর জন্য আমি আমার সবকিছু হারিয়ে ফেলছি। ও যদি ওর….
–মুনতাহা……..
–তুমি উত্তেজিত হয়ো না,মুনতাহা একদিন ঠিক বুজবে,দেখো।একদিন ঠিক আমাদের শখকে আপন করে নিবে।
–ঐ’মেয়েকে আপন করে নেওয়ার আগে,আমি যেনো মরে যাই।
বলেই চলে গেলো মুনতাহা।
–মেয়েটাকে মানুষ করতে পারলাম না গো মুনতাহার আম্মু।বলল,আহনাফ সাহেব।
–তুমি চিন্তা করো না,দেখবে একদিন ঠিক আমাদের মুনতাহা আমাদের শখকে মেনে নিবে।বলল,মিসেস রহিমা বেগম।
আসুন এইবার পরিচয় পর্বে আসা যাক এখক্ষন ধরে যারা কথা বলছিলেন,তারা হলেন আমাদের গল্পের নায়িকা’ও তার পরিবার। আফরিন আয়াত শখ। আমাদের গল্পের নায়িকা।মধ্যবৃত্ত পরিবার থেকে বিলং করছে শখ।মিসেস রহিমা বেগম শখের,মিস্টার আহনাফ সাহেব।শখের বাবা মা।মুনতাহা শখের বড় বোন।আর ফিয়াজ শখের বড় ভাই। শখ এবার ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে,পড়াশোনা করছে।দেখতে মাশাল্লাহ।দেখলে যে কেউ প্রেমে পড়ে যাবে।
আসুন গল্পে ফিরে আসা যাক।
ট্রাফিক জ্যামে আটকা পড়েছে শখ।বেশ বিরক্ত লাগছে শখের।
–দুর,আজকে-ই,জ্যামে আটকা পড়তে হলো,এইদিকে ক্লাসের সময় হয়ে আসছে।নতুন টিচার আসবে।যদি সঠিক সময়ে কলেজে পৌঁছাতে না পারি।আমাকে ক্লাসে প্রবেশ করতে দিবে না।ভয় ও লাগছে নতুন টিচারের ক্লাসে প্রথম দিন-ই লেট করবো তাহলে।
প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে জ্যামে আটকে আছে শখ।
–নাহ,আর এভাবে বসে থাকা চলবে না।দেখি আমাকেই একটা ব্যবস্থা,করতে হবে।
বলেই শখ গাড়ি থেকে নেমে,গাড়ির ভাড়া মিটিয়ে দিয়ে,হাঁটা শুরু করলো শখ।
ক্লাসের আর দশ মিনিট বাকি আছে।ঠিক মতো হাঁটা ধরলে পৌঁছাতে পারবে।শখ,কলেজের অনেক’টা কাছেই চলে আসছে শখ।
সময় মাত্র পাঁচ মিনিট শখ এবার জুতা খুলে দৌড় দিলো,হঠাৎ করেই একটা গাড়ি শখের সামনে চলে আসে,তাল সমলাতে না পেরে,নিচে পড়ে যায় শখ।পায়ে ব্যথা পেয়েছে। হাতে কিছু কিছু জায়গায় হালকা করে কেটে গেছে যার ফলে হালকা হালকা রক্ত দেখা যাচ্ছে কোনো দিকে না তাকিয়ে শখ,এক বস্তা বয়ান দিতে শুরু করলো।
শখ:ঐ কোন উগান্ডার বাচ্চারে, গাড়ি দেখে শুনে চালাতে পারিস না।চোখ কি মাথায় নিয়ে হাঁটিস রে।তোর ঘরে মা,বোন নেই।গাড়ি চালাস নাকি উড়োজাহাজ চালাস। সাধারন মানুষের কথা তো ভাবিস না বড়লোক বাপের বেটা কিছু হলে খালি টাকার গরম দেখাবি।তারপরে সবকিছু মাফ।
শখের এসব উলটা পালটা কথা শুনে গাড়ি থেকে বেড়িয়ে আসলো আয়ান চৌধুরী। শখকে উদ্দেশ্য করে বললো।
–এই মেয়ে তোমার সমস্যা কি এভাবে উল্টো পালটা বকছো কেনো তুমি।আর একটা বাজে কথা বললে।আমার থেকে খারাপ কেউ হবে না।দেখি কি হয়েছে তোমার। কতটা ক্ষতি হয়েছে।আয়ান কিছু টাকা ছুরে শখের দিকে দিয়ে বললো।
–যা দিয়েছি আশা করি তোমার এতে হয়ে যাবে।যদি আরো লাগে তাহলে আমাকে বলবে কেমন আমি দিয়ে দিব।বলেই একটি কার্ড বের করে শখের দিকে এগিয়ে দিলো।
এতক্ষণ শখ হা হয়ে যুবকটির দিকে তাকিয়ে ছিলো,এত সুন্দর মানুষ হয়।নাকি আবার,বেশ লম্বা যুবকটি।ফর্সা শরীলে কালো রংটা যেনো আরো আকর্ষণী’ও করে তুলেছে।এতক্ষণ শখ ভালো করে যুবকটি পর্যবেক্ষণ করলেও টাকার গরম দেখানো কারনে বেশ রেগে গেলো শখ।
শখ:নিজেকে মনে করেন আপনি দয়া দেখাচ্ছেন আমাকে আপনার টাকা আপনি রাখুন আপনার কোনো কাজে লাগবে।এই জন্য আমি বড়লোক’দের দেখতে পারি না ছোট লোক কথাকার।
আয়ান:থাপরিয়ে তোমার সব দাঁত ফেলো জানো।এতটুকু মেয়ে এত পাকা পাকা কথা বলো কেনো তুই। কলেজে পড়ো এখনো ব্যবহার শিখলে না।
শখ:এখন আপনার থেকে ব্যবহার শিখতে,হবে আমার আসছে একে তো অন্যায় করছে তার ওপরে বড় বড় কথা বলছে। আমি আপনার খাই না পড়ি আপনার কথা আমাকে শুনতে হবে।
মূহুর্তেই আয়ান এর চোখ লাল টকটকে হয়ে গেলো রাগে কিন্তু কিছু বললো না।
–আজ আমার একটা কাজ আছে দেরি হয়ে যাচ্ছে।তা না হলে আজ তোমাকে দেখে নিতাম।তোমাকে তো আমি পরে দেখে নিবো।
বলেই গাড়ি নিয়ে হনহন করে চলে গেলো আয়ান।
শখ হাতের দিকে তাকিয়ে দেখে সময় মাত্র আর দুই মিনিট এখন কি করে যাবে সব হয়েছে এই বজ্জাত ব্যাডার জন্য।এখন কি করমু হায় আল্লাহ মালুম।
গাড়ি না নিলে পৌঁছাতে পারবো না।শখ তাড়াতাড়ি করেএকটা গাড়ি ডেকে নিয়ে বললো একটু তাড়াতাড়ি চলুন মামা।
আসুন এবার পরিচিত হই।এই যে এতক্ষণ ধরে শখ যার সাথে ঝগড়া করছিলো।সে,আমাদের গল্পলের নায়ক আয়ান চৌধুরী দেখতে মাশাল্লাহ।যাকে বলে ক্রাস বয়।দেখতে বেশ লম্বা।গায়ের রং ফর্সা।আয়ান বাবা মায়ের এক মাত্র ছেলে।বাবা বিজনেস করে।আয়ানের বাবা নাম করা বিজনেস ম্যানদের মধ্যে একজন। আয়ানের মা গৃহিনী।আয়ানে বড় দুই বোন আছে।একজনের বিয়ে হয়েছে। (এখনই যদি সব বলে দেই তাহলে গল্পে কি লিখবো আসুন মূল গল্পে ফিরে আসি।)
শখ গাড়ি থেকে নেমে দৌড়ে ক্লাস রুমের দিকে গেলো।
ক্লাস শুরু হয়ে গেছে হায় আল্লাহ মালুৃম আমাকে এখন রুমে প্রবেশ করতে দিব না গো।
শখ:মে আই কাম ইন স্যার।
–নো,আর অলরেডি লেট।
–সরি স্যার আর হবে না আসলে আজ রাস্তায় অনেক জ্যাম ছিলো যার কারনে দেরি হয়ে গেলো।কাল থেকে আর লেট হবে না।
আয়ান এবার পেছনে ঘুরে শখকে দেখেই মাথা যেনো আগুন লেগে গেলো।
শখ:আপনি।
–তুমি এখানে।
–আজব আমাদের কলেজে আমি আসবো না তাহলে আপনি আসবেন।আচ্ছা খারাপ লোক তো আপনি। আমাকে ফলো করতে করতে এখানে চলে আসছেন লজ্জা করে না আপনার। আমাকে তো সেই বড় বড় জ্ঞান দিলেন।এখন আপনি করলেন।
শখরে আজ তুই গেলি আয়েশা মনে মনে বললো।
আয়ান আর নিজেকে দমিয়ে রাখতে পারলো না রেগে শখকে ধমক দিলো ভয়ে শখ শেষ।
–এখনি আমার ক্লাস থেকে বেড়িয়ে যাও।এমনিতে দেরি করে আসছো আবার উলটা পালটা কথা বলছো তোমাকে আমি এক সেকেন্ড আর ক্লাস রুমে দেখতে চাই না।
শখ এবার ভয়ে পেয়ে যায়।
–সরি স্যার আর হবে না।ভুল হয়ে গেছে এবারের মতো মাফ করে দিন স্যার আমি বুঝতে পারি নাই।
–আমি এক কথা বারবার বলা পছন্দ করি না।গেট আউট।এমনি তেই ক্লাসে অনেকটা সময় তুমি নষ্ট করে দিয়েছো।
আয়ান অনেক রেগে গেছে তাই আর শখ কোনো কথা না বলে চুপচাপ ক্লাসে বাহিরে হয়ে দরজার দাড়িয়ে আছে।
আয়ান:কি হলো তুমি ওখানে দাড়িয়ে আছো কেনো তোমাকে না বললাম চলে যেতে।
শখ:আমি তো রুমে নেই স্যার,আমি বাহিরে দাড়িয়ে থেকে তো আপনার ক্লাসটা দেখতেই পারি।
আয়ান:দাঁড়িয়ে থাকো কিন্তু দেখো আমার ক্লাসের সমস্যা না হয় বলে দিলাম।
বলেই আয়ান ক্লাস করা শুরু করে দিলো।
–শালা বজ্জাত ব্যাডা একে তো আমাকে গাড়ি চাপা দিয়ে মেরেই ফেলতে লাগছিলো।এখন আবার পুরো ক্লাসের সামনে অপমান করলো শালা তোরে দেইখা নিমু আমি।না হলে আমি নাম ও শখ না হুম।

