আর্জেন্টিনাই বিশ্বকাপ জিতবে: সৌদি কোচ

সৌদি আরবে সঙ্গে এমন হার কল্পনা করেননি মেসি, এরপর অবশ্য কোনো অজুহাত না দিয়ে ডাক দিয়েছেন ঐক্যের। তবে যার মগজাস্ত্রের জোরে এই হারের কবলে পড়েছেন লিওনেল মেসিরা, সেই সৌদি আরব কোচ হার্ভে রেনার্ডের অভিমত, এই হারের পরও আলবিসেলেস্তেরা বিশ্বকাপ জিতবে।

এদিকে আর্জেন্টিনাকে তিনি বলছেন বিশ্বাস না হারাতে। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ‘নিজেদের ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে, ফুটবলে যে কোনো কিছু হতে পারে। আপনার প্রতিপক্ষের নাম আপনাকে কখনো সমানভাবে অনুপ্রাণিত করবে না। যেমন ধরুন, সৌদির বিপক্ষে যেমন অনুপ্রেরণা নিয়ে খেলবেন আপনি, ব্রাজিলের বিপক্ষে নিশ্চয়ই একই অনুপ্রেরণা নিয়ে খেলবেন না!’

সৌদির এমন এই জয়ের পেছনে কারণ কী? সেটাও জিজ্ঞেস করা হয়েছিল। জবাবে রেনার্ড আকাশের দিকে আঙুল তুলে দেখালেন। বললেন, ‘তারারা আমাদের পক্ষে কাজ করেছিল।’ সেই তারারা কি এবার আর্জেন্টিনাকে সঙ্গ দেবে? এই প্রশ্নের জবাবে নিঃসন্দেহ হয়েই রেনার্ড বললেন, ‘দেখুন, তারা কোপা আমেরিকার বর্তমান চ্যাম্পিয়ন, তাদের দলে ভালো খেলোয়াড় আছে। (সৌদির বিপক্ষে যা হয়েছে) এমনটা ফুটবলে ঘটেই থাকে কখনো সখনো!’

সেই হারের পর মেসিদের বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ পড়ার শঙ্কাই তৈরি হয়েছে। আর্জেন্টিনা কতদূর যেতে পারবে, এমন প্রশ্নও উঠছে বেশ। তেমন একটা ধেয়ে গিয়েছিল সৌদি কোচের কাছেও। আর্জেন্টাইন সংবাদ মাধ্যম টিএনটি স্পোর্টসের সাংবাদিক আনহেলা লেরেনা জানান, সেই প্রশ্নের জবাবে রেনার্ড বলেছেন, ‘আর্জেন্টিনা গ্রুপ পর্ব তো পেরোবেই, বিশ্বকাপটাও জিতে যাবেন মেসিরা।’

গতকাল ম্যাচ শেষে মেসিও বলেছেন একই কথা। সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, ‘আমাদের ওপর বিশ্বাস রাখুন। আমাদের দলটা আপনাদের নিরাশ করবে না।’ মেসিরা এবার সেটা করে দেখাতে পারলেই হয়!

ভরসা রাখুন, আমরা ভক্তদের হতাশ করবো না: মেসি

চলমান কাতার বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের কাছে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে এবারের আসরের অন্যতম দাবিদার আর্জেন্টিনা। প্রথম ম্যাচে পরাজিত হওয়ার পর “কোনো অজুহাত” খুঁজতে নারাজ আর্জেন্টাইন ক্যাপ্টেন লিওনেল মেসি। তবে দক্ষিণ আমেরিকার চ্যাম্পিয়নরা আবার ঘুরে দাঁড়াবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। সমর্থকদের প্রতি মেসির বার্তা, “আমাদের ওপর ভরসা রাখুন। আমরা ভক্তদের হতাশ করবো না।”

এদিকে ইএসপিএন জানায়, গতকাল মঙ্গলবার সি গ্রুপের ম্যাচে সৌদি আরবের কাছে ২-১ গোলে পরাজিত হবার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মেসি বলেন, এটি একটি বড় ধাক্কা। কষ্টদায়ক একটি হার। তবে আমাদের নিজেদের উপর আস্থা আছে। আমাদের দলটি আর কাউকে ছাড় দিবে না। আমরা অবশ্যই পরের ম্যাচে মেক্সিকোকে হারাবো।

