জায়েদ খানেরই পক্ষ নিলেন মৌসুমী

চিত্রনায়ক জায়েদ খান ও ওমর সানী ইস্যুতে রীতিমতো বোমা ফাটালেন চিত্রনায়িকা মৌসুমী। গত রোববার জায়েদ খানের বিরুদ্ধে মৌসুমীকে হয়রানি করা ও সংসার ভাঙার চেষ্টা করার অভিযোগ আনেন ওমর সানী। এ ঘটনায় শিল্পী সমিতি বরাবর অভিযোগও করেন তিনি। সেই ঘটনার ২৪ ঘন্টা পার না হতেই মৌসুমী জানালেন, জায়েদ অনেক ভালো ছেলে। তাকে এই নায়ক কোনো অসম্মানই করেননি।

গণমাধ্যমকে এই চিত্রনায়িকা বলেন, ‘আমি মনে করি আমার প্রসঙ্গটা টানার কোনো প্রয়োজন ছিল না। আমি জায়েদকে অনেক স্নেহ করি ও আমাকে যথেষ্ট সম্মান করে। আমাদের মধ্যে যতটুকু কাজের সম্পর্ক, সেটা খুবই ভালো একটা সম্পর্ক। সেখানে ও আমাকে অসম্মান করার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। আর ওর মধ্যে গুণ ছাড়া এ ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে পারে এমন কিছুই আমি দেখিনি। তারপর বলব ও অনেক ভালো ছেলে। সে কখনই আমাকে অসম্মান করেনি।’

মৌসুমী বলেন, ‘কেন এই প্রশ্নটা বারবার আসছে, সে আমাকে বিরক্ত করছে-উত্ত্যক্ত করছে, এই জিনিসটা আমার আসলে… জানি না এটা কেন হচ্ছে। এটা যদিও একান্ত আমাদের ব্যক্তিগত সমস্যা। সে সমস্যা আমাদের পারিবারিকভাবেই সমাধান করা দরকার ছিল।’

এই নায়িকা বলেন, ‘আমি মনে করি, এখানে জায়েদের খুব একটা দোষ আমি পাইনি। আরেকটা কথা বলতে চাই, আমাকে ছোট করার মধ্যে আমাদের… যাকে আমরা অনেক শ্রদ্ধা করে আসছি সেই ওমর সানী কেন এত আনন্দ পাচ্ছেন- সেটা আমি বুঝতে পারছি না। আমার কোনো সমস্যা থাকলে অবশ্যই আমার সঙ্গে সমাধান করবে, সেটিই আমি আশা করি।’

যদিও এর আগেই গণমাধ্যমের কাছে মৌসুমীকে ডিস্টার্বের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জায়েদ খান। তার ভাষ্যে— সিনেমা-শুটিং নিয়ে মৌসুমীর সঙ্গে প্রায়শই কথা হয় তার। সেটা ডিস্টার্বের মতো কিছু নয়। মৌসুমীর সঙ্গে কথা বললেই বিষয়টি পরিষ্কার হবে।

সে সময় জায়েদ খান বলেছিলেন, ‘আমি কখনই তাকে (মৌসুমী) হেয়প্রতিপন্ন করিনি। এটা একদম ভুয়া কথা। এই তো ১৫-২০ দিন আগেও ডিপজল ভাইসহ মৌসুমী আপা মিলে মিটিং করেছি। সেখানে আমাদের কথাও হয়েছে। সম্পর্ক খারাপ হলে মিটিংয়ে আমাদের একসঙ্গে থাকার কথা নয়। এ ছাড়া সিনেমার শুটিংসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আমাদের মাঝেমধ্যেই কথা হয়। এ ব্যাপারে মৌসুমী আপার সঙ্গে কথা বললেই সব জানতে পারবেন।’

মৌসুমী আপাকে শুধুই সম্মান করা যায়, উনি আমাদের দেশের গর্ব: জায়েদ : চিত্রনায়িকা মৌসুমীকে ৪ মাস ধরে হয়রানি ও বিরক্ত করছেন চিত্রনায়ক জায়েদ খান। সেই সঙ্গে সংসার ভাঙার জন্য বিভিন্ন কৌশলে তাকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করে আসছেন। এমন অভিযোগ এনে গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি বরাবর শিল্পী সমিতির কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে চিঠি দিয়েছেন মৌসুমীর স্বামী চিত্রনায়ক ওমর সানি।

তবে তার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জায়েদ খান। তিনি বলেন, আমি মৌসুমী আপাকে হয়রানি ও বিরক্ত করেছি এটা তো আপাকে বলতে হবে, ওমর সানি ভাই বললে তো হবে না। উনি ছাড়া আর কেউ অভিযোগ করলে তো হবে না। আপা যদি একই অভিযোগ করে, আমি যেকোন সাজা মাথা পেতে নেব। আপনারা আপার সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁর বক্তব্য নেন। আমি কীভাবে উনাকে বিরক্ত করেছি। আপাকে শুধুই সম্মান করা যায়, উনি আমাদের দেশের গর্ব। আমি শিল্পী মানুষ উনাকে কেন বিরক্ত করব।

