রবিবার , নভেম্বর 27 2022

কিনতে যেতে হবে না, বাড়ির সাধারণ পাত্রে লাগান শসা, খেয়াল রাখুন এই ৭টি বিষয়

যে ফসল গুলি বা ফলগুলি বারো মাস পাওয়া যায় তাদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হলো শসা (Cucumber)। বাড়ির খাবারে ব্যবহার করা প্রতিটি সবজির মতোই প্রত্যেকটি বাড়িতে এটাও দৈনন্দিন একটি ফল। প্রতিটি সুস্বাদু খাবারের সাথেই আমরা স্যালাড খাই আর এই শসা ছাড়া স্যালাড অসম্পূর্ণ। এছাড়াও ডাক্তারদের পরামর্শ অনুযায়ী, শসার অনেক উপকারিতা রয়েছে। শরীরে জলের অভাব, কিডনির সমস্যা, কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা, ওজনের হ্রাস-বৃদ্ধি এই একাধিক ক্ষেত্রে শসা খাওয়া জরুরি। কারণ এতে ভিটামিন বি (Vitamin B), নিয়াসিন (Niyasin), থিয়ামিন (Thiyamin) -এর মতো একাধিক উপাদান রয়েছে।

তবে বর্তমানে বাজারে কোন সবজি অথবা ফল বিশুদ্ধ হয় না। সেগুলিকে বিক্রি করার জন্য ক্রেতারা বিভিন্ন রাসায়নিক সার ব্যবহার করেন। তখন সবজিগুলি এবং ফলগুলিও ভেজাল সমৃদ্ধ হয়ে পড়ে। যা আমাদের শরীরের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকর। তাই প্রত্যেকেই টাটকা ফল খাওয়ার জন্য নিজেদের জমিতে সেই নির্দিষ্ট ফলের চাষ করতে চান। কিন্তু চাষ করতে গেলে অনেক জমির প্রয়োজন হয়। আর সকলের পক্ষে সেই জমি বন্দোবস্ত করা সম্ভব নয়। তাহলে চলুন এই প্রতিবেদনে জমি না থাকা সত্ত্বেও বাড়িতে বস্তার মধ্যে কিভাবে শসা চাষ করবেন সেই পদ্ধতি গুলো জেনে নিন (Cultivation Cucumbers Home)।

১) প্রথমে আপনাকে কোন সিমেন্টের বস্তা বা বড় ধরনের প্লাস্টিক ব্যাগের ভেতরে উর্বর সমৃদ্ধ মাটি দিয়ে ভরাট করতে হবে আর এই উর্বর মাটি হিসেবে আপনি ব্যবহার করতে পারেন দোয়াশ মাটি। এরপর বীজ রোপন করার পূর্বে ওই মাটিতে অল্প সার মিশিয়ে নিন।

২) মাটি যদি অত্যন্ত বেশি শুকনো থাকে, তাহলে একটু জল মিশিয়ে নিয়ে আদ্রতা করে তুলুন। তারপর বাজার থেকে নিয়ে আসা শসার বীজগুলি তৈরি করা মাটির ৪-৬ ইঞ্চি নীচে পুঁতে দিন। এবং হাত দিয়ে আলতো করে চেপে দিন যাদের উপরের মাটি গুলি আলগা না হয়ে যায়।

৩) বীজ বসানোর দুই থেকে তিন দিন পর পর হাতের সাহায্যে বা স্প্রের সাহায্যে জলের ছিটে দিন। এতে মাটির আদ্রতা বজায় থাকে এবং দ্রুত অঙ্কুর বেরোতে সাহায্য করে। ঠিক এইভাবে সঠিক পদ্ধতি পালন করলে দেখবেন ৮ থেকে ১০ দিনের মধ্যে অঙ্কুর বেরোচ্ছে।

৪) বস্তার মধ্যে গাছটি বসালে লক্ষ্য রাখতে হবে যাতে ছায়া না পরে। গাছটিকে সূর্যের আলোয় রাখবেন। কারণ সূর্যের আলোতেই এদের খাদ্য উৎপাদন করা এবং বৃদ্ধি পাওয়া সম্ভব।

৫) গাছটিতে রাসায়নিক সার ব্যবহার না করে জৈব সার ব্যবহার করুন। বাড়িতে গোবর সার থাকলে তা এই ক্ষেত্রে আরও ভালো।

৬) এইভাবে সঠিক পদ্ধতিতে চাষ করলে গাছটি ৪০-৪৫ দিনের মধ্যে বড় হবে এবং সাথে সাথে গাছে ফল ধরতে শুরু করবে। এটি যেহেতু লতানো জাতীয় গাছ, তাই আপনি মাচা তৈরি করতে পারেন। এতে শসার বৃদ্ধি ভালো হবে।

৭) আপনি যদি গাছটিকে বাড়িতে খাবারের জন্য চাষ করেন তবে কোনো মারাত্মক রাসায়নিক সার ব্যবহার করবেন না। যদি কোন সময় গাছে পোকা ধরতে দেখা যায় সেই সময় দোকান থেকে ওষুধ এনে পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবহার করতে পারেন।জানিয়ে রাখি, শশা এমন একটি গাছ যা বেশি দিন ফল দিতে না পারলেও যদি আবারো বীজ রোপন করা হয় তাহলে আপনি সারা বছরই (Cucumber Farming) এই ফল উৎপাদন করতে পারবেন।

Check Also

পৃথিবীর সবচেয়ে দামি গাছ, ১ কাঠা চাষ করলেই কোটিপতি, একটি গাছ আজীবনের পেনশন

কৃষি নির্ভর দেশ ভারতে ধান গম থেকে শুরু করে নানান ফসলের চাষ হয়। এর পাশাপাশি …