প্রত্যেক নারী-পুরুষকে একবার হলেও জানা দরকার, এই ফলটি চিনেন? কি রয়েছে এই ফলের মধ্যে…

ফলের নামটা জানা, তবে খুব একটা পরিচিত না। বর্ষার এই ফল তেমন জনপ্রিয় না হলেও অসাধারণ ভেষজ পুষ্টিগুণ সম্পন্ন। ভাবছেন কোন ফল? ডেউয়া বা ডেউফল। টক মিষ্টি স্বাদের ডেউয়া ফল কাঁঠালের মতো ছোট ছোট কোষে বিভক্ত। বৃষ্টির মৌসুমে ভর্তা করে খেতে খুবই সুস্বাদু এই ফল।

বিশাল আকৃতির ডেউয়া গাছ চিরসবুজ বৃক্ষ। পাতাগুলো বড় এবং খসখসে, অনেকটা ডুমুরের পাতার মতো। এক একটি গাছ ২০-২৫ ফুট উঁচু হয়। এর কাঠ বেশ উন্নত মানের, বড় বড় জিনিসের কাঠামো তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। গাছে ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ফুল আসে এবং জুন মাসের দিকে ফল পাকতে শুরু করে।

ডেউয়া ফলটি গোলাকৃতির, ২-৫ ইঞ্চি চওড়া হয়, পাকলে হলুদ রং ধারণ করে। প্রতিটি ফলের মধ্যে ২০-৩০টি বীজ থাকে। বীজের গায়ের ‘মাংসল’ অংশটাই খাওয়া হয়। প্রতিটি ফল ২০০-৩৫০ গ্রাম হতে পারে।

ডেউয়া গাছ ১০-১৫ মিটার লম্বা হয়। ফল সুস্বাদু এবং উপকারী। ফল কাঁঠালের ন্যায় যৌগিক বা গুচ্ছফল। বহিরাবরণ অসমান। কাঁচা ফল সবুজ, পাকলে বহিরাবরণ হলুদ। ভেতরের শাঁস লালচে হলুদ। ফলের ভেতরে থাকে কাঁঠালের ছোট কোয়ার (কোষের) মতো কোয়া এবং তার প্রতিটির মধ্যে একটি করে বীজ থাকে।

গ্রামাঞ্চলে অত্যন্ত পরিচিত একটি ফল। তবে শহরে তেমন চাহিদা না থাকায় বর্তমানে এর চাষ অনেকটা কমে এসেছে। ফলে না জেনেই আমরা মিস করে যাচ্ছি পুষ্টির এক বড় উৎস।

ভিটামিন সি ও ক্যালসিয়ামের আধার বলা হয় ডেউয়া ফলকে। এগুলো ছাড়াও ডেউয়া ফলে রয়েছে অন্যান্য পুষ্টি উপাদান। ডেউয়া ফলের খাদ্যযোগ্য প্রতি ১০০ গ্রাম অংশে রয়েছে –

খনিজ- ০.৮ গ্রাম, খাদ্যশক্তি- ৬৬ কিলোক্যালরি, আমিষ- ০.৭ গ্রাম, শর্করা- ১৩.৩ গ্রাম, ক্যালসিয়াম- ৫০ মিলিগ্রাম, লৌহ- ০.৫ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি১- ০.০২ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি২- ০.১৫ মিলিগ্রাম, ভিটামিন সি- ১৩৫ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম- ৩৪৮.৩৩ মিলিগ্রাম।

তাই আজ জানবো ডেউয়া ফলের অজানা কিছু উপকারিতা নিয়ে।

১. অনিয়ন্ত্রিত ওজন এ সময়ের একটা বড় সমস্যা। অথচ ঠাণ্ডা পানিতে ডেউয়া ফলের রস মিশিয়ে নিয়মিত পান করলেই আমরা আমাদের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারি। এমনকি ডেউয়া ফল রোদে শুকিয়ে নিয়ে অফ সিজনেও খেতে পারি।

২. মুখের রুচি ফিরে পেতে খেতে পারেন এই ফল। ডেউয়া ফলের রসের সঙ্গে সামান্য লবণ ও গোলমরিচের গুঁড়া মিশিয়ে খাওয়ার আগে খেতে হবে। দেখবেন সপ্তাহ না পেরুতেই রুচি ফিরে এসেছে।

৩. পেট পরিষ্কার না থাকলে সারাদিন কা’টে অস্বস্তিতে। তাই বলা যেতেই পারে ‘পেট শান্তি তো সব শান্তি’। পেটের গণ্ডগোল থেকে রেহাই পেতে সকালে খালি পেটে খান কাঁচা ডেউয়া। এজন্য গরম পানির সঙ্গে কাঁচা ডেউয়া বাটা মিশিয়ে নিবেন।

৪. এই বিদ্যমান ভিটামিন সি ত্বক, চুল ও দাঁতের নানা রো’গ প্রতি’রোধ করবে। আর ক্যালসিয়াম দাঁত ও হাড়ের ক্ষয় প্রতিরোধ করে। আর পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে হৃদরো’গ ও স্ট্রোকের ঝুঁ’কি কমায়।

আরও যকৃতের নানা অসুখ নিরাময়ে সাহায্য করে ডেউয়া। কোষ্ঠকাঠিন্য ও গ্যাসের কারণে পেটব্য’থা কমাতে সহায়তা করে ফলটি। পেট পরিষ্কার করতে কাঁচা ডেউয়া ৮-১০ গ্রাম বেটে নিয়ে গরম পানিতে মিশিয়ে সকালে খালি পেটে খেতে হবে।

গাছের ছালের গুঁড়ো ত্বকের রুক্ষতা দূর করে এবং ব্রণের দুষিত পুঁজ বের করে দেয়। ডেউয়ার ভিটামিন সি ত্বক, চুল, নখ, দাঁত ও মাঢ়ির নানা রো’গ প্রতিরোধে সহায়তা করে। এমন আরো অপরিচিত ও অচেনা ভেষজ ও পুষ্টিগুণ সম্পন্ন ফল গুলো হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের মাঝ থেকে। যার সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ করা খুব প্রয়োজন।

Check Also

Lamar University Study Abroad Programs

Studying abroad is an experience that goes beyond academic learning; it’s a chance to grow …