পর্ব ০২ রাগী টিচার যখন রোমান্টিক হাসবেন্ড লেখিকা Fabiha bushra nimu

পদার্থ বিজ্ঞান ক্লাস বাদে সব কয়টা ক্লাস করলো শখ।এখন ব্রেক টাইম।
ক্যান্টিনে গোল হয়ে বসে আছে শখ,আয়েশা,স্নেহা,মেধা,আমান,সিয়াম,কাব্য।
আয়েশা:বইন,তোর সাহস কম না।তুই কি করে স্যারের থাকে ঝগড়া করলি।স্যার যে রাগি রে বইন আমাদের প্রথম দিন-ই উল্টা ঝুলিয়ে দিয়েছে।আমি তোকে কতো বার চোখ ইশারা করে বুঝিয়ে দিতে চাইলাম।কথা বলিস না। তুই আমার দিকে তাকালি না উল্টো স্যারের সাথে সেকি ঝগড়া। বাপ রে বাপ।তুই কি স্যারকে আগে থেকে চিনতি নাকি রে।
সবাই শখের দিকে তাকিয়ে আছে।শখ কোনো কথা বলছে না।চুপচাপ খেয়ে যাচ্ছে।সবাই এমন ভাবে শখের দিকে তাকিয়ে আছে মনে হচ্ছে ও চিড়িয়াখানার কোনো প্রাণী।
শখ:তোরা আমার দিকে এভাবে তাকিয়ে আছিস কেনো।আমাকে দেখে তোদের চিড়িয়াখানার প্রাণী মনে হচ্ছে।
সিয়াম:তোর এই কুত্তা,বিলাই চেহারা নিয়ে।ঐ সুন্দর চিড়িয়াখানার প্রাণীদের মাঝে বড্ড বেমানান লাগবে হে রমনী।আর তুই কি না।ঐ,সুন্দর সুন্দর প্রাণীদের সাথে তোর তুলনা করছিস।কোথায় তুই আর কোথায় ওরা।
শখ সিয়ামের চুল টেনে ধরলো।
–নিজেক আয়নায় দেখেছিস তোমাকে আহট এর খুচরোর মতো লাগে।তোর থেকে আহট এর খুচরো বেশি সুন্দর।
–কি তুই আমাকে ভুতের সাথে তুলনা করছিস জানিস কতো সুন্দর কতো মেয়ে আমার পেছনে ঘুরে।
–হ মেয়েদের রুচি এতটা খারাপ হয়ছে যে তোর মতো ছাগলের পেছনে ঘুর ঘর করবে।যাদের রুচি খারাপ তারা’ই তোর পেছনে ঘুরে।
–কি বললি আমি ছাগল।তুই ছাগল।তোর বর ছাগল। তোর পুরো শশুর বাড়ির লোক ছাগল। তুই যার কপালে আছিস বেচারার কপাল পুড়ছে।আমি খুব চিন্তা হয় জানিস তোর বরের জন্য।
–চিন্তা করতে করতে মরতে’ও তো পারিস শালা।অনেক দিন হলো চল্লিষা খাই না।তুই মরলে অনেক দিন এর ইচ্ছা পূরন হতো আরকি।
–শখ তুই এভাবে বলতে পারলি।
কাব্য:কে মরবি সেটা বড় বিষয় না।বড় বিষয় হচ্ছে খেতে পেলে’ই হলো।
আয়েশা:শালা ছুঁচা কোথাকার লজ্জা করে না অন্যের টাকার খাবার খেতে চাস পারলে নিজে কামায় করে খা।আর যদি কামায় করতে না পারিস তাহলে তুই নিজেই মরে যা।আর নিজের চল্লিষা নিজে’ই খা।
আয়েশার কথা শুনে সবাই হো হো করে হেসে উঠলো।
কাব্য:আমি যদি মরে’ও যায় না কেনো আমর আব্বু,আম্মুরে কমু তোগোরে যেনো মনের ভুলে’ও দাওয়াত না দেয়।
স্নেহা:তুই ভাবলি কি করে যে আমরা দাওয়াত এর জন্য অপেক্ষা করবো।বিনা দাওয়াতে চলে যাওয়া লোক আমরা।কি বলিস সবাই। একটু ভাব নিয়ে বললো।
সবাই সম্মতি জানালো স্নেহার কথায়।
আমান:তোরা থামবি এসব কথা বাদ দিয়ে আসল কথায় আসা যাক।
মেধা:কিসে আসল কথা রে।
আয়েশা:শখ,স্যার কে চিনে কি করে এটা এখনো বলে নাই। আগে ওর থেকে সবটা শুনবো তারপরে সব কথা বলেই সবাই শখকে চেপে ধরলো।তখন শখ মাথায় শয়তানি বুদ্ধি এনে বললো।
–আমি তোদের সবটা বলতে পারি কিন্তু আমার একটা শর্ত আছে।
সবাই একসাথে বলে উঠলো কি শর্ত।
তোদের সবাইকে একটা সাহায্য করতে হবে।
কাব্য:এটা কোনো বিষয় হলো নাকি বল কি করতে হবে।
আমান:তুই সাহায্য চাইবি আর আমরা করবো না।তাই কখনো হয়।
শখ:আরে শালা আমার কথা শুন আগে।
আমান:তুই আমার কোন বোনকে বিয়ে করছিস সারাদিন শালা শালা করিস।
শখ:তুই চুপ করবি নাকি তোর ঘাড় মটকে দিব আমি।
সিয়াম:রাক্ষসি মেয়ে একটা।তোকে আবার বিশ্বাস নেই। দিতেও’ পারিস।এই সবাই ওর থেকে দূরে সরে যা।
শখ:সিয়ামের বাচ্চা আজ তোকে খাইছি।
সিয়াম:আমরা কোনো বাচ্চা নেই তাই তুই খেতে’ও পারবি না হিহিহি।
শখ রাগি চোখ নিয়ে সিয়ামের দিকে তাকালো।
সিয়াম:আমি তো মজা করছিলাম বাবু তুই রাগ করছিস কেনো।
শখ:আমাকে দেখে তোর বাচ্চা মনে হয়।যে বাবু ডাকছিস তুই। অনেকটা রেগেই বললো শখ।
সিয়াম:না তোকে দেখে আমার রাস্তার টোকাই মনে হয়।
সিয়াম বাঁচতে চাইলে পালা সবাই মিলে দিলো দৌড় শখ’ও কম যায় কিসে জুতো হাতে নিয়ে ওঁদের পেছনে থেকে তাড়া করতে লাগলো।
একসময় এসে আশেয়া বললো।(আশেয়া শখের বেস্ট ফ্রেন্ড)
আয়েশা:থাম বইন আর পারছি না।
শখ:থামতে পারি আরে বল তোরা সবাই আমাকে সাহায্য করবি।
সিয়াম:করবো এবার তো বল কি করতে হবে টোকাই না মানে শখ।
তারপের শখ ওঁদের সবটা বুঝিয়ে দিলো শখের কথা শুনে সবাই একসাথে বলে উঠলো অসম্ভব।
শখ:তারমানে তোরা আমাকে সাহায্য করবি না তাই তো।
আমান:কিন্তু তোকে স্যার করেছে টা কি যে তুই স্যারের সাথে এমন করবি।
তারপরে শখ সকালের সব ঘটনা সবাইকে খুলে বললো সবাই তো অবাক হয়ে গেছে শখের কথা শুনে।শেষ কি না
স্যারকে’ও ছাড় দিলো না শখ।আমি শিওর ঝগড়া করার জন্য যদি কোনো অ্যাওয়ার্ড থাকতো তাহলে সেটা তুই-ই পেতিরে শখ।বলল সিয়াম।
শখ:থাপ্পড় দিয়ে তোর কিডনি লক করে দিব এখন চল কাজে লেগে পড়ি।
আয়েশা:যদি ধরা পড়ে যায়।আমার সেই ভয় লাগছে রে।শখ বাদ দে নারে বইন এমনি আমরা ভালো আছি।
শখ:তারমানে তোরা আমাকে সাহায্য করবি না তাই তো।ওকে যা তোদের সাথে আজ থেকে ব্রেকআপ তোরা কেউ আমার সাথে কথা বলবি না।আমি শখ একাই থাকতে পারি।বলেই শখ চলে যেতে লাগলে।
আমান বলে তুই রাগ করছিস কেনো আমরা কি বলছি তোকে সাহায্য করবো না। কিন্তু ভয় লাগছে আজ স্যারের ক্লাস করে যা বুঝলাম স্যার অনেক রাগী।যদি জানতে পারে আমাদেরকে কলেজ থেকে রাসটিকেট করে দিবে।
শখ:তোরা শুধু শুধু ভয় পাচ্ছিস কিছু হবে না। আমি শখ থাকতে তোদের কোনো সমস্যা হতে দিব না।
সিয়াম:যা করার কাল করবি আজ আর কিছু করতে যাস না। পাকনামির ফল পেয়ে যাবি।
সিয়ামের কথায় শখ বাদে সবাই সম্মতি জানালো।শখের আর কি করার ওঁদের সাহায্য ছাড়া নিজে একা কিছু করতে’ও পারবে না।
সবাই যে যার মতো বাসায় চলে গেলো।পরের দিন সকাল বেলা শখ আজ অনেক আগে বাড়ি থেকে বেড় হয়েছে।কারন তাড়াতাড়ি কলেজে গিয়ে ক্লাস রুমে প্রবেশ করতে পারে।না হলে ব্যাডা খাটাশ আবার দেরি হলে রুমে টুকতে দেয় না।ক্লাস রুমে প্রবেশ করে দেখে দশ মিনিট আগে ক্লাস রুমে প্রবেশ করছে শখ।
–যাক বাবা আজ আগে আসতে পারছি।শালা হনুমান। আজ দেখবো কেমনে আমাকে রুম থেকে বের করসি।
–কিরে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কি বিরবির করছিস তুমি বলল আয়শে।
শখ গিয়ে আয়েশার পাশে বসতে বসতে বললো।
–আরে খচ্চর ব্যাডার আগে আজ ক্লাস রুমে আসছি।আজ দেখবো।শালা খাটাশ ব্যাডা আমারে কেমনে বের করে।শালার জীবন তেজ পাতা বানায় দিমু।আমারে তো চিনে না।আমি’ও শখ।দেখায় দিমু।
আয়েশা:বলছি একটা বার ভাব বইন।
শখ:কি ভববো রে তোর ইচ্ছে হলে আমাকে সাহায্য করিস না।তা-ও কথা বলিস না।চুপ থাক।
আয়েশা:আচ্ছা রেগে যাচ্ছিস কেনো।ঐ দেখ স্যার আসছে।
শখ তাকিয়ে দেখলো সত্যি।
ক্লাসের সব মেয়েরা হা করে আয়ানের দিকে তাকিয়ে আছে।পারে তো আয়ানকে চোখ দিয়ে গিলে খেয়ে ফেলে।
কয়েকজনের মধ্যে ঝগড়া লেগে গেছে।
একেক জন একেক রকমের কথা বলছে।
–শুন ওটা তোদের দুলাভাই হয়।একদম নজর দিবি না কেমন।
–তোর লজ্জা করে না ভাইয়ের মতো স্যারকে স্বামী বানানোর স্বপ্ন দেখতে। স্যার শুধু আমার।
–তোরা ঐ আশায় বসে থাক তোদের থেকে সব দিক দিয়ে আমি এগিয়ে।আমার বাবার অনেক টাকা আছে বাড়ি আছে গাড়ি আছে।আমি দেখতে’ও অনেক সুন্দর। তাছাড়া আমি খুব ভালো ছাত্রী আর টিচারা সব সময় ভালো ছাত্রীদের পছন্দ করে।তাই স্যারের বউ আমি হবো।
–বললেই হলো নাকিরে।বাড়ি গাড়ি টাকা থাকলে’ই হয় না।তোর থেকে ভালো ছাত্রী আমি।তাই তোরা স্যারের আশা ছেড়ে দে।স্যার শুধু আমার।
–সময় হলেই দেখা যাবে স্যার কার স্যার তো আমার-ই হবে তোরা দেখে নিস।
এদের ঝগড়া দেখে শখের বিরক্ত লাগছে কি এমন আছে ঐ হনুমানটার ভেতরে যে সবাই এত পাগল হয়ছে।
এসব কথা ভাবছিলো শখ কখন যে আয়ান এসে শখের সামনে দাড়িয়েছে সেদিকে শখের খেয়ালই নেই।
আয়ান:এটা পড়াশোনা করার জায়গা চিন্তা ভাবনা কারার জায়গা না।যদি চিন্তা করতেই হয়।বাহিরে গিয়ে করো।
শখ আয়ানের দিকে না তাকিয়েই বললো।
–এটা পোড়ানোর জায়গা জ্ঞান দেওয়ার জায়গা না।আপনাকে এখানে পড়ানোর জন্য রাখা হয়েছে জ্ঞান দেওয়ার জন্য না।তাই জ্ঞান না দিয়ে চুপচাপ পড়ান।
সবাই অবাক হয়ে শখের দিকে তাকিয়ে আছে।
শখ এরাব নিজের খেয়ালে এসে বুঝতে পারলো কতো বড় বেয়াদবি করছে সে। সামনে তাকাতেই দেখলো আয়ান রক্ত চক্ষু নিয়ে শখের দিকে তাকিয়ে আছে।
শখ এবার মাথা নিচু করে বললো।
–স্যারি স্যার আমার ভুল হয়ে গেছে আমি আর কখনো এমন ভুল করবো না ক্লাসে অমনোযোগী হবো না।আমাকে এবারের মতো মাফ করে দিন।
–এদিকে এসো।
–স্যারি স্যার আর হবে না আমাকে ক্লাস থেকে বের করে দিবেন না দয়া করে।
আয়ান এবার ধমক দিয়ে বললো।
–তুৃমি কানে কম শুনো।তাহলে ভালো একটা ডক্টর দেখাও।আমি তোমাকে এদিকে আসতে বলছি তোমার থেকে কোনো অজুহাত শুনতে চাই নাই।একে তো ক্লাসে অমনোযোগী ছিলে।তার ওপরে মুখে কথা বলছো।আমার এমন ছাত্রীর দরকার নেই বেড়িয়ে যাও।বলছি।
আয়ান এতটাই রেগে গেছে যে আয়ানের ধমন শুনে শখ ভয়ে কিছুটা কেঁপে উঠে। পুরো ক্লাস একদম স্তব্ধ হয়ে গেছে। সবার দৃষ্টি এখন শখ ও স্যারের দিকে।
আয়ান আবার ও বলে উঠলো।
–আমি এক কথা বারবার বলতে পছন্দ করি না।ভালো কথা কানে যাচ্ছে না।তোমার জন্য পুরো ক্লাসের সমস্যা হচ্ছে আমি তোমার জন্য আমি আমার ক্লাসের মূল্যবান সময়টুকু নষ্ট করতে চাচ্ছি না।বেড়িয়ে যাও বলছি।
শখ:সরি,স্যার আর হবে না।শেষ বারের মতো মাফ করে দিন।কান্না করতে করতে বললো শখ।
আয়ান কিছু একটা ভেবে বললো ঠিক আছে ক্লাসের ভেতরে থাকবে তুমি।
–শখ খুশি হয়ে বললো সত্যি স্যার।
–আয়ান বললো হ্যাঁ সত্যি এখন বেড়িয়ে আসো।
–এ্যাঁ..
–এ্যাঁ নয় হ্যাঁ বেড়িয়ে আসো।
–বেড়োবো কেনো স্যার।
–আয়ান ধমন দিয়ে বললো সেই কৈফিয়ত কি আমি তোমাকে দিব।
শখ ভয়ে চুপচাপ বেড়িয়ে আসলো।
–এক পা উঁচু করো।
–কি।
–বাংলা কথা বুঝতে পারো না ইংরেজিতে বলতে হবে নাকি।
–না স্যার তুলছি।
–এবার কান ধরো।
–এ্যাঁ।
–এ্যাঁ নয় হ্যাঁ।রাগি চোখ নিয়ে বললো।
শখ এক পা উঁচু করে দুই কান ধরে এক পায়ে দাঁড়িয়ে আছে।
আয়ান:তুমি এভাবে পুরো ক্লাস দাড়িয়ে থাকবে আর এটাই তোমার শাস্তি।আর সবাই দেখে রাখো ভুল করার আগে দশবার ভাব্বে অনন্ত আমার ক্লাসে।অন্য টিচারদের ক্লাসে কি করো জানি না আমার ক্লাসে আমি ভুল পেলেই সবাইকে শাস্তি দিব।
আশা করি আজকের ঘটনা মনে করে হলেও কেউ ক্লাসে সমস্যা তৈরী করবেন না।

