যুবককে তুলে নিয়ে চার যুবতী মিলে সংঘবদ্ধ ধ-র্ষণ!

এবার চোখে রাসায়নিক ছিটিয়ে, জোর করে গাড়িতে তুলে নিয়ে গিয়ে এক যুবককে সংঘবদ্ধ ধ-র্ষণের অভিযোগ উঠেছে চার যুবতীর বিরুদ্ধে। ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশের জালন্ধরের এই ঘটনায় হুলস্থুল পড়ে গিয়েছে। সংবাদমাধ্যম ফ্রি প্রেস জার্নাল-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই যুবক একটি কারখানায় শ্রমিকের কাজ করেন। তার অভিযোগ, কাজ থেকে বাড়ি ফেরার পথে কাপুরথালা রোডে একটি গাড়ি তার সামনে এসে দাঁড়ায়।

এ সময় গাড়িতে থাকা যুবতীরা একটি চিরকুট দিয়ে ঠিকানা জিজ্ঞাসা করেন। সেই চিরকুটে লেখা ঠিকানা পড়ার সময় যুবতীরা তার চোখে রাসায়নিক ছিটিয়ে দিতেই জ্ঞান হারান। ওই যুবকের দাবি, জ্ঞান ফিরতে তিনি দেখেন একটি গাড়িতে হাত-পা অবস্থায় পড়ে আছেন।

এদিকে যুবকের অভিযোগ, গাড়িতে থাকা চার যুবতী তাকে জোর করে মাদক সেবন করান। তার পর টানতে টানতে একটি জঙ্গলে নিয়ে যান। সেখানে নিয়ে গিয়ে তাকে মদ্যপান করানো হয়। তার পর চার জন মিলে তাকে ধর্ষণ করেন। তার পর ওই যুবককে জঙ্গলে ফেলে রেখে চলে যান যুবতীরা।

এদিকে যুবকের আরও দাবি, যুবতীরা ইংরেজিতে কথা বলছিলেন নিজেদের মধ্যে। তাদের পোশাক-আশাক দেখে মনে হচ্ছিল কোনও সম্ভ্রান্ত পরিবারের। বিষয়টি জানাজানি হতেই হুলস্থুল পড়ে যায়। ঘটনাটি ঠিক কী তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। সূত্র: টাইমস নাও, আনন্দবাজার

বিশ্বে জনসংখ্যা দাঁড়াল ৮০০ কোটি, অষ্টম স্থানে বাংলাদেশ

এবার বিশ্ব জনসংখ্যা ৭০০ কোটির মাইলফলক অতিক্রম করার মাত্র ১১ বছর পর আজ তা ৮০০ কোটিতে পৌঁছালো। জন্মহারের প্রবণতার ওপর ভিত্তি করে এ সংখ্যা নির্ধারন করেছে জাতিসংঘ। জনসংখ্যা বিবেচনায় পৃথিবীতে বাংলাদেশের অবস্থান অষ্টম। এ উপলক্ষে ইউএন ডট ওআরজি কাউন্টডাউন শুরু করে। জনসংখ্যা ৮০০ কোটিতে পৌঁছানোর দিনটিকে পালন করতে নাম দেওয়া হয় ‘ডে অব এইট বিলিয়ন’।

এদিকে জাতিসংঘের বরাতে আজ মঙ্গলবার সিএনএন জানিয়েছে, বিশ্বের জনসংখ্যা নির্ভুলভাবে গণনা করা খুবই কঠিন কাজ, তবে ১৫ নভেম্বর বিশ্ব জনসংখ্যা ৮০০ কোটির মাইলফলক স্পর্শ করেছে বলে যথেষ্ট তথ্য-উপাত্ত রয়েছে। এ বিষয়ে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এক বিবৃতিতে বলেছেন, এই গৃহের মানবতার দায়িত্বশীলতা ভাগ করে নেয়ায় বিবেচনার মধ্য দিয়ে এই মাইলফলকটির বৈচিত্র্য এবং অগ্রগতি উদযাপন করতে হবে। জাতিসংঘ মনে করে জনস্বাস্থ্য, পুষ্টি, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা এবং ওষুধের উন্নতির সুবাদে মানব উন্নয়নের পাশাপাশি মানুষের আয়ু বৃদ্ধি পেয়েছে।

এটি উচ্চ প্রজনন হারের ফলাফল, বিশেষ করে বিশ্বের দরিদ্রতম দেশগুলোতে, যার বেশিরভাগই সাব-সাহারান আফ্রিকায়, যা তাদের উন্নয়ন লক্ষ্যগুলোকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধি অর্থনৈতিক উন্নয়নের পরিবেশগত প্রভাবকেও বাড়িয়ে দিয়েছে। জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিলের প্রধান নাতালিয়া কানেম বলেছেন, কেউ কেউ উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে আমাদের পৃথিবী অতিরিক্ত জনসংখ্যার বোঝায় পরিণত হয়েছে। আমি এখানে স্পষ্টভাবে বলতে চাই যে, নিছক মানুষের সংখ্যা ভয়ের কারণ নয়।

এদিকে রকফেলার ইউনিভার্সিটির ল্যাবরেটরি অফ পপুলেশনের জোয়েল কোহেন এএফপিকে বলেন, পৃথিবী কত লোককে সমর্থন করতে পারে তার দুটি দিক রয়েছে: প্রাকৃতিক সীমা এবং মানুষের পছন্দ। আমাদের পছন্দের ফলে মানুষ প্রতি বছর গ্রহটির আরও জৈব সম্পদ আহরণ ও ভোগ করতে পারে, এতে অনেক বেশি জৈব সম্পদ যেমন বন এবং জমি গ্রাস করা হবে।