এ সময় মেসি আরও বলেন, আমরা জানতাম সৌদি আরবের দলটিতে বেশ ভালো কিছু খেলোয়াড় আছে। তারা গোটা মাঠ চষে বেড়িয়েছেন। আমরা তাদের রক্ষন ভাঙার চেষ্টা করেছি। তবে কিছুটা তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে ১-২ গোলে পিছিয়ে পড়ি। আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারিনি। আমাদের পারফর্মেন্সের মান তখন নেমে যায়। এ সময় আমরা কিছুটা বেপরোয়া ভাবে খেলতে চেয়েছিলাম।

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার ম্যাচের মাত্র ১০ মিনিটের মাথায় লিওনেল মেসির পেনাল্টি গোলে পিছিয়ে পড়ে সৌদি আরব। কিন্তু বিরতি থেকে ফেরার পর সৌদির হয়ে পরপর দুই গোল করেন সালেহ আল-শেরি ও সালেম আল-ডসারি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অঘটনের জন্ম দেয় মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি।

এদিকে সাত বারের ব্যালন ডি’অর খেতাব জয়ী মেসি বলেন, পরের ম্যাচে আমরা সঠিক পথে ফেরার বিষয়ে আশাবাদি। সেখানে কোনো অজুহাত চলবে না। আমরা এযাবৎকালে আরও বেশী সংগঠিত হতে যাচ্ছি। আমাদের এই দলটি বেশ শক্তিশালী, যা ইতোমধ্যে আমরা প্রদর্শন করেছি।

এদিকে দলের দক্ষতার প্রশ্নে এ তারকা ফুটবলার বলেন, দীর্ঘদিন যাবৎ আমরা এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হইনি। এখন আমাদের এটি প্রমাণের সময় এসেছে যে, এই দলটি বেশ দক্ষ। এদিকে এই ম্যাচে মোট তিনটি গোল বাতিল হয়েছে অফসাইডের কারণে। আর্জেন্টাইন সমর্থকরা বিষয়টি নিয়ে বিতর্কে জড়ালেও আধুনিক টেকনোলোজি বলছে, ম্যাচ রেফারির প্রতিটি সিদ্ধান্ত এক্ষেত্রে সঠিক ছিল।

যে কারণে গ্রেফতার হন আর্জেন্টিনা-সৌদি ম্যাচের রেফারি

চলতি কাতার বিশ্বকাপের শুরুতেই আর্জেন্টিনাকে স্তব্ধ করে দিলো সৌদি আরব। ২০২২ আসরে হট ফেভারিট লিওনেল মেসিদের ২-১ গোলে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে পুচকে দলটি। এর মাঝেই আলো কেড়েছেন ম্যাচের রেফারি স্লাভকো ভিনসিচ। তার সিদ্ধান্তে বাতিল হয় তিনটি গোল।
মূলত অফসাইডের কারণে সেসব গোল বঞ্চিত হয় আর্জেন্টিনা। এছাড়া নানা মুহূর্তে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

এদিকে অনেক আর্জেন্টাইন ভক্ত বলছেন, এই ম্যাচে সৌদির পক্ষে তার সমর্থন ছিল! রেফারি স্লাভকো ভিনসিচ একজন ইউরোপিয়; তার জন্ম স্লোভেনিয়ায়। দেশটির ফুটবলে অন্যতম সেরা রেফারি হিসেবে স্বীকৃত তিনি। ৪২ বছর বয়সী এই ব্যক্তিত্ব ২০১০ সাল থেকে ফিফা ম্যাচে রেফারির দায়িত্ব পালন করছেন। শুধু বিশ্বকাপ নয়, গত ইউরোপা লিগের ফাইনাল ম্যাচও পরিচালনা করেন ভিনসিচ।

এছাড়া ২০১৬ ও ২০২১ ইউরোর বাছাইপর্বের খেলা পরিচালনা করেন। এর মধ্যেও জেলও খাটতে হয় তাকে! ২০২০ সালে বসনিয়ার বিয়েইনা শহরের একটি কেবিন থেকে ভিনসিচকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে মাদক, অস্ত্র চোরাচালান ও যৌনকর্মী চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল। সে সময় সেই কেবিনে তল্লাশি চালিয়ে ১৪ প্যাকেট কোকেন, ১০টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৩টি বুলেট প্রুফ জ্যাকেট এবং ১০ হাজার ইউরো জব্দ করে পুলিশ। সেই সঙ্গে ৯ নারী ও ২৬ পুরুষকে উদ্ধার করা হয়।

আর এই ঘটনায় নৌকায় তিনজনকে নিয়ে দ্রিনা নদী দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন ভিনসিচ। তবে পরে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। তদন্তে উঠে আসে, এই চক্রের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ ছিল না ভিনসিচের। মূলত সার্বিয়ান মডেল তিয়ানা মাকসিমোভিচের সঙ্গে যোগাযোগ থাকার সন্দেহে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তিয়ানার বিরুদ্ধে মধু চক্র চালানোর অভিযোগ ছিল।