পর্ব ০৩ রাগী টিচার যখন রোমান্টিক হাসবেন্ড লেখিকা Fabiha bushra nimu

সবাই ওর দিকে থাকিয়ে না থেকে ক্লাসে মন দেন।তা-নাহলে ওর সাথে সবাইকে দাঁড় করিয়ে রাখবো।কিছুটা জোরে-ই বললো আয়ান।সবাই ভয়ে সামনে ঘুরে ক্লাসে মন দিলো।এদিকে শখ বেচারা এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকতে খুব কষ্ট হচ্ছে। না পারছে বলতে না পারছে সইতে।পুরো ক্লাস এভাবে কান ধরে দাঁড়িয়ে ছিলো স্যার যাওয়ার সাথে সাথে ধপ করে বসে পড়লো।চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি পড়ছে।
আয়েশা:তোকে বলেছিলাম স্যার খুব রাগী।ক্লাসে সাবধানে থাকবি আমার কথা শুনলি না।দেখলি তো খুব কষ্ট হচ্ছে সোনা।
শখ কান্না করতে করতে বললো শালা ব্যাডা রে একবার খালি পাই জন্মের শিক্ষা দিয়ে দিব।আমি না হয় একটু ভুল-ই করেছিলাম তার জন্য কতো,মাফ চাইলাম শালা মাফ তো করলো না উল্টো শান্তি দিলো।এখন সবাই আমাকে নিয়ে হাসাহাসি করছে।
–এই মেয়ে তোমার কাল শাস্তি পেয়ে মন ভরে নাই।তাই জন্য আজ আবার নতুন করে শান্তি নিলে।বলেই পুরো ক্লাসের সবাই হেঁসে উঠলো।
–সব জায়গায় ত্যারামু খাটে না একটু ভালো হও বুঝতে পারলে।এত সুন্দর হিরোর মতো স্যার এর সাথে কেউ ঝগড়া করে।একটু ভালো করে কথা বলতে পারো না।স্যার তো আমাদের সাথে কথা-ই বলে না তা না হলে ঠিক পটিয়ে নিতাম।
শখ:আচ্ছা তোমাদের কি মনে হয়।তোমাদের মতো আমার রুচি এতটাই খারাপ নাকি।যে,ঐ বজ্জাত হনুমান ব্যাডারে পটাতে যামু।আল্লাহ তোমাদের ভালো রুচির অধিকারী করে দিক আমিন।
–এই মেয়ে কি বললে আমাদের রুচি খারাপ।
–সাবধানে কথা বলবে বলে দিলাম।তোমার স্যার কে ভালো না-ই লাগতে পারে কিন্তু স্যার আমাদের সবার ক্রাস।স্যারকে নিয়ে একটা বাজে কথা বললে ছেড়ে দিব না হুম বলে দিলাম।
–আরে দেখ না স্যার আসার পরে থেকে শাস্তি পেয়ে-ই যাচ্ছে তা-ও লজ্জা নেই বুজলি।কেমন আমাদের সাথে তর্ক করেই যাচ্ছে।
–তাহলে কি তোমাদের চুম্মা দিমু ময়নারা।আমি তোমাদের খাই’ও না পড়ি’ও তোমাদের কথা আমার চুপচাপ শুনতে হবে।তা-ও তোমারা আমাকে কার জন্য কথা শুনাচ্ছো।ঐ ছাগলের মতো দেখতে হনুমান ব্যাডার জন্য।
মেধা:শখ তুই স্যারকে এত বকা দিস।যদি স্যারের কানে যায় তাহলে তুই শেষ।
–ওনার কানে গেলে আমার কচু হবে আমি ভয় পাই নাকি হুম।উনি বাঘ না ভাল্লুক যে আমাকে খেয়ে ফেলবে।আমি শখ কাউকে ভয় পাই না।কিছুটা ভাব নিয়ে বললো।
স্নেহা:শখ ঐ দেখ স্যার আসছে।
শখ:আল্লাহ বাঁচাও বিশ্বাস করেন স্যার আমি কিছু বলি নাই কিছু করিও নাই এরা সবাই মিলে আমার সাথে ঝগড়া করছে আমি খুব ভালো মেয়ে আপনার কি মনে হয় আমার মতো মাসুম বাচ্চা কাউকে কিছু বলতে পারে।
চোখ বন্ধ করে একদমে কথাগুলো বলে ফেললো শখ।
আয়ান কোনো প্রতিক্রিয়া না করে ভুলে কলম রেখে গিয়েছিল।সেটা-ই নিতে আসছিলো আয়ান। শখের একটা কথা’ও শুনতে পায় নাই সে।শখের দিকে একবার তাকিয়ে।গটগট করে চলে গেলো আয়ান।
শখ যেনো হাফ ছেড়ে বাঁচল।
আয়েশা:কিরে তুই নাকি ভয় পাস না।এখন তো ভয়ে ভেজা বেড়ালের মতো ম্যাউ ম্যাউ করলি।
–এতক্ষণ তো সেই মুখে ফটর ফটর করছিলে স্যার এর সামনে সব টুস।
শখ:তোদের মতো বান্ধবী থাকলে শত্রুর কি দরকার বল।
মেধা:কি তুই আমাদের শত্রু বললি।যা তোকে আমরা সাহায্য করবো না।আমরা যখন কেউ হয় না তোর।
শখ:এমনিতেও’ তোদের কিচ্ছু করতে হবে না।আজ আমার ভালো লাগছে না আমি বাসায় চলে যাব এখন।পা’টা কেমন জানি অবশ হয়ে আসছে আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারছি না।
বলেই শখ চলে গেলো।
আয়েশা:তোর এভাবে বলা ঠিক হয় নাই। দেখ ও কষ্ট পেয়ে চলে গেলো।সত্যি ওর পায়ের অবস্থা ভালো না পুরো ৪০ মিনিট এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকা তুই কম কিছু মনে করছিস নাকি রে।আমি নিশ্চিত আজ ওর জ্বর আসবে কাল ও কলেজে আসতে পারবে না।তুই থাক দেখি আমি ওর সাথে যাই।
আয়েশা দৌড়ে শখের কাছে আসলো শখের পায়ে ব্যথা শুরু হবার কারনে হাঁটতে সমস্যা হচ্ছে শখ পড়ে যেতে লাগলে।আয়েশা এসে ধরে ফেলে।
শখ:কিরে তুই আসলি কেনো ক্লাস নেই।
–তুই হাঁটতে পারছিস না আর আমি তোকে এভাবে একা ছেড়ে দিব নাকি চল আমি’ও তোর সাথে যাব তোকে বাসায় পৌঁছে দিয়ে তারপরে আমি বাসায় যাব।
–না থাক আমার সাথে কারো যাওয়া লাগবে না।আমি একাই যেতে পারি।আমার কাউকে দরকার নেই।
–ওলে বাবা লে বাবুর লাগ হয়ে গেছে বুঝি।এত কথা না বলে চল তোকে তাড়াতাড়ি বাসায় পৌঁছে দিয়ে আসি।
তারপরে শখ আর কিছু বললো না আয়েশা শখকে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে নিজে’ও বাসায় চলে গেলো।
রাহেলা বেগম:কি রে মা কোনো সমস্যা হয়েছে তোর,তুই কি কোনো ভাবে অসুস্থ নাকি আজ এত বাসায় তাড়াতাড়ি চলে আসলি।
শখ:না আম্মু এমনিতেই ভালো লাগছে না।একটু খারাপ লাগছে তাই চলে আসলাম।
–কি হয়েছে আমার মেয়েটার কি সমস্যা হচ্ছে মাকে বল।আমি কি ডক্টর কে কল করবো।একবার এসে দেখে যেতো তোকে।
–আম্মু তুমি একটুতে-ই এত হাইপার হয়ে যাও কেনো বলো তো আমার কিছু হয় নাই। একটু ঘুমোলে ঠিক হয়ে যাবে।
–তুই সত্যি বলছিস তো।আমি যে কেনো এত হাইপার হয় তুই বুজবি না।যেদিন তুই মা হবি যেদিন বুজবি।
–হ্যাঁ আম্মু সত্যি। ছোট থেকে তোমার এই ডায়লগ শুনে শুনে বড় হলাম গো আম্মু।আর কতো বার শুনাবে।
–যতোদিন বেঁচে আছি।ততোদিন বলবো।আমি মরে গেলে তো আর কেউ বলবে না।
–আম্মু একদম বাজে কথা বলবে না।দিলে তো মনটা খারাপ করে।বলেই শখ রাগে নিজের রুমে চলে গেলো।
পাগল মেয়ে একটা খালি রাগ করে। আমি কি বোঝাতে চাই একটুও বুঝে না।একদিন ঠিক বুঝতে পারবি।যেদিন আমি থাকবো না।
রাত্রে শখের গায়ে জ্বর এসে ভরে গেছে। রাহেলা বেগম আসছিলেন মেয়েকে খাওয়ার জন্য ডাকতে মেয়েটা দুপুরে এসে ঘুমিয়েছে সারাদিন না খাওয়া।ডাকতে এসে মেয়ের গায়ে হাত দিয়ে আঁতকে উঠে।একি জ্বরে তো গা পুরে যাচ্ছে।জ্বর আসলো কখন একটা বার ডাকলো না আমাদের।
–কি গো একটু ওপরে আসো তো দেখো মেয়ের গায়ে জ্বর এসে ভরে গেছে।ডক্টর কে কল করো।
রাহেলা বেগম এর চিৎকার শুনে আহনাফ সাহেব,মুনতাহা,ফিয়াজ সবাই ওপরে চলে আসে।
আহনাফ সাহেব:কি হয়েছে আমার মেয়ের।
ফিয়াজ:মা কি হয়েছে বোনের।
মুনতাহা:সব নাটক সবার থেকে ভালোবাসা নেওয়ার জন্য এসব আমি বুঝি না মনে করছে।এসব নাটক করে তোমাদের সবাইকে ভুলাইতে পারে আমাকে না।যতো সব এস নাটক অন্য কোথাও গিয়ে করতে বলো।
কথা গুলো বলেই মুনতাহা চলে গেলো।
ফিয়াজ:বেয়াদব মেয়ে কোথাকার।আব্বু,আম্মু তোমরা ওকে ঠিক মতো মানুষ করতে পারোনাই।দিন দিন বেয়াদব আরো বেশি হচ্ছে।যেদিন আমার হাতে ও পড়বে ঐদিন’ই ও শেষ।বড়দের সামনে কি করে কথা বলতে হয় জানে না।
–বাবা এখন রাগ করার সময় না।আগে মেয়েটাকে দেখ।
–মা তুমি এক কাজ করো ওকে তুলে খাইয়ে দিয়ে ঔষধ খাইয়ে দাও।তারপরে মাথা পানি পট্টি দিয়ে দাও আমার মনে হয় সুস্থ হয়ে যাবে।যদি তাও জ্বর না কমে তাহলে ডক্টর আংকেল-কে আসতে বলবো।
রাহেলা বেগম শখকে খাবার খাইয়ে ঔষধ খাইয়ে দিলো। সরারাত জেগে শখের সেবা করলো।পরের দিন সকাল বেলা আর কলেজে যেতে দিলো না শখকে এখন আর জ্বর নেই।
শখ:আম্মু তুমি কেনো কাল সারারাত জেগে ছিলে।তুমি জানো না রাত জাগলে মানুষ অসুস্থ হয়ে যায়।
–আমার মেয়েটা যে কাল অসুস্থ হয়ে গিয়েছিল। আমি কি আরামে ঘুমোবো।
–আরামে না ঘুমোতে আমার পাশে তো ঘুমোতে পারতে।
–তুই বুজবি না।যেদিন মা হবি সেদিন বুজবি।সন্তানের কিছু হলে মা কখনো শান্ত থাকতে পারে না।
–শুরু হয়ে গেলো তোমার উলটা পালটা বকবকানি।যাও তুমি গিয়ে ঘুমোও আমি আজ রান্না করছি।
–দেখি জ্বর কমছে নাকি।আর তুই করবি রান্না। ডিম ভাজতে গিয়ে গলা পুরিয়ে ফেলে এই মেয়ে নাকি রান্না করবে।
–তোমার আমাকে কি মনে হয় আম্মু পারবো হুম।
মুনতাহা:শুধু শুধু আমাদের দুপুরের খাবারটা নষ্ট করিস না বুজলি।কামাই তো করিস না।আমার বাবার টাকায় বসে বসে খাস।কিছু একটা কর।আর কতোদিন এভাবে আমার বাবার টাকা ধংস করবি বল।
–আপু তুমি এভাবে বলছো কেনো।বাবা কি তোমার একার নাকি আমার’ও বাবা।আর আমি কি একা একা বসে বসে খাই নাকি।তুমিও তো বসে বসে খাও বড় মেয়ে হিসেবে তোমার দায়িত্ব আগে।আমি তো করবোই আমার সাথে তোমারও দায়িত্ব আছে মনে রেখো।
–বেয়াদব মেয়ে বড় বোনের মুখে মুখে কথা বলিস দেব এক থাপ্পড় সব দাঁত ফেলে দিব বেয়াদব মেয়ে কোথাকার।
–আপু তুমি আমার সাথে সব সময় এমন করো কেনো বলো তো আমি কি দোষ করছি যে তুমি আমাকে সব সময় অপমান করো।দেখতে পারো না।আমার তো এখন মনে হয় তুমি আদো আমার নিজের বোন তো।
–তুই তোকে দেখতে পারার মতো কি কাজ করছিস সব সময় বেয়াদবের মতো মুখে মুখে কথা বলসি।আপদটা বিদায় হলে বাচিঁ।
রাহেলা বেগম:মুনতাহা ছোট বোনের সাথে এ তোমার কেমন ব্যবহার।
–ও আমার কিসের ছোট বোন ওর মতো বেয়াদব মেয়েকে আমি ছোট বোন হিসেবে মানি না।
বলেই চলে গেলো মুনতাহা। শখ দাঁড়িয়ে কান্না করছিলো রাহেলা বেগম শখের চোখের পানি মুছে দিয়ে জড়িয়ে ধরে বললো কাদিস না মা।
–আম্মু আপু আমাকে কেনো দেখতে পারে না আমি কি করছি যার জন্য আপু আমাকে সয্য করতে পারে না।
–মন খারাপ করিস না মা দেখবি একদিন মুনতাহা ঠিক ওর ভুল বুঝতে পারবে আর তোকে অনেক অনেক ভালোবাসবে।
–কবে আসবে সেই দিন।আর কতো অপেক্ষা করবো সেই দিন এর।
আর কাঁদিস না তো চল আজ তোকে আমি রান্না করা শিখাবো।শখ এবার চোখের পানি মুছে কিছুটা খুশি হয়ে বললো
–সত্যি আম্মু।
–হ্যাঁ,সত্যি এবার চল আমার সাথে। তারপরে শখ তার মায়ের সাথে রান্না ঘরে চলে গেলো।

পর্ব ০৪ রাগী টিচার যখন রোমান্টিক হাসবেন্ড লেখিকা Fabiha bushra nimu

পরের দিন সকাল বেলা শখ আগে ভাগে রেডি হয়ে নিলো।যাতে কলেজে পৌঁছাতে দেরি না হয়।শখকে এত সকাল সকাল নিচে নামতে দেখে শখের আম্মু বলে উঠলো।
–আচ্ছা আমি কি ভুল দেখছি নাকি।সূর্য আজ কোন দিকে উঠছে।আমার ঘুম পাগলি মেয়েটা আজ এত সকাল সকাল উঠে পড়লো।
–দেখো তোমার মেয়ে কোথাও কিছু করছে নাকি।আজ কাল তো দেখি সকাল উঠে কলেজে যায়।যে মেয়ে এত ঘুমায় ডেকে’ও ঘুম থেকে তোলা যায় না সে মেয়ে নিজে থেকে ঘুম থেকে উঠে।আমার মনে হয় ও নিশ্চিয় প্রেম করছে।বলল মুনতাহা।
–আব্বু তুমি কিযে বলো না।আমি তোমাকে আগেই বলছিলাম আমাদের কলেজে নতুন টিচার আসছে খুব রাগি দেরি হলে ক্লাস রুমে প্রবেশ করতে দেয় না।তাই জন্য আগে যায় আর কিছু না।বলল শখ।
–দেখলি তো তুই শুধু শুধু আমার মেয়েটাকে ভুল বুজিস।আমার মেয়ে প্রেম করার মতো মেয়েই না।যদি-ও বা করতো তোকে না বললে আমাকে নিশ্চয় বলতো।তাই না জেনে শুনে আমার মেয়ে নামে বাজে কথা বলবি না।
–সারাদিন খালি আমার মেয়ে আমার মেয়ে।বলি কি ও একটাই মেয়ে তোমার আমরা কেউ না।তুমি এমন ভাব করো যেনো তুমি আমাদের সৎ মা।
–মুনতাহা এসব কি বলছিস তুই।
–ঠিকি বলছি।আমার তো মনে হয় আদোও তুৃমি আমার নিজের মা তো।আমার সন্দেহ হয়।
–আপু তুমি আম্মুর সাথে এমন ব্যবহার করছো কেনো।ভালো কথা বললেও তুমি সেটা খারাপ ভাবে নাও।একটু ভালো ভাবে নিলেই তো আর সমস্যা হয় না।
–এই মেয়ে তুই চুপ থাক এখন আমি কি করবো না করবো তোকে বলে তোর থেকে অনুমতি নিয়ে করতে হবে নাকি।যতো সব।
–আম্মু আমি আসছি।বলেই মুনতাহার কথার কোনো উওর না দিয়ে না খেয়ে চলে গেলো শখ।সে জানে এখানে কথা বললে কথা বাড়বে বয় কমবে না।
শখ কলেজে পৌঁছে ক্লাস রুমে আসতেই দেখলো সবাই ওর দিকে কেমন করে তাকিয়ে আছে।
শখ:কিরে কি হয়েছে সবাই আমার দিকে এভাবে তাকিয়ে আছে কেনো রে।
আয়েশা:আর বলিস না সোনা কি হয়ছে জানিস।
শখ:কি হয়েছে।
মেধা:তুই কাল কলেজে আসিস নাই তাই স্যার তোর কথা জানতে চেয়েছিলেন।
স্নেহা:তারপরে থেকে সবাই খুব করে হিংসা করছে দেখতে পারছে না।
শখ:আচ্ছা এখন বুজলাম সবাই কেনো আমার দিকে ওমন করে তাকিয়ে ছিলো আরে ভাই আমি অসুস্থ ছিলাম তাই আসি নাই। আর স্যার স্টুডেন্টর কথা জানতে চাইতেই পারে তাই বলে এমন করা লাগবে।
আয়েশা:আমি’ও ঐডাই কই।
আয়ান:এটা ক্লাস রুম গল্প করার জায়গা না।গল্প করার জন্য বাহিরে মাঠ আছে।যাও গিয়ে বসে গল্প করো।
ওরা গল্প করছিলো আয়ান যে কখন এসে ওদের পেছনে দাঁড়িয়ে আছে সেদিকে খেয়ালই ছিলো না।
শখ:সরি স্যার আর হবে না।আসলে আমরা বুঝতে পারি নাই। আপনি কখন আসলেন।
আয়ান:সেই কৈফিয়ত তোমাকে দিতে হবে নাকি।আমার ক্লাসে সময় যখন থেকে শুরু আমি নিশ্চিয় তার আগে বা পরে আসবো না।
শখ:সরি স্যার আর হবে না আমাদের সময়ের দিকে খেয়াল রাখা উচিত ছিলো।
আয়ান:চুপচাপ গিয়ে বসো আমার ক্লাসের সময় নষ্ট হচ্ছে।আর যদি গল্প করতে চাও তাহলে বেড়িয়ে যেতে পারো।বলেই আয়ান ক্লাস শুরু করলো।
চার বান্ধবী মিলে চুপ চাপ বসে ক্লাস করলো।
মাঠে গোল হয়ে বসে আছে শখ ও তার দল।
–শালা বজ্জাত ব্যাডা আমারে পাইছে কি হুম।এমন কোনোদিন নেই যে আমাকে অপমান করতে ছাড়ে না।আজ মজা দেখামু।সবকিছু রেডি তো।
সিয়াম:সবকিছু রেডি।এবার তুই রেডি হ।
আয়েশা:বইন আরেক বার ভেবে দেখ,আমার সেই ভয় লাগছে।যদি ধরা পড়ে যাই।তাহলে আমরা সবাই শেষ।
স্নেহা:তোর কথা শুনে আমারও’ ভয় লাগছে বইন।
শখ:দেখ বইন শেষে এসে সবকিছু এলোমেলো করে দিস না।
তোরা থাম আমি কাজটা করে আসি।
শখ চুপিচুপি আয়ানের রুমে গিয়ে কিছু একটা করে চলে আসলো।
আমান:তোর সাহস আছে বলতে হবে।বাকি কাজটা কখন করবি।
–শালা বজ্জাত ব্যাডার ক্লাস শেষ।এখনি বেরোবে।দেখি সর আমাকে গাছের সাথে দরি বাঁধতে দে।
তারপরে শখ গাছের সাথে দড়ি বেঁধে নিলো।
আয়ান যাচ্ছে সবাই ওর দিকে তাকিয়ে আছে কেউ কেউ মুখ টিপে হাসছে।আয়ান ভ্রু কুঁচকে আঁড়চোখে সবার দিকে তাকাচ্ছে। হলোটা কি সবাই ওর দিকে এমন ভাবে তাকিয়ে আছে কেনো।
আয়ান দাঁড়িয়ে একটা ছেলেকে কিছু বলতে যাবে।ছেলেটা আয়ানের হাতে একশ টাকার একটা নোট ধরিয়ে দিয়ে চলে গেলো।আজব ব্যাপার আমাকে টাকা দিলো কেনো।প্রচন্ড রাগ লাগছে আয়ানের।আমি জোকার নাকি সবাই আমার দিকে তাকিয়ে আছে।আবার টাকা দিচ্ছে।
এই শুনো।
–জ্বী,স্যার বলুন।
–আচ্ছা আমাকে দেখে কি জোকার মনে হচ্ছে।
–না,স্যার।এমন কথা বলছেন কেনো।
–তাহলে সবাই আমাকে দেখে হাসছে কেনো।একটা ছেলে আমাকে টাকা দিয়ে গেলো।মনে হয় আমি ফকির ওর থেকে ভিক্ষা চেয়েছি তাই আমাকে দান করে গেলো।অনেকটা রেগেই বললো আয়ান।
এবার ছেলেটা আয়ানকে বেশ ভালোভাবে দেখে ছেলেটা’ও হাসা শুরু করলো।
–কি হলো তুমি হাসছো কেনো।রেগে বললো।
–স্যার হাসবো না আপনি যদি এভাবে পিঠে এসব লিখে ঘুরে বেড়ান তাহলে শুধু আমি না সবাই হাসবে।
–মানে তুমি কি বলতে চাইছো।
–ওয়েট স্যার আমি আপনাকে দেখায়।
বলেই ছেলেটি আয়ানের পিঠে থেকে একটি কাগজ এনে দিলো।কাগজ টি দেখে আয়ানের মাথায় আগুন ধরে গেলো কে করেছে এই কাজ।
–স্যার আমি জানি না।আপনার পিঠে থাকা কাগজের লিখা দেখে সবাই হাসছে কি লেখা।মাইরি।রাম গরুরের ছানা।হাসতে তাদের মানা।তারা মাঠে পারে ডিম তাদের খারা দুটো শিং।যে যা পারেন দয়া করে সাহায্য করে যান কিছু। বলেই ছেলেটি হাসা শুরু করলো।
–shut up.আমাকে দেখে খুব হাসি পাচ্ছে তাই না।আমি যদি যানতে পারি কে এই কাজ করছে।তার কি পরিমান শাস্তি অপেক্ষা করছে সে নিজেও জানে না।স্যারদের সাথে বেয়াদবি কররা সাধ মিটিয়ে দিতাম।আমি তো খুঁজে বের করবোই কে এই কাজ করেছে।
বলেই আয়ান রাগে গজগজ করতে করতে চলে যেতে লাগলো।একটু দূরে আসতেই ওপরে থেকে আয়ানের মাথায় কিছু একটা পড়লো আয়ান চোখ মেলে তাকাইতে পারছে না।কি বাজে গন্ধ।
এবার আয়ানের রাগ চরম পযার্য়ের উঠে গেলো।
আয়ান:আমার মাথায় গোবর পানি কে ফেললো।আমি জানতে চাইছি কে ফেললো।প্রচুর রেগে বললো।
–স্যার আমরা কেউ করিনি।কে করেছে আমরা জানি না।দেখিও নাই।
–আমি তো খু্ঁজে বের করবোই।কাল এর শাস্তি ওরা পাবেই।আমি যে কতোটা খারাপ হতে পারি ওরা নিজেও জানে না।নিজেদের খুব চালাক মনে করে তাই না।বলেই আয়ান চলে গেলো।
শখ:শালা বজ্জাত ব্যাডা।ঠিকহয়েছে বেশ হয়েছে।এখন কেমন লাগে।আমাকে সারাদিন বকাঝকা করে আমাকে। এবার বুঝুক শখ কি জিনিস আর কোনোদিন শখের সাথে লাগতে আসবে।
আয়েশা:শখ মনে হয় আমরা শেষ স্যার আমাদের ধরে ফেলছে মনে হয় র।দেখলি না।স্যার শেষে কি বলে গেলো।আমার মনে হয় আর পড়াশোনা করা হবে না আমাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিবে রে।
কাব্য:তাড়াতে মর তাহলে চল্লিষা খেতে পারবো রে।এমনি তে অনেক ক্ষুদা লাগছে আমার চল কিছু খাওয়াবি।
আয়েশা:চল তোকে বিষ কিনে দেই।তুই বিষ খা তাও চুপ করে থাক।আশা করি বিষ খেলে তোর আর কিছু খেতে ইচ্ছে করবে না।
কাব্য:দেখলি তো সিয়াম কি বললো।
সিয়াম:ঠিকি বলছে বিষ খেলে আর তোর ক্ষুদা লাগবে না।তোর বাবা মায়ের ভাত বেঁচে যাবে।
বলেই সবাই হেসে উঠলো।
কাব্য:আমি যদি মরে যাই তাহলে তোদের ঠিক মনে পড়বে ছেলেটা খেতে চেয়েছিলো খাওয়ায়লাম না।তই বলছি আফসোস করার থেকে বেঁচে আছি আমাকে খাইয়ে দে।
শখ:তুই মরে গেলে যে আমরা সবাই খেতে পারবো।তুই তো একা খাবি আর তুই মরে গেলে আমরা সবাই খাতে পারবো।এখন বল তুই তোর একার কথা ভাববি নাকি আমাদের সবার কথা ভাববি।
কাব্য:তোরা এত খারাপ আমি মরে গেলে আব্বু আম্মুরে কমু তোদের যেনো দাওয়াত না দেয়।
মেধা:দাওয়াতের দরকার নেই ভাই তুই শুধু মর বাকিটা আমরা বুঝে নিব।
কাব্য:আমি মরলে তোদেরকে মেরে৷মরবো।
আয়েশা:কচু কি শুরু করলি চল বাসায় যায়।দেরি হয়ে যাচ্ছে।দেরি হলে বাসায় বকা খেতে হবে আবার।
সবাই মিলে বাসায় চলে গেলো পরের দিন সকাল বেলা সবাই কলেজে ক্লাস রুমে বসে।আয়ান ক্লাসে প্রবশে করতেই। সবাই উঠে দাঁড়িয়ে সালাম দিলো।আয়ান এবার সবাইকে বসতে বললে সবাই বসে পড়লো।
আয়ান আজ প্রচন্ড রেগে আছে দেখেই বোঝা যাচ্ছে। ক্লাস শেষ করেই।
এক এক করে নাম বলতে শুরু করলো।
আয়ান:কাব্য,সিয়াম,আমান,মেধা,আয়েশা,স্নেহা,শখ।সবাই আমার কেবিনে চলে আসো।চোখ গরম করে বলেই চলো গেলো।
আয়ানের কথায় সবাই উঠে দাড়ালো তারপরে সবাই একজন আরেকজনের মুখ চাওয়া চাওয়ি করছিলো।
আয়েশা:আমি তোকে বলছিলাম শখ স্যার সবকিছু ধরে ফেলছে।আজ আমরা শেষ। আমাদেরকে কলেজ থেকে বের করে দিবে।আমাকে বাসা থেকেও বেড় করে দিবে। এখন আমার কি হবে।
শখ:শুরু হয়ে গেলো তোর নাটক কিছু হবে না।চল তো।স্যার মনে হয় কোনো কারনে ডাকছে।তুই শুধু শুধু ভয় পাচ্ছিস।
মেধা:আমি কিছু জানি না আমাদের কি বললে আমরা বলে দিব তুই সবকিছু করেছিস।
শখ:আচ্ছা বাবা তোরা তাই বলিস আমি চাই না আমার জন্য তোদের কোনো সমস্যা হোক চল এবার সবাই যাই।
স্নেহা:সবাই আমাদের দিকে কেমন করে তাকিয়ে আছে দেখ।
শখ:ঐ সব দেখে আমাদের কোনো কাজ নেই চল।বলেই সবাই চলে গেলো।