জীবাশ্ম জ্বালানির অত্যধিক ব্যবহার, উদাহরণস্বরূপ- আরও কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমনের দিকে পরিচালিত করে, যা বিশ্ব উষ্ণায়নের জন্য দায়ী। বিশ্বের বর্তমান জনসংখ্যা ১৯৫০ সালের ২.৫ বিলিয়ন (আড়াই’শ কোটি) থেকে তিনগুণের চেয়ে বেশী বৃদ্ধি পেয়েছে। জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিলের রাচেল স্নো এএফপিকে বলেছেন, ১৯৬০ এর দশকের গোড়ার দিকে বিশ্বের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার নাটকীয়ভাবে হ্রাস পেয়েছে।

এদিকে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ১৯৬২ থেকে ১৯৬৫ সালের মধ্যে সর্বোচ্চ ২.১ শতাংশ থেকে ২০২০ সালে ১ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। জাতিসংঘের প্রদর্শিত হিসাবে জন্মহার ক্রমাগত হ্রাসের কারণে ২০৫০ সাল নাগাদ এটি ০.৫ শতাংশের কাছাকাছি হতে পারে। জাতিসংঘের অনুমিত হিসাবে বলা হয়, ২০৩০ সালে জনসংখ্যা প্রায় ৮.৫ বিলিয়ন, ২০৫০ সালে ৯.৭ বিলিয়ন এবং ২০৮০-এর দশকে প্রায় ১০.৪ বিলিয়নে বৃদ্ধি পাবে। অন্য দলগুলো অবশ্য ভিন্ন পরিসংখ্যান করেছে।

ইউএস-ভিত্তিক ইনস্টিটিউট ফর হেলথ মেট্রিক্স অ্যান্ড ইভালুয়েশন (আইএইচএমই) ২০২০ সালের একটি গবেষণায় অনুমান করেছে যে বিশ্বব্যাপী জনসংখ্যা ২০৬৪ সালের মধ্যে সর্বাধিক বৃদ্ধি পাবে, তবে কখনই ১০ বিলিয়নে পৌঁছাবে না এবং ২১০০ সালের মধ্যে ৮.৮ বিলিয়নে নেমে আসবে। অন্যদিকে ফরাসি ইনস্টিটিউট ফর ডেমোগ্রাফিক স্টাডিজ অনুসারে, ১০,০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে প্রায় ৬ মিলিয়ন থেকে বিশ্ব জনসংখ্যা ২,০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে ১০০ মিলিয়নে এবং তারপর খ্রিস্টপূর্ব প্রথম শতাব্দীতে ২৫০ মিলিয়নে উন্নীত হয়।

ব্লাক ডেথের ফলে ১৩০০ থেকে ১৪০০ সালের মধ্যে মানুষের জনসংখ্যা ৪২৯ থেকে ৩৭৪ মিলিয়নে নেমে আসে। অন্যান্য ঘটনা, যেমন প্লেগ অফ জাস্টিনিয়ান, যা ৫৪১ থেকে ৭৬৭ সালে দুই শতাব্দী ধরে ভূমধ্যসাগরে আঘাত হানে এবং পশ্চিম ইউরোপে মধ্যযুগের প্রথম দিকের যুদ্ধগুলিও পৃথিবীতে মানুষের সংখ্যায় সাময়িক হ্রাস ঘটায়। ১৯ শতক থেকে জনসংখ্যা বিস্ফোরণ হতে শুরু করে, মূলত আধুনিক ওষুধের বিকাশ এবং কৃষির শিল্পায়নের কারণে, যা বিশ্বব্যাপী খাদ্য সরবরাহকে বাড়িয়ে তোলে।

এদিকে গত ১৮০০ সাল থেকে বিশ্বের জনসংখ্যা আট গুণ বেড়েছে, আনুমানিক এক বিলিয়ন থেকে আট বিলিয়ন হয়েছে। জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয়াদি-সংক্রান্ত জনসংখ্যা বিভাগের ‘বিশ্বজনসংখ্যা সম্ভাবনা ২০২২’ অনুযায়ী, বিশ্বের জনসংখ্যা এখন থেকে ১৫ বছর পর অর্থাৎ ২০৩৭ সালে হবে নয়শ’ কোটি।

এদিকে বর্তমানে বিশ্বে সবচেয়ে জনবহুল দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে- চীন (১৪২ দশমিক ৬ কোটি), ভারত (১৪১ দশমিক ২ কোটি), যুক্তরাষ্ট্র (৩৩ দশমিক ৭ কোটি), ইন্দোনেশিয়া (২৭ দশমিক ৫ কোটি), পাকিস্তান (২৩ দশমিক ৪ কোটি), নাইজেরিয়া (২১ দশমিক ৬ কোটি), ব্রাজিল (২১ দশমিক ৫ কোটি), বাংলাদেশ (১৭ দশমিক ১ কোটি)।

About admin

আমার পোস্ট নিয়ে কোন প্রকার প্রশ্ন বা মতামত থাকলে কমেন্ট করে জানাতে পারেন অথরা মেইল করতে পারেন admin@sottotv.com এই ঠিকানায়।