তিনি আরো বলেন, সানি ভাই কেন এসব করছেন আমি বুঝছি না। আপনারা মৌসুমী আপার কাছে জানতে চান আমি উনার অসম্মান হয় এমন কোন কাজ করেছি কিনা।

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতিতে করা অভিযোগে ওমর সানি দাবি করেছেন, এসব অভিযোগের প্রমাণ আমার এবং আমার ছেলের কাছে আছে। তাছাড়া মুরুব্বি হিসেবে আমি ডিপজল ভাইয়ের কাছে এই বিষয়ে অভিযোগ করেছি। কিন্তু কোন সমাধান হয়নি। ডিপজল ভাইয়ের ছেলের বিয়েতে জায়েদ খানের সাথে দেখা হলে, এ বিষয়ে সংযত হওয়ার জন্য আমি অনুরোধ করি। এতে সে আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে এবং হঠাৎ পিস্তল বের করে আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। জায়েদ খান এসব মিথ্যে বলে দাবি করছে।

ডিপজলকে মৌসুমী, ‘জায়েদ আমার ছোট ভাই লাগে’: চিত্রনায়ক জায়েদ খানের বিরুদ্ধে নায়িকা মৌসুমীকে হয়রানি করা ও সংসার ভাঙার চেষ্টা করার অভিযোগ এনেছেন চিত্রনায়ক ওমর সানী। রোববার (১২ জুন) শিল্পী সমিতিতে এসে লিখিত অভিযোগ করেছেন তিনি। যেখানে তিনি বলেন, ‘আমি ওমর সানি অত্র সমিতির একজন সদস্য এবং সাবেক কমিটির সহ-সভাপতি ছিলাম। দীর্ঘ ৩২ বছর ধরে চলচ্চিত্রে অভিনয় করে আসছি। কিন্তু দুঃখের বিষয় এই যে, সমিতির সদস্য জায়েদ খান চার মাস ধরে আমার স্ত্রী আরিফা পারভীন জামান মৌসুমীকে নানাভাবে হয়রানি ও বিরক্ত করে আসছে। আমার সুখের সংসার ভাঙার জন্য বিভিন্ন কৌশলে তাকে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করে আসছে। এ ব্যাপারে তাকে হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ দিয়ে বারবার বোঝানো চেষ্টা করেছি।

তার প্রমাণ আমার এবং আমার ছেলের কাছেও আছে। তাছাড়া মুরুব্বি হিসেবে আমি ডিপজল ভাইয়ের কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ করেছি। কিন্তু ওই বিষয়ের কোনো সমাধান হয়নি। ডিপজল ভাইয়ের ছেলের বিয়েতে জায়েদ খানের সাথে দেখা হলে এ বিষয়ে সংযত হওয়ার জন্য আমি অনুরোধ করি। এতে সে আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং হঠাৎ করে তার পিস্তল বের করে আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। অতএব আমি মনে করি এমন একজন পিস্তলধারী সন্ত্রাসী বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সদস্য থাকতে পারে না। উল্লেখিত বিষয়ে বিশেষভাবে বিবেচনা-পূর্বক জায়েদ খানের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমি বিনীত অনুরোধ করছি।’

এদিকে এ অভিযোগ প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন ডিপজল। তিনি জানান, ‘মৌসুমীর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে, সে সরাসরি একটা কথাই বলেছে…। মৌসুমী যা বলছে সেটা বিতর্কের কিছু নেই, বলারও কিছু নেই। মৌসুমী আমাকে স্পষ্ট বলছে জায়েদ আমার ছোট ভাই লাগে, অবশ্যই জায়েদ ছোট ভাই… মৌসুমীর লগে কিভাবে… কথা বা… ওই টাইপের কথা হওয়ার কথা না…। ব্যক্তি মৌসুমী একটা জায়গায় চলে গেছে…। এটা আমার কথা মৌসুমীরও কথা।’

ছেলের বিয়েতে চড় ও পিস্তল কাণ্ড প্রসঙ্গে মনোয়ার হোসেন ডিপজলের দাবি, ‘যেটা নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে, আমার জানা মতে কোথাও ঝগড়া হয়নি। এটা মিথ্যা, বানোয়াট ভিত্তিহীন; মারামারি ঝগড়া হলে সেটা আমার কানে আসত। আর যে টাইম বলা হচ্ছে তখন আমারা খাইতে বসছি ১০-১২ জন, রোজিনা ম্যাম ছিল, অঞ্জনা ছিল…।’

Check Also

Lamar University Study Abroad Programs

Studying abroad is an experience that goes beyond academic learning; it’s a chance to grow …