পর্ব ০৫ রাগী টিচার যখন রোমান্টিক হাসবেন্ড লেখিকা Fabiha bushra nimu

সবাই আয়ানের কেবিনের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। সবাই খুব ভয় পাচ্ছে।শখ প্রথমে সাহস দেখালে এখন মনে মনে সেও খুব ভয় পাচ্ছে।
শখ কিছুটা সাহস নিয়ে বললো।
–আসতে পারি স্যার।
–আসো তোমাদের জন্য অপেক্ষা করছিলাম।
–স্যার আমাদের কেনো ডেকে ছিলেন।
আয়ান তার ল্যাপটপ সামনের দিকে ঘুরিয়ে দিলো।ভিডিও দেখে সবার হাত পা রীতিমতো কাপাকাপি শুরু হয়ে গেছে। আয়ান রাগি দৃষ্টি নিয়ে ওদের দিকে তাকিয়ে আছে।সবাই একসাথে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে।
আয়ান:তোমাদের সবার বাবা মায়ের নাম্বার দাও।
আমান ও মেধা:সরি স্যার আমাদের ভুল হয়ে গেছে এবারের মতো মাফ করে দেন।আপনাকে কথা দিচ্ছি এমন ভুল কোনোদিন করবো।প্লিজ বাসায় জানাবেন না।তাহলে আমাদেরকে মেরেই ফেলবে।
–আমি তোমাদের থেকে নাম্বার চেয়েছি।কোনো অজুহাত শুনতে চাই নাই। তাড়াতাড়ি তোমাদের বাবা মায়ের নাম্বার দাও।আমি এক কথা বার বার বলতে পছন্দ করি না।অনেকটা রেগে বললো।
শখ বাদে এবার সবাই কান্না করতে করতে আয়ানের পা ধরে বললো স্যার ভুল হয়ে গেছে এবারের মতো মাফ করে দেন আর কোনোদিন এমন ভুল করবো না।যদি করি তাহলে আমাদের কলেজে থেকে বের করে দিয়েন।দয়া করুন স্যার।
আয়ান কিছু ভেবে বললো বেশ আমি তোমাদের মাফ করবো আর যে ভুল করে পরে সে যদি তার ভুল বুঝতে পারে তাহলে তাদের একটা সুযোগ অবশ্য’ই দেওয়া উচিৎ।
সবাই মিলে বললো সত্যি স্যার আমাদের মাফ করে দিয়েছেন।
–আরে এত খুশি হবার কিছু নেই ভুল যখন করেছো শাস্তি তোমাদের পেতেই হবে।এখন যদি তোমাদের শাস্তি না দিয়ে মাফ করে দেয় তাহলে নেক্সট টাইম আবার এমন ভুল করবে।
আমান:প্লিজ স্যার বাসায় বলবেন না।এটা বাদে আপনি যা শাস্তি দিবেন আমরা মাথা পেতে নিব।
–তুমি আমার স্যার নাকি আমি তোমাদের স্যার আমি তোমাদের কি শাস্তি দেব।তা এখন তোমাদের থেকে জেনে দিতে হবে।
–সরি স্যার।মাথা নিচু করে বললো।
আয়ান একটা বেত নিয়ে আসলো আর সবাই উদ্দেশ্য বললো সবাই হাত পাতো।
আয়ানের কথায় সাথে সাথে সবাই হাত পাতলো।আয়ান অনেক জোরে জোরে সবার হাতে বেত দিয়ে মারলো।মারা শেষে বেত হাতের সাথে চেপে ধরে রাখছিলো।সবার হাত লাল হয়ে গেছে বেত হাতে চেপে ধরে রাখার জন্য হাত খুব জ্বলছিলো।
–আশা করি এরপরে কোনো স্যারের সাথে বেয়াদবি করার আগে মনে থাকবে তোমাদের।
–স্যার আমরা এমন কাজ আর কখনো করবো না।
–কান ধরো সবাই।দশ বার কান ধরে উঠ বস করবে আর কথা গুলো বলবে।
–এ্যাঁ।
–এ্যাঁ না হ্যাঁ নাও শুরু করো।আর যদি ইচ্ছে না থাকে তাহলে আমি অন্য রাস্তা দেখতে পারি।
–না,না স্যার আমরা বসছি।
সবাই কান ধরে উঠ বস করছে আর কথা গুলো বলছে স্যার মাফ করে দিন।এমন ভুল আর আমারা কোনোদিন করবো না।
হঠাৎ করে আয়ানের চোখ গেলো শখের দিকে।রাগে চোখ লাল হয়ে গেছে।রাগে গজগজ করতে করতে বললো।
–এই মেয়ে তোমাকে কি আলাদা করে ইনভাইটেশন করতে হবে।
–স্যার আসলে আমার পায়ে খুব ব্যথা তাই জন্য উঠ বস করতে পারছি না।
আয়ান ভ্রু কুঁচকে তাকালো শখের দিকে।এতক্ষণ তো ঠিকি ছিলো উঠ বস করার কথা বলতেই পায়ে ব্যথা শুরু হলো।
–স্যার আমাদের হয়ে গেছে। এবার কি আমরা যেতে পারি।
–ওর নাম কি(শখ কে দেখিয়ে দিয়ে বললো)।আর এটা বলো তোমরা আমার সাথে এই কাজ করলে এই বুদ্ধিটা কার।
এবার সবাই চুপ হয়ে গেলো।আয়ান রেগে আবার বললো।
–তোমাদের আমাকে কি মনে হয়।আমি তোমাদের ফ্রেন্ড মজা করছি তোমাদের সাথে। আমি বলছি না এক কথা বার বার বলতে পছন্দ করি না আমি।
কিছুটা ধমক দিয়ে’ই বললো সবাই ভয়ে কেঁপে উঠলো।মেধা ভয়ে কান্না করে বলে দিলো।যে তারা শখের কথায় এই কাজ করেছে। শখ তো ভয়ে শেষ এখন কি হবে কে বাঁচাবে ওকে।আল্লাহ বাঁচাও।
–বেশ ঠিক আছে।শখ বাদে তোমরা সবাই চলে যাও।
–সবাই খুশিতে গদগদ হয়ে চলে গেলো কিন্তু শখের জন্য খারাপ লাগছে।মেধা কি করে পারলো শখের নাম বলে দিতে।
–তুই এটা কি করলি শখের নামটা কেনো বলে দিলি।শখ আমাদের জন্য কি করে নারে।তুই এটা কোনো ফ্রেন্ড এর পরিচয় দিলি।বলল আমান।
–আমি মানছি মেধা তুই খুব সহজ সরল ভয় পাস খুব স্যারকে।তাই বলে তুই ফ্রেন্ডকে এভাবে বিপদের দিকে ঠেলে দিবি।বলল আয়েশা।
–আমি বলতে চাই নাই রে ভয়ে বলে দিছি।সত্যি আমি ফ্রেন্ড হবার যোগ্যতা রাখি না।কান্না করতে করতে বললো মেধা।
সিয়াম:এখন যা হবার তা হয়ে গেছে। এখন স্যার না জানি শখকে কতোটা শাস্তি দিবে।আল্লাহ মালুম।
কাব্য:শখ আসলেই ভালো জানতে পারবো।চল সবাই ওর জন্য অপেক্ষা করি।বলেই সবাই বাহিের শখের জন্য অপেক্ষা করতে লাগলো।
আয়ান রাগি দৃষ্টিতে শখের দিকে তাকিয়ে আছে।শখ মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে।মুখ ভয়ের ছাপ স্পষ্ট।
আয়ান শখের দিকে এগোতে এগোতে বললো।আমাকে তোমার কি মনে হয়। আমি কি তোমায় ফ্রেন্ড।তাই আমার সাথে যখন যেভাবে ইচ্ছে সেভাবে মজা করবে।অনেকটা শান্ত হয়ে বললো আয়ান।
শখ আয়ানের এমন শান্ত হতে দেখে আরো বেশি ভয়ে পেয়ে গেলো।ঝড়ের পূর্বে সবকিছু শান্ত হয়ে যায়।তাহলে আয়ানের এই শান্ত হওয়াটা কি ঝড়ের আগে হওয়া পূর্বাভাস।
–সরি স্যার আমার ভুল হয়ে গেছে। আমি আর এমন ভুল কোনোদিন করবো না। মাথায় আনা তো দূর।মুখে’ও আনবো না আমাকে মাফ করে দিন। কাঁপাকাঁপা গলায় বললো শখ।
আয়ান এবার রেগে শখের দুই হাত দেওয়ালে চেপে ধরলো। আয়ান সামনে এগোচ্ছিলো।তা দেখে শখ ভয়ে পেছতে পেছতে কখন যে ওর দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে।ভয়ে সেদিকে খেয়ালই নেই শখের।
–আমি তোমার ফ্রেন্ড হয়। নাকি।তোমার কাছের কোনো রিলেটিভ হয়।যে তুমি আমার সাথে এমন ফালতু মজা করবে।শখ আমি তোমার স্যার হয়। স্যারদের কিভাবে সন্মান করতে হয়। তুমি জানো না।তোমাকে কেউ শেখায় নাই। এত বছর পড়াশোনা করে কি শিখছো।
আয়ান শখের এতটা কাছে চলে আসায় শখ ভয়ে চোখ বন্ধ করে ফেলে।আয়ানের গরম নিশ্বাস শখ অনুভব করতে পারছে।অদ্ভুত এক অনুভূতি হচ্ছে শখের। কিন্তু প্রকাশ করতে পারছে না।এদিকে আয়ান শখের হাত এতজোরে শখ সয্য করতে না পেরে।শখ ফু্ঁপিয়ে কান্না করে দিলো।এবার আয়ানের হুস আসলো রাগের মাথায়।কি করে বসলো।এবার আরো রাগ লাগছে শখের কান্না দেখে।এবার চিৎকার করে বলে উঠলো।
–আমার চোখের সামনে থেকে সরে যাও।একে তো অপরাধ করছো।তার ওপরে আমার কথা অমান্য করেছো।এখন আবার কান্না করছো।আমার মুখেরসামনে থেকে সরে যাও শখ।আপাতত আমি তোমার মুখটা দেখতে চাচ্ছি না।আমার রাগ উঠে গেলে আমি তোমাকে কি করবো নিজেও জানি না।বলেই টেবিলে নিজের হাতে আঘাত করলো।
শখ আর এক মুহূর্ত দেরি না করে কান্না করতে করতে বেড়িয়ে আসলো। ওরা সবাই শখের জন্য অপেক্ষা করছিলো।কিন্তু শখকে কান্না করতে দেখে সবাই অবাক। কোনো কথা না বলে শখ দৌড়ে চলে আসলো।
বাসায় এসে কারো সাথে কোনো কথা না বলে সোজ নিজের রুমে গিয়ে দরজা আটকে দিয়ে ফ্লোরে বসে কান্না করছে শখ।এক সময় কান্না করতে করতে ফ্লোরে’ই ঘুমিয়ে পড়লো শখ।
বিকেল ৪:০০ টায় বাবার ডাকে ঘুম ভাঙলো শখের।
–শখ মামনি আর কতো ঘুমোবি না।সারাদিন না খেয়ে আছিস।এখন উঠ মা সন্ধ্যা ছয়টা থেকে তোদের নতুন টিচার আসবে।পড়াতে।উঠে ফ্রেশ হয়ে খেয়ে নে।
শখ বাবার কথা মতো উঠে সাওয়ার নিয়ে নিচে এসে খেতে বসলো।
–কিরে মা,তোর কি শরীল খারাপ নাকি।সেই দুপুরে এসে না খেয়ে ঘুমিয়েছিস।বলল শখের আম্মু
–না আম্মু সকাল সকাল উঠছিলাম না ঘুম হয় নাই।তাই এখন ঘুমিয়ে শোধ নিলাম আর কি।
শখের কথা শুনে শখের আম্মু হেঁসে দিলো।
–পাগলি মেয়ে একটা। পুরাই ঘুম পাগলি হয়েছিস।ঠিক তোর মায়ের…
–মায়ের মানে আম্মু।
রাহেলা বেগম আমতা আমতা করে বললো না মানে আমার মতো আগে আমি ঠিক মতো মতো ছিলাম।খুব ঘুমাইতাম।কেউ আমাকে মেরে’ও তুলতে পারতো না।
–সত্যি রে মা।এখন যা রেডি হয়ে নে।তোদের নতুন টিচার আসবে।অনেক খুঁজে একটা ভালো টিচার পেয়েছি।আগের টিচার টা বদলি হয়ে যাওয়াতে।অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে তোদের।আর পড়াশোনায় ফাঁকি দিলে চলবে না।রেডি হয়ে। বই নিয়ে বোনের রুমে আয়।
–কিন্তু আম্মু আপু যদি রাগ করে।আপু তো আমাকে দেখতে পারে না।আমি আপুর রুমে গেলে আবার সমস্যা তৈরি করবে।
–নারে মা কিছু বলবে না।তোর বাবা আগেই কথা বলে রাখছে।
–সত্যি আম্মু।তাহলে খুব ভালো হবে আমি আর আপু একসাথে পড়াশোনা করবো।
–হ্যাঁ এখন যা বই নিয়ে বোনের রুমে যা।
স্যার আসছে না দেখে মুনতাহার রুমে বই রেখে শখ চিপস খাচ্ছিলো আর টিভিতে কার্টুন দেখছিলো।একা একা ভালো লাগছিলো না মুনতাহা’ও ওর সাথে ভালো করে কথা বলে না।
হঠাৎ করে কলিং বেল বেজে উঠলো শখ ভাবলো হয়তো স্যার এসেছে। দৌড়ে দরজা খুলে দিয়ে সামনে তাকাতেই একশ ভল্টেজের শক খেলো।নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছে না।দুচোখ ডলা দিয়ে নিলো।না সে তো ভুল দেখছে না।এটা তো সত্যি আয়ান স্যার।উনি এখানে কেনো ভেবেই অবাকের শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গেলো শখ।কিন্তু আয়ান অবাক হলো না শখের বাবার থেকে জেনে বুঝতে পারছিলো আয়ান কিন্তু আয়ানের জানামতে শখের বাবার তো একটাই মেয়ে ছিলো শখ আসলো কোথায় থেকে।হয়তো পরে হয়েছে সে-সব ভেবে কাজ নেই।যে কাজ করতে আসছি সে কাজ করে চলে যাব।
–আমাকে কি ভেতরে আসতে দিবে নাকি বাহিরে দাঁড় করিয়ে রাখবে।
–না মানে স্যার আপনি এখানে।
–তোমাদের পড়াতে এসেছি।
–আমি যতোদূর জানি আপনি কাউকে বাসায় গিয়ে পড়ান না।
–আমি ডেকেছি আর ও আসবে না।পেছনে থেকে বললো শখের বাবা।
আয়ান শখের বাবাকে দেখে সালাম দিলো।
–আসসালামু আলাইকুম স্যার কেমন আছেন।
–আলহামদুলিল্লাহ বাবা ভালো আছি।তুমি কেমন আছো।তোমার আসতে কোনো সমস্যা হয় নাই তো বাবা।তোমাকে অসংখ্য ধন্যবাদ এই গরীবের ঘরে পড়াতে আসার জন্য।
–আলহামদুলিল্লাহ স্যার আমি’ও ভালো আছি। আপনি কি যে বলেন না।আপনি আমার স্যার আমার গুরুজন। আপনাকে আমি অনেক সন্মাম করি।আপনি ছিলেন আমার প্রিয় শিক্ষক। আর আপনি ডাকবেন আমি আসবো না। এটা কোনোদিন হয়।আপনি বললে আমি নিজের জীবন’ও দিয়ে দিতে রাজি স্যার।
–সোনার টুকরো ছেলে আমার।জানিস তো শখ মা। আয়ান আমার স্টুডেন্ট ছিলো।ক্লাসে ফাস্ট বয় ছিলো।
ও সব সময় ক্লাস টপার ছিলো।আর অনেক ভালো ছিলো আমি আমি যা বলতাম আমার সব কথা শুনত।ওর ব্যবহার ছিলো অনেক সুন্দর যা আমাকে খুবই মুগ্ধ করে ছিলো। সেজন্য আমি ওকে খুব ভালোবাসতাম।আমার প্রিয় ছাত্র ছিলো।
–ও আচ্ছা তার মানে আয়ান স্যার বাবার ছাএ ছিলো।বাবা তোমার ছাত্র তোমার মতোই হয়েছে বদমেজাজি। বিরবির করে বললো শখ।
–না বাবা কিছু বলি নাই।
–আয়ান আসো বাবা ভেতরে আসো।
সবাই মিলে ভেতরে আসলো।কিছু গল্প করে আয়ান মুনতাহার রুমে গেলো স্যারকে দেখে মুনতাহা সালাম দিলো।আয়ান মুনতাহা আর শখকে পড়ানো শুরু করলো।শখ পড়া বাদ দিয়ে খালি বার বার আড়চোখে আয়ানে দিকে তাকাচ্ছে। একটু পরে শখের আম্মু এসে শখকে ডেকে নিয়ে গেলো।পড়াশোনার ক্ষতি হবে জন্য আয়ান মানা করলে।উনি শুনেন নাই।শখকে নিয়ে চলে গেলো।
–ছেলেটা কতদিন পরে আসলো কিছু নাস্তা পানি না করালে হয়।এসব কথা বলে শখের আম্মু নাস্তা তৈরি করে শখের হাতে দিয়ে বললো যা দিয়ে যা।
শখ বাধ্য মেয়ের মতো নাস্তা নিয়ে মুনতাহার রুমে গেলো।শখ যখনি নাস্তার ট্রে-টি টেবিলে রাখছিলো তখনি আয়ানের চোখ যায় শখে হাতের দিকে।ফর্সা হাতে ওর পাঁচ আঙুল এর দাগ স্পষ্ট ফুটে উঠেছে। লাল হয়ে আছে দুই হাত।আয়ান কি দেখছে তা কৌতুহল বসত দেখার জন্য আয়ানের চোখ লক্ষ্য করে শখ দেখলো আয়ান ওর হাতের দিকেই তাকিয়ে আছে।তা দেখে শখ তাড়াতাড়ি করে নিজের হাত ওড়নার ভেতরে লুকালো।

