কাঁদলেন হিরো আলম, বললেন ‘আমি নাকি বানর খেলা দেখাই’

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনের দিনে এফডিসিতে এসে লাঞ্চিত হয়েছিলেন আলোচিত অভিনেতা হিরো আলম। শিল্পী সমিতির ভোটার না হওয়ায় এদিন এফডিসিতে প্রবেশ করতে পারেননি তিনি। প্রধান ফটক থেকেই ফিরিয়ে দেওয়া হয় তাকে। এরপর নিরাপত্তারক্ষাকারী বাহিনী তাকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেন। এ ঘটনায় খুব হতাশ হয়েছেন সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে আলোচনায় আসা এই অভিনেতা। আর কখনো এফডিসিতে যাবেন না এবং আর কোনো সিনেমাই নির্মাণ করবেন না বলেও মনস্থির করেছেন তিনি।

সোমবার (৩১ জানুয়ারি) এক ভিডিওবার্তায় হিরো আলম এসব কথা বলেন। কান্না জড়ানো কণ্ঠে এই অভিনেতা বলেন, ‘চিন্তা-ভাবনা ও নিজের কাছে প্রশ্ন করলাম। তারপর সিদ্ধান্ত নিলাম, আমি আর কোনোদিন এফডিসিতে যাবো না। কোনো চলচ্চিত্র নির্মাণ করব না। কেননা সুশীল সমাজ আমাকে মেনে নিতে পারে না। আবার এফডিসির লোকজন আমাকে নিতে পারছে না। তারা একের পর এক ধিক্কার, লাঞ্ছিত করে যাচ্ছে আমাকে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি সবসময় সবার জন্য কথা বলি। এখন থেকে আর বলব না। আমি সিনেমাকে ভালোবাসি। আমার ব্যবসা, ইউটিউব, কনসার্ট থেকে যে টাকা আয় করি তা দিয়ে সিনেমা তৈরি করছি। কিন্তু এফডিসির কিছু লোক বলছে আমি সিনেমাকে নষ্ট করে ফেলছি। তাই আমার সঙ্গে ভালো কোনো শিল্পীকে কাজ করতে দেওয়া না। তাই আজ থেকে সিদ্ধান্ত নিলাম কোনো সিনেমা করবো না।’

হিরো আলম নাকি দেখতে বানর আর বানর খেলা দেখাতেই এফডিসিতে আসেন এমন কথার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আমাদের নাকি তাদের সমাজে নিলে তাদের অনেক সমস্যা। আমি এফডিসিতে গেলে অনেক ভক্ত-লোকজন আমার পেছনে আসেন। আমি নাকি বানর! শাহীন সুমন বলে, আমি নাকি বানর! এ কথা অনেকেই বলে। আমি নাকি বানর খেলা দেখানোর জন্য এফডিসিতে যাই। তাহলে আমার মতো যারা স্টার আছে তারাও বানর! তাদেরকে দেখতে জনগণ যায়। আমাকে এই বিষয়গুলো নিয়ে অপমান করা হয়েছে।’

সব মিলিয়ে এফডিসি আর সিনেমা বানানোর থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এই অভিনেতা। সবশেষে হিরো আলম বলেন, ‘আমি তো ওই জীবনেই ভালো ছিলাম। একবেলা কাজকাম করে আসিলাম। মাকে নিয়ে একটা কুঁড়ের ঘরে থাকতাম। ওই জীবনই ভালো ছিল। এই সমাজের লোক আমাদের মেনে নেবে না। তাদের কাছে গেলে তারা আমাকে ধিক্কার দেয়, অপমান করে। আমার চেহারা ভালো না, তারা আমাকে কষ্ট দেয়, অপমান করে।’

Check Also

Lamar University Study Abroad Programs

Studying abroad is an experience that goes beyond academic learning; it’s a chance to grow …