পর্ব ০৬ রাগী টিচার যখন রোমান্টিক হাসবেন্ড লেখিকা Fabiha bushra nimu

মুনতাহা আর শখ বসে লিখছে পাশেই বসে আছে আয়ান।শখের যে লিখতে কষ্ট হচ্ছে আয়ান ভালো করেই বুঝতে পারছে।
এবার শখ খাতা টা আয়ানের দিকে এগিয়ে দিয়ে বললো।
–স্যার নিন হয়ে গেছে আমার।
আয়ান অবাক হয়ে শখের দিকে তাকিয়ে আছে।এত জটিল একটা অংক এত তাড়াতাড়ি করে ফেললো।আয়ান বেশ খুশি হলো মেয়েটা মনে হয় খুব ভালো ছাত্রী।খুব আগ্রহ নিয়ে বললো।
–কই দেখি দাও তো।কেমন লিখলে।
তারপরে শখ খাতাটা আয়ানের দিকে এগিয়ে দিলো।খুশি হয়ে খাতাটা নিলে’ও এখন রাগে আয়ানের চোখ লালা হয়ে গেছে।
–এগুলো কি শখ।
শখ কিছুটা ভয় পেয়ে যায়।আর বললো কি স্যার অংক।
–তা তো আমি’ও দেখতে পাচ্ছি। কিন্তু তুমি এগুলো কি করছো।আর তোমার হাতের লিখার এই অবস্থা কেনো।হাতের লেখার যদি এই অবস্থা হয়।তাহলে পরীক্ষাতে ভালো নাম্বার পাবে না।তোমার এই কাকের ঠ্যাং এর মতো লেখার জন্য কিছু নাম্বার কেটে দিবে।
–স্যার আপনি এটা বলতে পারলেন।আমি কতো সুন্দর করে অংকটা করে দিলাম। আপনার তো আমাকে নোবেল দেওয়া উচিৎ।
–হ্যাঁ,নোবেল তো অবশ্যই দিব।নাও হাত পাতো।
–কিকক,,কিন্তু কেনো স্যার।
–তোমাকে নোবেল দিব।
স্যারের কথা তো আর অমান্য করা যায় না। তাই নিরুপায় হয়ে হাত পাতলো শখ।আয়ান স্কেল দিয়ে শখের দুই হাতে মারলো।শখ ব্যথায় হাত সরিয়ে নিলো।
–পেয়েছো নোবেল।আর লাগবে।
শখ তখন কাঁদো কাঁদো হয়ে ইনোসেন্ট ফেইস করে বললো।
–না স্যার লাগবে না।এমনিতেই নোবেলটা অনেক সুন্দর ছিলো।আমার সারাজীবন মনে থাকবে।(শালা বজ্জাত ব্যাডা আমার বাসায় এসে আমাকেই মারিস তোর দেইকা নিমু হুম তানা হলে আমার নাম ও শখ না)
–আমাকে গালি দেওয়া শেষ হলে।এবার পড়াশোনায় মন দাও।আমি এক কথা বারবার বলতে পছন্দ করি না।তুমি কিন্তু ভালো করেই জানো।
–স্যার জানেন আমি না পদার্থ বিজ্ঞান এ চার বার ফেল করছি।
আয়ান শখের কথা শুনে অবাকের চরম পযার্য়ের পৌঁছে গেলো ফেলে করছে চার বার আবার গর্ব করে বলছে।আয়ান রাগি চোখ নিয়ে তাকাতে’ই।শখ ভয়ে আর কোনো কথা না বলে পড়াশোনায় মন দিলো।
এভাবেই কাটছিলো শখ ও আয়ানের জীবন সময় তো আর কারো জন্য থেমে থাকে না।এভাবে ঝগড়া,রাগ,খুনসুটি দিয়ে দিনের পর দিন।মাসের পর মাস কেটে যাচ্ছিলো।আয়ান ঠিক প্রতিদিন এর মতোই আজ ওদের পড়াতে আসছে।
–আপু তোমার একটা কলম দিবে গো।আমার কলমের কালি শেষ হয়ে গেছে। উপরে যেতে ইচ্ছে করছে না।
–যেতে ইচ্ছে করছে না।নাকি আমার এই কলমের প্রতি যে তোর কতোটা লোভ সেটা বল।জানিস তোকে কলম টা দিলে আর ফেরত নিব না।সেজন্য কৌশলে নিতে চাইছিস।
–এসব তুমি কি বলছো আপু।এমনিতে তোমার কলম টা খুব সুন্দর। আমার বেশ পছন্দ। অনেক খুঁজে’ও পাই নাই। তুমি কোথায় থেকে কিনেছো আপু।আমি তোমাকে টাকা দিব আমাকে একটা এনে দিবে।
–তোর সব সময় আমার প্রতি এত হিংসা কেনো রে।একে তো বাবা মাকে আমার থেকে কেঁড়ে নিয়েছিস।এখন আমার জিনিসে নজর দিচ্ছিস।বাবা কি তোকে কলম কম কিনে দেয় নাকি রে।যে আমার কলম টাই তোকে দিতে হবে।
–আপু তুমি সব সময় এমন করো কেনো আমার সাথে। একটু ভালো করে কথা বলতে পারো না।
–বেয়াদব মেয়ে চুপ।একদম চুপ থাক তুই। এখন তোর থেকে শিখতে হবে।আমি কি ভাবে কথা বলবো না বলবো।আর একটা কথা বললে কষে থাপ্পড় বসিয়ে দিবো।বলে দিলাম।খুব মুখে মুখে তর্ক করতে শিখে গেছো তাই না।
আয়ান সবকিছু দেখছিলো এবার রেগে গিয়ে বললো।
–কি হচ্ছেটা কি তোমাদের সামনে আমি বসে আছি।তোমাদের কি সেদিকে খেয়াল আছে।বেয়াদবের মতো ঝগড়া করে যাচ্ছো।আর মুনতাহা শখ না হয় ছোট। তুমি তো বড় তোমার এটা কেমন ব্যবহার।
–আপনি স্যার স্যারের মতো থাকবেন। পড়াতে আসছেন পড়িয়ে চলে যাবেন।আপনাকে পড়ানোর জন্য রাখা হয়েছে। জ্ঞান দেওয়ার জন্য নয়।
–মুনতাহা….
চিৎকার শুনে শখের বাবা মা চলে আসলো।ওদের দেখে আয়ান রেগে বললো।
–স্যার আমি আপনার এই বেয়াদব মেয়েকে পড়াতে পারবো না।আমাকে মাফ করবেন।বলেই চলে যেতে লাগলো।
–হ্যাঁ হ্যাঁ যান আমিও আপনার মতো শিক্ষক এর কাছে পড়তে চাই না। এই মেয়ের সাথে একসাথে পড়াশোনা করা আমার পক্ষে সম্ভব না। আমার সবকিছু কেঁড়ে নিয়ে শান্তি হয় নাই। এখন আসছে আমার জিনিস নিতে।লজ্জা করে না।অন্যের জিনিস চাইতে।
–সরি আপু আমার ভুল হয়ে গেছে আমি আর কোনোদিন তোমার থেকে কোনোকিছু চাইবো না।
–তুই মরতে পারিস না।তুই মরলে আমার শান্তি। আপদ বিদায় হলেই বাঁচি। তুই তোর মা…
–মুনতাহা…বলেই মুনতাহার বাবা ওর গালে থাপ্পড় বসিয়ে দিলো।
–তুমি যদি আর একটা কথা বলেছো।আমার থেকে খারাপ কেউ হবে না।আমি তোমাকে ঠিক মতো মানুষ করতে পারি নাই। তোমার জন্য কোথাও গিয়ে নিজের সন্মান রক্ষা করতে পারি না।কি পাপ করছিলাম আমি যে তোমার মতো মেয়ে দিলো আমাকে আল্লাহ।
–এখন নিজের মেয়েকে দেখতে পারো না অথচ অন্য….
–মুনতাহার আম্মু ওকে আমার চোখের সামনে থেকে সরিয়ে নিয়ে যাও।তা না হলে ওকে কি করবো আমি নিজেও জানি না।বেয়াদব মেয়ের জন্ম দিয়েছি।
–আমার রুম আমি কেনো যাব।তোমরা সবাই আমার রুম থেকে বের হয়ে যাও।আর হ্যার এই স্যার আমাকে কাল থেকে যেনো না পড়াতে আসে।
শখের বাবা মা সবাই চলে আসলো মুনতাহা দরজা লাগিয়ে দিলো।
–আয়ান বাবা আমি আমার মেয়ের হয়ে।তোমার কাছে মাফ চাচ্ছি।আমি আমার মেয়েটাকে মানুষ করতে পারি নাই। আমার জন্য তোমাকে অসন্মানিত হতে হলো তার জন্য আমি আন্তরিক ভাবে দুঃখিত।
–এসব কি বলছেন স্যার।আপনার কোনো দোষ নেই। আপনি কেনো মাফ চাইবেন।কাল থেকে আমি আর পড়াতে আসবো না স্যার আমাকে মাফ করবেন।এমন বেয়াদব মেয়ে আমার পক্ষে পড়ানো সম্ভব না।
–প্লিজ বাবা এমন করো না।এখন তুমি না পড়ালে আমার মেয়ের পড়াশোনার অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে।আচ্ছা বাবা বলো আমার শখ কি তোমার সাথে কোনো বেয়াদবি করছে।
–না আংকেল শখ খুব ভালো মেয়ে মুনতাহার মতো বেয়াদব না।
–তাহলে বাবা মুনতাহাকে না পড়াও আমার শখকে তুমি পড়া’ও।ওর সামনে পরীক্ষা এখন যদি পড়াশোনা ঠিক মতো না করতে পারে।তাহলে রেজাল্ট খারাপ হয়ে যাবে ওর।বাসায় একটুও পড়তে বসে না।
আয়ান একটু ভেবে বললো।আচ্ছা ঠিক আছে স্যার আমি শুধু শখকেই পড়াবো।কিন্তু যদি আপনার বড় মেয়েকে পড়ানোর কথা বলেন। তাহলে আমাকে মাফ করবেন।
–না বাবা তোমার আমার বড় মেয়েকে পড়াতে হবে না।আমার শখকে পড়ালেই হবে।
–আচ্ছা স্যার আজ তাহলে আমি আসি।
তখনি শখ ব্যাগ হাতে করে নিয়ে নিচে নামল।
–কিরে মা তুই ব্যাগ নিয়ে আসলি কেনো।
–আপু আমাকে ভালোবাসে না।দেখতে পারে না।আপু মনে করে আমার জন্য তোমরা ওকে ভালোবাসো না।তাই আমি চলে যাচ্ছি। তাও আপু ভালো থাকুক। বলেই শখ চলে গেলো।
–কি গো মেয়েটা চলে যাচ্ছে আটকাও।
–একটু পরে আবার দৌড়ে আমার কাছে আসবে। খালি একটু অপেক্ষা করো।
–স্যার শখ বাড়ি ছেড়ে চলে যাচ্ছে। আর আপনি ওকে কিছু বলছেন না।
–একটু অপেক্ষা করো বাবা।তুমি নিজের চোখে’ই দেখতে পাবে।
একটু পরে দৌড়ে শখ এসে বাবাকে জড়িয়ে ধরলো।
–বাবা আমাকে বাঁচাও তিনটা কুকুর আমাকে মেরে ফেললো প্লিজ আমাকে বাঁচাও বাবা।কান্না করতে করতে বললো।
–কেনো এখন আমি বাঁচাবো কেনো।তুই না বাড়ি ছেড়ে চলে গেলি এই সাহস নিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে যাচ্ছিলি।
–আমি যেতে পারবো হুম।আমাকে একটু এগিয়ে দিয়ে আসো।
–কতদূর কুকুর পর্যন্ত।এগিয়ে দিয়ে আসবো।তাহলে হবে।
–না লাগবে না।আমি কোথাও যাব না ভাই।
এবার সবাই হো হো করে হেঁসে উঠলো। পাগলি মেয়ে আমার আমি জানতাম তোর এত সাহস নেই।যা রুমে যা।শখ রুমে চলে গেলো।আয়ান বাসায় চলে গেলো।

পর্ব ০৭ রাগী টিচার যখন রোমান্টিক হাসবেন্ড লেখিকা Fabiha bushra nimu

ক্লাস রুমে চুপচাপ বসে আছে শখ।এটা কেনো জানি এটা সবার সয্য হচ্ছে না।
আয়েশা:কি হয়েছে শখ সোনা।আজ তুই এত চুপচাপ কেনো।কোনো সমস্যা।
শখ:আজকে আমার মন ভালো নেই।
আমান:কেনো তোর আবার কি হলো।
মেধা:তোর আবার মন আছে।কই আগে তো জানতাম না।
স্নেহ:আমি’ও তাই বলি।ওর আবার মন’ও আছে।মন আবার খারাপ’ও হয় নাকি।
বলেই সবাই হেসে দিলো।
শখ:তোদের সাথে কথা বলাই বেকার। এর থেকে ভালো রাস্তার কুত্তার সাথে কথা বলা।তা-ও আমার কথা চুপচাপ শুনে বসে থাকবে।
সবাই একসাথে বলে উঠলো কি তুই আমাদের কুকুরের সাথে তুলনা করলি।
–তো কিসের সাথে করবো আলিয়া ভাট এর সাথে নাকি।এক একেকজন কুত্তা বিলাই এর মতো দেখতে।
–তুই কিরে শেওড়া গাছের পেতনীর মতো দেখতে।আবার আমাদের বলিস।
–আমি যথেষ্ট সুন্দর।আমি হাজারো ছেলের রাতের ঘুম হারাম করতে পারি।
–ঐ জন্য-ই বললাম তুই শেওড়া গাছের পেতনী। তাই তোকে দেখে হাজার’ও ছেলের রাতের ঘুম হারাম হয়ে যায়।যে ভয়ানক চেহারা বাবা রে বাবা।বললো কাব্য।
শখ অগ্নি দৃষ্টি নিয়ে কাব্যের দিকে তাকিয়ে। কাব্য মানে মানে কেটে পড়লো।শখ যখনি কাব্যের কাছে যাবে।তখনি বেল পড়ে যাওয়া’য় আয়ান ক্লাস রুমে আসে।
একটা মেয়ে ঠোঁটে লিপস্টিক দিচ্ছিলো।আয়ান যে কখন রুমে প্রবেশ করছে। সে,দিকে কোনো খেয়াল নেই মেয়েটির। নিজের কাজে আপন মনে ব্যস্ত।আয়ান এবার রেগে মেয়েটিকে বললো।
–এই যে আপনি। উঠুন উঠে দাড়ান।
মেয়েটি বসে কাঁপা কাঁপা গলায় বল্লো আমাকে বলছেন স্যার।
–জ্বী আমি আপনাকে’ই বলছি।বলছি এটা পড়াশোনা করার জায়গা বিউটি পার্লার নয়।যে আপনি ক্লাস টাইমে সাজসয্যা করবেন।সাজার জন্য আরো অনেক জায়গা আছে। আপনার বাসা আছে।কমন রুম আছে।বাহিরে মাঠ আছে।অনেকটা রেগে-ই বললো আয়ান।
–মাগার স্যার ঐখানে তো আপনি নাই। আপনি তো পুরাই একটা জিনিস যাকে বলে আগুন।স্যার আমি আপনাকে ভালোবাসি। আপনাকে বিয়ে করতে চাই। আপনি কি আমাকে বিয়ে করবেন স্যার।মেয়েটির এমন কথায় পুরো ক্লাসে হাসির রোল পড়ে গেছে।
আপমানে আয়ানের রাগ যেনো মাথায় চরে বসলো।কিছুতে’ই নিজেকে শান্ত করছে পারছে না।রেগে গিয়ে মেয়েটির গালে কষে থাপ্পড় বসিয়ে দিলো।
–এখানে পড়াশোনা করতে আসছো নাকি ফাজলামি করতে আসছো।তোমার সাহস কি করে হয় এমন বেয়াদবি করার পুরো ক্লাসের সামনে।চেচিয়ে বললো কথা গুলো আয়ান।
আয়ানের চিৎকারে পুরো ক্লাস স্তব্ধ হয়ে গেছে। কারো মুখে কোনো কথা নেই। মনে হয় সবাই বোবা কেউ কথা বলতে পারে না।
–এই মেয়ে বেড় হন।আপনি যা করেছেন তার শাস্তি তো আপনাকে পেতেই হবে।
মেয়েটির আর কোনো কথা না বলে ভয়ে চুপচাপ বেড় হলো।
–কান ধরে পুরো মাঠ তুৃমি ঘুড়বে।আর বলবে স্যারের সাথে বেয়াদবি করার জন্য আমি আমার শাস্তি পাচ্ছি। তোমরা কেউ আমার মতো স্যারের সাথে বেয়াদবি করবে না।স্যারের মনে কষ্ট দিবে না।স্যারের অসন্মান হয় এমন কোনো কাজ করবে না।যদি কেউ স্যারের সাথে বেয়াদবি করার চেষ্টা করতে চাও।এসব চিন্তা ভাবনা মন থেকে ঝেড়ে ফেলে দাও।নাহলে আমার মতো তোমরা’ও শাস্তি পাবে।
মেয়েটি কান্না করতে করতে বললো।
–সরি স্যার আমার ভুল হয়ে গেছে আমি আর এমন করবো না।প্লিজ আমাকে মাফ করে দিন।
–আমি তোমার থেকে অজুহাত শুনতে চেয়েছি।তুমি এমনিতেই আজ আমার ক্লাসের মূল্যবান সময় নষ্ট করে দিয়েছো।আমি এক কথা বার বার বলতে পছন্দ করি না। তাই আমাকে এমন কিছু করতে বাধ্য করো না।রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে আয়ান মেয়েটাকে খালি তুমি করে বলে ফেলছে।
মেয়েটি ভয়ে আর কোনো কথা না বলে।কান ধরে বাহিরে চলে গেলো।ক্লাসের সবাই যেতে চাইলে আয়ান রেগে বলে দেয়।
–আমার ক্লাসের সময় শেষ না হওয়া পর্যন্ত যদি কেউ রুমের বাহিরে প্রবেশ করেছো তাহলে আমার থেকে খারাপ কেউ হবে না।আমি আর তোমাদের ক্লাস-ই নিব না।বলেই আয়ান মেয়েটির দিকে গেলো।
আয়ানের কথায় সবাই ভয়ে আর বাহিরে গেলো না।কিন্তু মনকে বোঝায় করে সে তো বাহিরে যাওয়ার জন্য ছটফট করছে।
–বাপ রে ভাগ্গিস আমি কিছু বলি নাই। তা না হলে আজ আমার’ও এই অবস্থা হতো রে শখ।বলল মেধা।
–হিহিহি তুই ও একটু বল তাহলে স্যার তোকে-ও ঐ মেয়েটার মতো অবস্থা করবে।
পুরো কলেজের সবার নজর এখন মেয়েটার দিকে।আয়ানের বলা কথা গুলো বলছে আর পুরো মাঠ কান ধরে ঘুরছে।
কয়েকজন এসে বলাবলি শুরু করলো।
–কিরে কি হয়েছে স্যার মেয়েটাকে এভাবে শাস্তি দিচ্ছে কেনো।
–আরে আর বলিস না।মেয়েটা স্যারকে সবার সামনে প্রপোজ করছে।আবার স্যারকে আগুন বলছে।বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছে। জানিস-ই তো স্যার কতো রাগি এসব একদম পছন্দ করে না। তার ওপের সবার সামনে বলছে।ক্লাসের সবাই হাসাহাসি করছে।স্যারের কতো বড় অপমান হলো বলতো।
–ভাইরে ভাই স্যারকে তো আমি’ও পছন্দ করে ভাবছিলাম প্রপোজ করবো।আজকে যা দেখলাম। আমি আর স্যারের ধারে’ও যাব না।
–মেয়েটা আসলেই কাজটা ঠিক করে নাই। স্যারকে যখন এতোই পছন্দ।তাহলে স্যারকে একা আলাদা ভাবে বলতে পারতো।
–ভালো হয়েছে বলছে।একা বললে স্যার ওকে বকা দিতো সবকিছু সমাধান হয়ে যেতো।সবার সামনে বলছে দেখে মেয়েটার কি অবস্থা করেছে স্যার।আমরা তো সতর্ক হয়ে গেলাম।
–শুন স্যারকে দোষ দিবি না।স্যার ওনার জায়গা থেকে ঠিকি আছে।এটা পড়াশোনা করার জায়গা প্রেম ভালোবাসা করার জায়গা না।তাই স্যার মেয়েটিকে একদম উচিৎ শিক্ষা দিয়েছে।
–হয়েছে স্যার ভক্ত ছাত্রী। আর আপনাকে জ্ঞান দিতে হবে না।স্যার ঐ মেয়েকে ফিরিয়ে দিলে-ও আমাকে দিবে না।আমি ঐ মেয়ের থেকে বেশ সুন্দরী। আর পড়াশোনায়’ও অনেক ভালো।
–স্যার তোকে জীবনে’ও বিয়ে করবে না।কোথায় স্যার কোথায় তুই। বামন হয়ে চাঁদে হাত বাড়াতে চাস নাকি।
–তুই চুপ থাক একদম কথা বলবি না।স্যার শুধু আমার।
–তোদের লজ্জা নেই। বলতে হবে এতকিছুর পরেও স্যারের পিছে পড়ে আছিস।
তখনই আয়ান যাচ্ছিলো ক্লাসের দিকে।
–আপনাদের ক্লাস নেই। এখানে দাড়িয়ে আছেন কেনো।কোন স্যারের ক্লাস এখন।নাম বলেন।আমি স্যারকে পাঠিয়ে দিচ্ছি।কিছুটা রেগে বললো আয়ান।
সবাই ভয়ে যে যার ক্লাসে চলে গেলো।একটু পরে মেয়েটির।বাবা মা আসলো।আয়ানকে ডেকে পাঠালে আয়ান মেয়েটির বাবা মায়ের কাছে গেলো।মেয়েটির বাবা আয়ানকে বললো।
–তোমার সাহস হয় কি করে আমার মেয়েকে পুরো কলেজের সামনে অপমানকরার জানো আমি চাইলে তোমার কি কি করতে পারি।
–আপনার যা করার করে নিন আপনি।আপনার মেয়ে অপরাধ করছে আমি তাকে তার শাস্তি দিয়েছি।
–আবার কথা বলছো তুমি।আমি যদি তোমার চাকরি না খেয়েছি তাহলে আমার নাম’ও রিনি মজুমদার না।
–আমি’ও দেখতে চাই।আপনাদের কতটা ক্ষমতা।পারলে আমাকে এই কলেজ থেকে বেড় করে দেখান।আমি আয়ান চৌধুরী যতোদিন না এই কলেজে থেকে নিজে অবসর নিচ্ছি ততদিন কেউ আমাকে বেড় করতে পারবে না।একে তো আপনার মেয়ে অন্যায় করছে।সেটা তো জানতে চান-ই নাই। আবার বড় বড় কথা বলছেন।মেয়েকে কলেজে প্রেম ভালোবাসা করার জন্য পাঠিয়েছেন।
–প্রেম ভালোবাসা মানে।বলল মেয়েটির বাবা।
–ভালো লাগতেই পারে তাই বলে তুমি এমন করবে।ভালো করে বুঝিয়ে বলতে পারতে।বলল মেয়েটির মা।
–আপনার মেয়ে অবুঝ নয়।
যথেষ্ট বড় হয়েছে জ্ঞান হয়েছে।ও আমাকে বলে আমি নাকি আগুন।আমাকে ভালোবাসে বিয়ে করতে চাই। কথাটা আমাকে আলাদা করে বলতে পারতো আমি বকা দিয়ে বুঝিয়ে বলে ছেড়ে দিতাম।ও কি করেছে পুরো ক্লাসের সামনে বলেছে সবাই আমাকে নিয়ে হাসাহাসি করছে।কত বাজে বাজে কথা বলছে।নিজের মেয়ের সন্মানের দিকটা দেখলেন।আমি এই কলেজের টিচার।আমাকে প্রতিদিন আমার ছাত্রছাত্রীদের পড়াতে হয়।ওর জন্য আজ আমি সবার সামনে অপমানিত হয়েছি।আজ যদি আপনার মেয়েকে ছেড়ে দিতাম তাহলে ওর দেখে আরো এমন অনেকেই করতো। কিন্তু এখন করার আগে দশবার ভাব্বে।
আয়ানের কথা শেষ না হতেই মেয়েটির বাবা মেয়েটির গালে থাপ্পড় বসিয়ে দিলো।
–তোমাকে আমি এসব করতে কলেজে পাঠাই।আজ তুমি বাসায় চলো।তোমার আছে।
–তুমি মেয়েটাকে মারছো কেনো। ছোট বাচ্চা ভুল করে ফেলছে।বুঝিয়ে বললেই তো হয়।
–তুমি চুপ থাকো।তোমার জন্য মেয়েটা আমার এমন হয়ে গেছে। আজ তোমার’ও আছে বাসায় চলো আগে।বলেই আয়ানের কাছে মাফ চেয়ে নিলো।তারপরে মেয়েকে টানতে টানতে নিয়ে চলে গেলো লোকটি।মেয়েটির মা’ও পেছনে পেছনে চলে গেলো।

পর্ব ৮ রাগী টিচার যখন রোমান্টিক হাসবেন্ড লেখিকা Fabiha bushra nimu

কলেজে থেকে এসে শখের এত খারাপ লাগছিলো।টিভি দেখতে দেখতে কখন যে ড্রয়িং রুমে ঘুমিয়ে পড়েছে।সেদিকে তার কোনো খেয়াল নেই। ঘুম ভাংলো কলিং বেল এর আওয়াজে। ঘুম ঘুম চোখে গিয়ে দরজা খুলে দেখলো।স্যার আসছে। ঘুৃমের মধ্যেই বলে উঠলো।
–স্যার কিছু বলবেন।আপনার কিছু লাগবে।
–শখ তুমি ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখছো।কয়টা বাজে আর তুমি এখনো পড়ে পড়ে ঘুমোচ্ছো।
–কয়টা বাজে তা দেখে আমার কাজ নেই বাপু।আমার আগে ঘুম।আপনি যে কাজে আসছেন।সে কাজ করেন আমি বরং ঘুমোই।
–আয়ান এবার রাগি মুখ নিয়ে বললো।শখ আমি তোমার স্যার তোমার ফ্রেন্ড নই।এটা কেমন ধরনের ব্যবহার তোমার।
আয়ানের ধমকে শখের হুস আসলো ঘুমের মধ্যে কি বলে ফেলছে স্যারকে।
–সরি স্যার আমার ভুল হয়ে গেছে। আসলে ঘুমের মধ্যে।
–পাঁচ মিনিট টাইম দিলাম। ফ্রেশ হয়ে আসো।আর যদি এর মধ্যে যদি আসতে না পারো।তাহলে আমি চলে যাব।
–না স্যার আমি এখুনি ফ্রেশ হয়ে আসছি।আপনি তাড়াতাড়ি আমার রুমে আসুন।বলেই শখ দৌড়ে ফ্রেশ হতে চলে গেলো।
আয়ান এবার পড়লো মহা বিপদে এতদিন তো মুনতাহার রুমে পড়াইছে।শখের রুম কনটা সে তো চিনে না।এখন কি করবে।
একটু পরেই মুনতাহা রেডি হয়ে বেড়িয়ে আসলো।মনে হয় বাহিরে যাবে।আয়ানকে দেখে মুখ বেকিয়ে চলে গেলো।
কেনো জানি মেয়েটাকে দেখলেই আয়ানের রাগ মাথায় চরে বসে।তবুও কিছু বলে না। ওর স্যারের মেয়ে জন্য।
–একি বাবা তুমি এখানে দাঁড়িয়ে আছো কেনো।শখ তোমাকে ওর রুম দেখিয়ে দেয় নাই।
–আসলে আন্টি।ও ঘুমিয়ে ছিলো।আমি ওকে তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হতে বলায় দৌড়ে চলে গেছে। আর এতদিন তো মুনতাহার রুমে পড়াইছি।তাই শখের….
–বুঝেছি বাবা আর বলতে হবে না দেখো আমার মেয়ের কান্ড। খালি হাত পায়েই বড় হয়েছে। কোনো জ্ঞান বুদ্ধি হয় নাই। তুমি কিছু মনে করো না বাবা।আসো আমি তোমাকে নিয়ে যাচ্ছি।
বলেই শখের রুমে নিয়ে গেলো।আয়ান শখের রুমে গিয়ে পুরাই অবাক। মাথায় প্রচন্ড রাগ উঠে গেলো।এটা মানুষের রুম নাকি মাছের হাট বাজার। পুরো রুমে চকলেট,আইসক্রিম,চিপস,আরো সব হাবি জাবি জিনিসের প্যাকেট পড়ে আছে।রুম তো না যেনো গরুর গোয়াল ঘর।
–তুমি কিছু মনে করো না বাবা।মেয়েটা আমার নিজের রুমে নিজের কোনো জিনিস কাউকে ঢুকতে দেয় না।ওর অনুমতি ছাড়া ওর রুমে প্রবেশ করলে খুব রাগারাগি করে।মা….কিছু বলতে গিয়ে’ও শখকে দেখে থেমে গেলো।
–তুই এসে গেছিস পড়াশোনা শুরু কর।আমি আয়ান বাবার জন্য নাস্তা তৈরি করে নিয়ে আসি।
–শখ এটা তোমার রুম।
–হ্যাঁ স্যার কিন্তু কেনো।বিশ্বাস হচ্ছে না।
–এটা নিশ্চয় কোনো গরু ছাগলের ঘর বলে আমার মনে হয়। আমি তো জানতাম মেয়েদের ঘর অনেক সুন্দর আর পরিপাটি হয়।এখন তো দেখছি পুরো গরুর গোয়াল ঘর।
–স্যার আপনি এভাবে বলতে পারেন না।দেখুন তো কতো সুন্দর আমার চার বাচ্চা। বিছানায় বড় বড় চারটা টেডি বিয়ার দেখিয়ে।
–হ্যাঁ যেমন গরু তেমন তার বাচ্চা। পাঁচ মিনিট সময় তার মধ্যে রুম পরিষ্কার করে ফেলো।
–আমি পারবো না।আমার আম্মু আমাকে কাজ করতে বলে না।আসছে উনি আমাকে কাজ করতে বলতে।
আয়ান রেগে চোখ গরম করে শখের দিকে তাকিয়ে আছে।
এবার শখ একটা সুন্দর হাসি দিয়ে বললো।
–আপনি রাগছেন কেনো স্যার আমি তো মজা করছিলাম। আপনি কতো ভালো।আমার গুরুজন আমি তাই আপনার কথা অমান্য করতে পারি বলেন।জানেনই তো আমি মেয়েটা খুব ভালো।একটু ভাব নিয়ে বললো শখ।
–আমি তোমাকে রুম পরিষ্কার করতে বলছি।তোমার থেকে কাহিনি শুনতে চাই নাই।
শালা বজ্জাত ব্যাডা,হনুমান,ছাগলের তিন নাম্বার বাচ্চা। আমারে পাইছেটা কি কলেজে গেলে শান্তি দেয় না।শাস্তির ওপরে রাখে।বাসায় এসেও শান্তি নেই। আমার বাসায় এসে আবার আমাকেই হুকুম করছে।আমি কি তোর কেনা গোলাম নাকি তোর ঘরের বউ তুই আমারে এত জালাস শালা,তোর কপালে কোনোদিন বউ জুটবে না অভিশাপ দিলাম।
–আমাকে গালি দেওয়া শেষ হলে এবার কাজে লেগে পড়ো।সময় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
–শালা তুই আবার কথা বলছিস।মনে মনে কথা বলে’ও শান্তি নেই। শালা তা-ও শুনতে পায়।
শখের বিরবির করা দেখে আয়ান ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে শখ কি বলছে হয়তো তা বোঝার চেষ্টা করছে।
–কি হলো আমার কথা তোমার কানে যাচ্ছে না।চলে গেলাম আমি।স্যার কি বললে বলবো তুমি আমার কথা শুনো নাই। তাই আমি আর তোমাকে পড়াবো না।
–এতবড় মিথ্যা কথা বলবেন আপনি।আল্লাহ আপনাকে এত বড় পাপ দিবে স্যার।আমি তাই ছাত্রী হয়ে স্যারের পাপ হতে দিতে পারি এখনি পুরো রুম পরিষ্কার করে দিচ্ছি।
বলেই শখ পুরো রুম পরিষ্কার করে ফেললো।
–শখ আমি তোমার স্যার আর তুমি যথেষ্ট বড় হয়েছো।তাই এসব পোশাকে আমার সামনে আসবে না।আর এসব পোশাক আর পড়বে না।বড় হয়েছো সালোয়ার কামিজ পড়বে বুঝতে পারছো। মাথা নিচু করে বললো কথা গুলো আয়ান।
–লে শালা এখন আমার পোশাক নিয়ে পড়েছে। আমি কি সুন্দর কার্টুন আলা গেঞ্জি আর থ্রি কোয়াটার প্যান্ট এসব বাদ দিয়ে নাকি।আবুলের মতো সালোয়ার কামিজ পড়বো।পারমু না আমি।
–কিছু বললে।
–স্যার আপনি আমার সব বিষয়ে কথা বলতে পারেন না।আপনার কোনো অধিকার নেই। আমি পড়বো কি করবো।এসব বলতে তো আর আপনি আসেন নাই। আপনি আমাকে পড়াইতে আসছেন।তাই এসব না দেখে আপনি আপনার কাজ করুন।
আয়ান এবার রেগে উঠে দাড়ালো আস্তে আস্তে শখের দিকে এগোতে লাগলো।ভয়ে শখ শেষ। রেগে কি বলে ফেললো স্যারকে এখন কে বাঁচাতে।
শখ দেওয়ালের সাথে ঠেকে গেছে আর যাওয়ার জায়গা নেই শখের।এদিকে আয়ান শখের অনেকটা কাছে চলে আসছে।
এবার আয়ান দুই হাত দিয়ে দেওয়াল চেপে ধরলো। মাঝখানে শখ।বেশ ভয় লাগছে শখের।ঘন ঘন নিশ্বাস নিচ্ছে।ভয়ে চোখ বন্ধ করে দিলো।
–আমি আয়ান চৌধুরী আমার কথা অমান্য করে এমন কেউ নেই তোমার সাহস হয় কি করে আমার মুখের ওপরে কথা বলার।
–সরি স্যার আমার ভুল হয়ে গেছে। আমি এখনি চেঞ্জ করে আসছি।কথা দিলাম আর এমন পোশাক পড়বো না।
–গুড গার্ল।যাও তাড়াতাড়ি আসো সময় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
আয়ান শখের থেকে দূরে সরে আসলে শখ যেনো হাফ ছেড়ে বাঁচল।দৌড়ে কোনোরকম ওয়াশরুমে চলে গেলো।
একটু পরে কালো রং এর সালোয়ার কামিজ পরে বেড়িয়ে আসলো।আয়ান আড়চোখে শখকে দেখছে।ফর্সা শরীলে কালো রংটা আরো আর্কষণীয় করে তুলছে।
–বসো আজ তোমার একটা পরিক্ষা নিব।ভালো ফলাফল করতে পারলে।তোমারজন্য একটা উপহার আছে।
–সত্যি স্যার কি উপহার।আগে দেখান তারপরে পরীক্ষা দিব।
আয়ান রাগি চোখ নিয়ে শখের দিকে তাকালো।
–আমি তো মজা করছি।আমি পরীক্ষা দিব।প্রশ্ন দেন আমি লিখা শুরু করে দেই।
–এই নাও।তোমার সময় ত্রিশ মিনিট।
তারপরে শখ লেখা শুরু করলো।লেখা শেষ করে স্যার কে দিলো।
–গুড খারাপ না।তোমাকে যতোটা খারাপ ভেবেছিলাম তোতোটা খারাপ কিন্তু তুমি নও।এই না তোমার উপহার। বলেই একটি কলম এগিয়ে দিলো আয়ান।
–শখ অনেক খুশি হলো কলমটি দেখে।স্যার এই কলম আপনি আমার জন্য এনেছেন। আপনি কোথায় পেলেন।জানেন আমি খুব খুশি হয়েছি।ওলে গুলুগুলু বলেই আয়ানের গাল টেনে দিলো।
আয়ান রাগি চোখ নিয়ে বললো।
–তোমার সাহস কি করে হয় আমাকে ছোঁয়ার।আমি তোমার মজা করার ফ্রেন্ড নাকি হুম।
তখনি দরজার কাছে থেকে ফিয়াজ এসে বললো।
–দেখো আয়ান তুমি আমার বোনের সাথে এমন করে কথা বলতে পারো না।এটা কোনো স্যারের ব্যবহার।
–আমি আপনার বোনের সাথে খারাপ ব্যবহার করি নাই। ও যা করেছে তাই বলেছি।
–তোমাকে এখানে টাকা দিয়ে রাখা হয়েছে। এমনি এমনি রাখা হয় নাই। তাই তোমার সবকিছু শুনতে বাধ্য নই আমরা।
–শুনেন ভাইয়া আপনি বড় ভাই হন। তাই এর কথার কোনো উওর দিলাম না।আমি আয়ান আমার টাকার কোনো অভাব নেই।তাছাড়া আমি টিউশনি করায় না শুধু স্যারের সন্মান রক্ষা করতে পড়াইতে আসছিলাম। এই বাসায় আসার পর থেকে আমি যতো অপমানিত হয়েছি এর থেকে আর এই বাসায় পড়ানো আমার পক্ষে সম্ভব না। শখ আমি আর কাল থেকে পড়াতে আসবো না।স্যারকে বলে দিও।
–হ্যাঁ যাও তোমার মতো টিচার রাস্তা ঘাটে কত্ত পড়ে আছে।ভাত ছিটিয়ে দিলে যেমন কাকের অভাব হয় না।ঠিক তেমনি টাকা ছিটিয়ে দিলে টিচারের অভাব হবে না।
এখানে থাকলে কিছু হয়ে যেতে পারে।তাই নিজের রাগটা দমিয়ে নিয়ে আয়ান রাগে গজগজ করতে করতে চলে গেলো।
–ভাইয়া তুমি স্যারের সাথে বাজে ব্যবহার করলে কেনো।স্যারের কোনো দোষ নেই আমি তো ভুল করছি।
–তুই চুপ থাক তোর থেকে শুনতে চেয়েছি।স্যারের হয়ে আসছিস সাফাই গাইতে।
–ভাইয়া।
–ফিয়াজ এবার শান্ত হয়ে বললো।দেখ তুই আমার আদরের ছোট বোন। তোর সাথে যদি কেউ রাগ দেখিয়ে কথা বলে আমার সয্য হয় না।
বলেই ফিয়াজ চলে গেলো।
–সত্যি সত্যি স্যার আমাকে কাল থেকে পড়াতে আসবে না।বলেই মন খারাপ করলো শখ।
অন্ধকার রুমে বসে আছে একজন অচেনা ব্যক্তি।সামনে দেওয়ালে সাথে বড় ফ্রেম বাঁধানোর দুই মানুষের ছবি।একটা মধ্যে বয়স্ক লোকের ছবি।আরেকটা তারচেয়ে পাঁচ বছরের ছোট মহিলার ছবি।দুইজনের দিকে তাকিয়ে অচেনা ব্যক্তিটি বলে উঠলো।
–তোমরা চলে যাওয়ার বারো বছর হয়ে গেলো।এই বারোটা বছর ধরে অপেক্ষা করছি।এইবার সময় এসে গেছে।
–তুমি সময়ের অপেক্ষা না করে।আগেই রাস্তা থেকে সরিয়ে দিলেই তো পারো।ওর কেউ নেই দুনিয়ায়। মেরে ফেললে কেউ আসবে না দেখতে।বলল অচেনা ব্যক্তিটির ছেলে।
–তোর মতো আমি বকা নয়।এত বছর ধরে ধৈর্য ধরে আছি।এত বোকা কাজ করার জন্য।আমি কোনো কাঁচা কাজ করি না।আমার কাজের কোনো প্রমাণ আমি রাখি না।তাই চাইলে’ও কেউ আমাকে ধরতে পারবে না।হাহাহা।
–আমার আর সয্য হচ্ছে না বাবা।আমি ওকে আজ-ই শেষ করে ফেলবো। তারপরে ওর সবকিছু আমাদের হয়ে যাবে।
–দেখ বেশি বাড়াবাড়ি করবি না।আমার এত বছরের সাধনা তুই শেষ করে দিতে পারিস না।আর মাত্র দুটা বছর। তাহলে অপেক্ষার শেষ।
–থাকো তুমি তোমার অপেক্ষা নিয়ে আমি গেলাম।
বলেই ছেলেটা রেগে চলে গেলো।অচেনা ব্যক্তিটি ভয়ংকর হাসি দিলো।যে জিনিসের জন্য নিজের ভাই ভাবিকে হত্যা করতে দুইবার ভাবি নাই। সেখানে তুই তো আমার ছেলে তোকে কি করে ঠিক করতে হয়।আমার ভালো করেই জানা আছে। আমার কাজে যে বাধা প্রদান করবে।আমি তাকেই রাস্তা থেকে সরিয়ে দিব।
বলেই লোক রুমটি বাহিরে থেকে আটকে দিয়ে চলে গেলো।
পরের দিন সকাল বেলা শখ কলেজে গেলো আয়ানের সাথে কথা বলার চেষ্টা করছে।সরি বলছে তবু্’ও আয়ান কথা বলে নাই। শখের খুব খারাপ লাগছে ওর জন্য শুধু শুধু আয়ান অপমানিত হলো।আয়ান মাফ না করলে কেনো জানি শান্তি পাচ্ছে না শখ।
এদিকে শখদের ইয়ার চেঞ্জ পরীক্ষার সময় এগিয়ে এলো সবাই সবার মতো পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত।দেখতে দেখতে পরীক্ষা শেষ হয়ে গেলো।
আজ রেজাল্ট দিবে।কে কত তম স্থান অধিকার করেছে দেখতে এসেছে সবাই।
আমান:ইয়ে আমি ফ্রাস্ট হয়েছি।
–আমি সেকেন্ড হয়েছি।বলল আয়েশা।
–আমি তৃতীয় হলাম কি করে।বলল শখ।
–তোরা তাও আগে আছিস আমরা কোথায় চলে গেছি দেখতো।বলল মেধা।
–তুই যেমন ছাত্রী তেমনি পেয়েছিস আমি ভাবছি তুই পাস করলি কি ভাবে।বলল আমান।
–সত্যি তো আমি পাস করলাম কিভাবে স্যার মনে হয় ভুল করে আমাকে পাস করিয়ে দিয়েছে। মেধার কথা শুনে সবাই হেঁসে উঠলো।

পর্ব ৯ রাগী টিচার যখন রোমান্টিক হাসবেন্ড লেখিকা Fabiha bushra nimu

আমান:শখ তুই তো আঠারো রে পা দিলি।আমাদের ট্রিট দিলি না।
–আঠারো তে পা দিয়েছে আঠারো বছর পূর্ণ হয় নাই। আচ্ছা তোদের একটা দারুণ জিনিস খাওয়াবো।তোরা সবাই যেটা একবার খেলে আর কোনোদিন খেতে চাইবি না।
সবাই বেশ আগ্রহ নিয়ে বললো।কিরে।
–তাড়াতাড়ি বল শখ আমার যে আর সয্য হচ্ছে। খাবারের নাম শুনলেই আমার পেটের ভেতরের ইঁদুরটা দৌড়াদৌড়ি শুরু করে দেয়।বলল কাব্য।
–ছি তুই কতো ময়লা।পেটের ভেতরে ইঁদুর পালিস।বলল আয়েশা।
–একদম বাজে কথা বলবি না।
–আমি বাজে কথা বলি না।আমি ভালো মানুষ। তাই সব সময় ভালো কথা বলি।
–ওরে আমার ভালো মানুষ আইছে রে।তোর মধ্যে ভালোর ভ আছে তো।
–তোরা চুপ করবি নাকি আমি চলে যাব।বলল শখ।
–না না তুই যাইস না বইন তুই গেলে আমাদের খাওয়াবে কে।বলল কাব্য।
–হ্যাঁ,আসল কথাই চলে আসি।আমি তোদের এখন যা খেতে বলবো তাই খাবি।বল প্রমিস।
–প্রমিস এর কি আছে তুই আমাদের বিশ্বাস করতে পারিস।বলল মেধা।
–তোদের বিশ্বাস করি না জন্যই প্রমিস করতে বলছি।
–দেখলি সিয়াম আমাদেরকে বিশ্বাস করে না শখ।
–ঠিকি বলছে তোদের বিশ্বাস করার থেকে রাস্তার কুত্তারে বিশ্বাস করা অনেক ভালো। বলল সিয়াম।
–কি বললি সিয়ামের বাচ্চা। তোর আজ খাইছি।
–প্রথমত আমার কোনো বাচ্চা নেই। তবে ভবিষ্যতে হবে।আর আমি কোনো খাওয়ার জিনিস না।তুই আমাকে খাবি।আর তোর দ্বারা সব-ই সম্ভব পেতনী বলে কথা।
–কি আমি পেতনী।তোর বউ পেতনী।তোর বাচ্চা পেতনী। তোর চৌদ্দ গুষ্টি পেতনী। তুই আমারে পেতনী কস শালা।
–আপনি আমার কোন বোনকে বিয়ে করছেন দুলাভাই।
সিয়ামের বাচ্চা বলেই সিয়ামকে কিল ঘুষি মারতে লাগলো।
–তোরা থামবি।কি শুরু করে দিয়েছিস।
–তুই ওদের কথায় কান দিস না।তুই বল কি খাওয়াবি। বলল আমান।
–আমি এখন তোদের যা খাওয়াবো মানে খেতে বলবো তোরা খাবি তো।
সবাই মিলে একসাথে বলে উঠলো হ্যাঁ খাবো।
এবার শখ বলে উঠলো। তোরা সবাই কসম খা আর কোনোদিন আমার কাছে থেকে খেতে চাইবি না।বলেই শখ হাসতে শুরু করলো। সবাই শখের দিকে রাগি চোখ নিয়ে তাকিয়ে।
–এভাবে আমার দিকে তাকিয়ে আছিস কেনো।তোরাই তো বললি আমি যা খেতে বলবো তোরা সবাই তাই খাবি।
সবাই মিলে বললো হ্যাঁ খাবো তো এখন আমরা সবাই মিলে তোকে খাব।
শখ বাঁচতে চাইলে পালা বলেই শখ দিলো দৌড় শখের পেছনে পেছনে ওরা সবাই দৌড় দিলো।
–শখ দ্বারা বলছি।তুই পালিয়ে যাবি কোথায় আজ আমাদের হাত থেকে রক্ষে নেই তোর।তুই আজ শেষ।এত বড় ধোঁকা।বলল কাব্য।
দৌড়াতে দৌড়াতে কখন যে রাস্তার মাঝে চলে এসেছে শখ সেদিকে খেয়ালই নেই। রাস্তার মাঝখানে দুই কোমরে হাত দিয়ে হাঁপাচ্ছে শখ।
ঠিক তখনি সবাই রাস্তার কিনারে এসে শখকে দেখতে পায়।প্রচন্ড বেগে একটি গাড়ি শখের দিকে এগিয়ে আসছে।
–শখ দূরে সরে যা গাড়ি আসছে।বলল আমান।
রাস্তায় অনেক গাড়ির আওয়াজে শখ শুনতে পেলো না।উল্টো বললো আমি আজ কিছুতে-ই তোদের কাছে ধরা দিব না পারলে ধরে দেখা।
বলে সামনে ঘুরতে-ই দেখে গাড়িটি শখের কাছে চলে আসছে।আমান দৌড়ে আসতে আসতে-ই গাড়িটি দ্রুত গতিতে চলে আসলো।ভয়ে সবাই চোখ বন্ধ করে নেয়।ঠিক তখনি।কেউ এসে শখকে বাঁচিয়ে নেয়।
শখ ভয়ে চোখ বন্ধ করে ছিলো এখন মনে হচ্ছে কেউ ওকে ধরে আছে কে ধরে আছে।তা দেখার জন্য চোখ খুলে তাকিয়ে দেখতে পেলো একটি সুদর্শন যুবক।দেখতে বেশ লম্বা। শ্যাম বর্নের দেখতে।ছেলেটি এবার বললো।
–তুমি কি পাগল। মাথা খারাপ হয়ে গেছে তোমার। কেউ এভাবে রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকে।
–আসলে…
–কি দিনকাল আসলো আজ কাল কার ছেলেমেয়ে গুলো’ও না। একটা কিছু হতেই পারে না।নিজেকে শেষ কর দেওয়ার চেষ্টা করে। আরে বাবা সমস্যা যখন আছে।তখন তার সমাধান’ও আছে।তুমি চাইলে তার সমাধান করে নিতে পারো।নিজেকে শেষ করে দেওয়ার কি আছে।
–এই যে মিস্টার তখন থেকে ফালতু বকে-ই যাচ্ছেন।আগে আমার হাতটা ছাড়ুন। তারপরে আমাকে বলতে দেন।
ছেলেটি এবার শখের হাত ছেড়ে দিলো।
–আপনি যেটা ভাবছেন সেরকম কিছুইনা ওকে।আমি আমার ফ্রেন্ডদের খাওয়াইতে চেয়ে ছিলাম। পরে ওরা বলছে কি খাওয়াবি।আমি ওদের বলছি কসম খা আর কোনোদিন আমার থেকে খেতে চাইবি না।এটা বলার জন্য ওরা আমাকে তাড়াচ্ছে মারার জন্য। সবকিছু শুনে ছেলেটি বোকা বনে গেলো।
এতক্ষণ দূরে থেকে সবকিছু দেখছিলো আয়ান।রাগে চোখ লাল হয়ে গেছে। রাগে কপালের রগ গুলি ফুলে উঠেছে। ফর্সা শরীলে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। কেনো ওর রাগ হচ্ছে ও নিজেও জানে না।গজগজ করতে করতে চলে গেলো।
আমান আগে শখের কাছে এসে পৌঁছালো। তারপরে সবাই একসাথে শখের কাছে এলো।
–তুই কি পাগল তোর কোনো কমনসেন্স নেই। তুই রাস্তার মধ্যে এসে দাঁড়িয়ে ছিলি।তোর যদি কিছু হয়ে যেতো।
–তাহলে আরো ভালো তোরা সবাই খেতে পারতি।
–দিব এক থাপ্পড় সব দাঁত খুলে পরে যাবে।বলল আয়েশা।
–আমরা কি তোকে মেরে ফেলতাম নাকি রে।যে তুই নিজে চলে এলি মরার জন্য।
–হ রে তোদের আমার একদমই বিশ্বাস হয় না।মেরে ফেলতে’ও তো পারিস।
–তোকে আজ…
–থাম তোরা কি শুরু করলি।ধন্যবাদ ভাইয়া আপনাকে আমার ফ্রেন্ডকে সাহায্য করার জন্য।বলল আমান আরো অনেক কথা ব’লে সবাই চলে গেলো।
এদিকে।
তোমাদের দিয়ে একটা কাজ ভালো করে হয় না।কতো সুন্দর একটা সুযোগ ছিলো এমন সুযোগ আর পাবো আমরা। কেনো মারতে পারলে না মেয়েটিকে। ইচ্ছে করছে তোমাদের সবাইকে শেষ করে দেই।
বলেই লোকটি চিৎকার করতে শুরু করলো পাগলের মতো করছে রুমে সবকিছু ভেঙে টুকরো টুকরো করে ফেলছে।
–মেয়েটিকে বাঁচিয়ে দিলো কে।
–স্যার বড় সাহেব এসে পড়েছিল তাই জন্য মেয়েটিকে মারতে পারি নাই।যদি মেয়েটিকে মারতে যেতাম তার সাথে বড় সাহেব ও……
–এই চুপ কর।আমার কলিজার কিছু হলে তোকে আমি শেষ করে ফেলবো।গলা টিপে ধরে বললো।আমার কলিজার গায়ে একটা আচর পড়লে তোদের সবাইকে আমি লাশ বানিয়ে ফেলতাম।এবারের মতো মাফ করে দিলাম।পরের বার ভুল হলে তোদের মৃত্যু নিশিত। মনে রাখিস।আর তৈরি থাক সবাই। আমি যে কতটা খারাপ আর ভয়ংকর হতে পারি তোদের ধারণা নেই।বলেই লোকটি হাসি দিলো।
সবাই লোকটির হাঁসি দেখে ভয়ে কেঁপে উঠলো সবাই জানে এই হাসির মানে কি।কতোটা ভয়ংকর হতে পারে।তা বারো বছর ধরে দেখে আসছে এরা।এবার ভুল হলে এদের মৃত্যু নিশিত।
পরের দিনসকাল বেলা সবাই আগে কলেজে চলে আসলো আজকে ফ্রাস্ট ক্লাস নতুন বর্ষে উঠেছে। তাই কেউ জানেনা।কোন স্যারের কোন ক্লাস।আগে কোন স্যারের ক্লাস।সবাই ক্লাস রুমে গিয়ে ব্যাগ রেখে মাঠে বসে আড্ডা দিচ্ছে। এখনো ক্লাস শুরু হতে দেরি আছে।সবাই মিলে আড্ডা দিচ্ছিলো।ঠিক তখনি সেদিনের ছেলেটা আসে।
–হেই তুমি কেমন আছো।তুই এই কলেজে পড়ো আমাকে বলো নাই তো।
–আলহামদুলিল্লাহ ভালো,আপনি কেমন আছেন।আর আমি তো এই কলেজে পড়ি এটা বলার কি আছে মামা।
–এ্যাঁ মামা।আমাকে তোমার কোন দিক দিয়ে মামা মনে হয়।
–এ্যাঁ নয় হ্যাঁ ভাইয়া আমাদের শখের প্রত্যেকটি ছেলেই নাকি তার মামা হয়।সব ছেলে নাকি জাতির মামা।বলল আমান।
–এটা কোনো কথা। তোমরা সবাই কোন ইয়ারে পড়ো।
–আমরা ইন্টার দ্বিতীয় বর্ষে উঠলাম ভাইয়া।
–গুড আমি অর্নাস ফাইনাল ইয়ারে পড়াশোনা করছি।আমি তোমাদের সিনিয়র। তো আমি যা বলবো তোমরা আমার কথা শুনতে বাধ্য।
–তা তো অবশ্য-ই ভাইয়া।আর তুৃমি(শখলে উদ্দেশ্য করে)তুমি আমাকে মামা ডাকবে না। ভাইয়া বলে ডাকবে।বলেই চলে গেলো।
–এই নাকি অর্নাসে পড়ে বোন আমার বিশ্বাস হচ্ছে না জানিস।মনে হচ্ছে আজ থেকে দশ বছর আগে এই লোক পড়াশোনা শেষ করছে।লোকটির নাম’ও জানা হলো না।বলল আমান।
–নাম জেনে কি করবি তোর বোনের সাথে বিয়ে দিবি। বলল শখ।
–খেয়ে দেয়ে কাজ নেই তো আমার। এই বুইড়া বেটার লগে আমার ওত সুন্দর ফুলের মতো বোনরে বিয়ে দিমু।
আমানের কথা শুনে সবাই হেঁসে দিলো।
চর্তুথ পিরিয়ডে আয়ানের ক্লাস কেউ জানতো না।সবাই মিলে গল্প করছে।এমনিতেই শখের ওপরে রেগে আছে। তার ওপরে শখ একটা ছেলের সাথে হেঁসে হেঁসে কথা বলছে।ছেলেটি নতুন এসেছে। শখদের সাথে বেশ ভালো মিল হয়েছে।
–গল্প বাহিরের গিয়ে করতে পারেন।এটা ক্লাস রুম গল্প করার জায়গা না।
শখ না তাকিয়ে বললো।
–আমাদের ক্লাস রুম আমরা কি করবো না করবো এখন তুই বলে দিবি নাকি রে।
আয়ান আরো রেগে গেলো।
আয়েশা শখকে হাত দিয়ে বারবার মানা করছে কথা না বলতে।সামনে তাকাইতে কিন্তু শখ তো শখই ত্যারার মতো বসেই আছে।
–তাই নাকি।বলল আয়ান।
এই তুই কেডারে এভাবে বিনা পয়সায় এক বস্তা জ্ঞান দিতে আইছু।
–মুখের কি ভাষা এগুলো শখ।এখনি আমার ক্লাস থেকে বেড় হয়ে যান।
–হ্যাঁ হয়েছে শালা বজ্জাত ব্যাডা হনুমান ছাগলের তিন নাম্বার বাচ্চার মতো কথা বলতে হবে না । এমনি এক বছরে জীবটা ত্যানাত্যানা করে দিয়েছে এখন মুক্তি পেয়েছি শান্তিতে থাকতে দে ভাই।
–আয়ান এবার চিৎকার করে উঠলো শখ……
শখ এবার সামনে তাকিয়ে আকাশ থেকে পড়লো।
–আল্লাহ,স্যার আপনি না মানে আমি কিছু বলি নাই। সামনে আমাদের কলেজে অনুষ্ঠান তো তাই কৌতুক শিখছিলাম। সরি স্যার ইনোসেন্ট ফেইস করে বললো।
আয়ান জোরে জোরে নিশ্বাস নিচ্ছে এটা ক্লাস রুম এখানে কোনো ভুল করা যাবে না।নিজেকে শান্ত করে নিয়ে বললো।
–ব্যাগ ব্রেঞ্চে উঠে দাড়ান মিস শখ।
–কেনো স্যার।
আয়ান শান্ত দৃষ্টি নিয়ে শখের দিকে তাকিয়ে আছে। আয়ানের এমন শান্ত দৃষ্টি শখের কলিজা কেঁপে উঠলো।আর কোনো কথা না বলে উঠে দাড়ালো।
–এবার দুই কান ধরে দাঁড়িয়ে থাকবে পুরো ক্লাস।এবার আর এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকতে বললো না।কারন পায়ে দাঁড়িয়ে থাকলে পড়ে যাবার সম্ভবনা আছে। শখ পড়ে যেতে পারে বলে।তাই দুই কান ধরতে বললো।

About admin

আমার পোস্ট নিয়ে কোন প্রকার প্রশ্ন বা মতামত থাকলে কমেন্ট করে জানাতে পারেন অথরা মেইল করতে পারেন admin@sottotv.com এই ঠিকানায়।