পরে ভিনসিচ বলেন, পুলিশ আমাদের গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এতে স্পষ্ট হয়, ওই চক্রের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। ফলে আমাকে ছেড়ে দেয়। এটা আমার জীবনে সবচেয়ে বড় ভুল ছিল। ভুল সময়, ভুল জায়গায় ছিলেন ভিনসিচ। এতে তার গায়ে কালো দাগ লেগেছিল। ফলে তার রেফারিং ক্যারিয়ারের ইতি ঘটতে পারতো। কিন্তু সেটা হয়নি।

গ্ৰুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই দ্বিতীয় রাউন্ডে যাবে আর্জেন্টিনা!

চলতি কাতার বিশ্বকাপের আগে টানা ৩৬টি ম্যাচে অপরাজিত ছিলো আর্জেন্টিনা। এই সময়ের মধ্যে দলটি জয় করেছে কোপা আমেরিকা এবং ফাইনালিসিমার শিরোপাও। গতকালের ম্যাচে মাঠে নামার সময় সুযোগ ছিলো ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি ম্যাচে অপরাজিত থাকা ইতালির রেকর্ডে ভাগ বসানোর। কিন্ত স্বপ্নের বিশ্বকাপে এসেই মুখ থুবড়ে পড়লো দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

গতকাল কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামে উড়ন্ত আর্জেন্টিনাকে মরুর বুকে নামিয়ে এনেছে সৌদি আরব। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ফুটবল দুনিয়ার অন্যতম সেরা পরাশক্তিদের থমকে দিয়ে জয় তুলে নিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি। সৌদি আরবের বিপক্ষে ম্যাচ জুড়ে যদিও ছড়ি ঘুরায় আর্জেন্টিনায়। শুরুতে এগিয়েও যায় তারা দলপতি লিওনেল মেসির পেনাল্টি থেকে।

এগিয়ে যাওয়ার পর থেমে থাকেনি দলটি। আরও তিনবার বল জালে পাঠায় লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। কিন্ত তিনবারই ভাগ্যের ফের হয়ে সামনে আসে সেমি অটোমেটেড অফসাইড প্রযুক্তি। যেখানে তিনটি গোলই অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। গোল গুলো বাতিল হওয়ার কারণেই হয়তো আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলে আর্জেন্টিনা।

এরপর দ্বিতীয়ার্ধের হঠাৎ ঝড়ে মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানেই দুই গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় সৌদি আরব। এরপর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি আর্জেন্টিনা। একের পর এক আক্রমণ শানিয়ে গেলেও সেগুলো তেকাঠি আর পার হয়নি। যার ফলস্বরূপ হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় আলবেসিলেস্তেদের।

এদিকে আর্জেন্টিনার এই আকস্মিক ছন্দপতনে হতবাক গোটা ফুটবল দুনিয়া। অনেকেই ২০০২ সালের বিশ্বকাপের সাথে এবারের আসরের সাদৃশ্য খুঁজে পাচ্ছেন। সেবারও শক্তিশালী এক দল নিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে এসে গ্ৰুপ পর্বের বাঁধায় পার হতে ব্যর্থ হয় আর্জেন্টিনা। যদিও এখনো আশায় বুক বাঁধতে পারে আর্জেন্টিনার সমর্থকরা। কেননা গতকালই হয়ে যাওয়া গ্ৰুপের আরেক ম্যাচে ড্র করেছে পোল্যান্ড এবং মেক্সিকো।

বর্তমানে সমান একটি করে ম্যাচ খেলে গ্ৰুপের শীর্ষে রয়েছে সৌদি আরব। আর্জেন্টিনার অবস্থান একেবারে তলানিতে। ১ পয়েন্ট করে অর্জন করে মেক্সিকো এবং পোল্যান্ড রয়েছে দুই ও তিন নম্বর স্থানে। যে কারণে এখনো আর্জেন্টিনার সমানে সুযোগ রয়েছে গ্ৰুপ সেরা হওয়ার। নিজেদের পরবর্তী দুই ম্যাচে যদি আর্জেন্টিনা জয় পায় তাহলেই তৈরি হবে দলটির গ্ৰুপ সেরা হয়ে শেষ ষোলোয় পৌঁছানোর পথ।

সেক্ষেত্রে অবশ্য তাকিয়ে থাকতে হবে সৌদি আরবের ম্যাচের রেজাল্টের দিকেও। পোল্যান্ড এবং মেক্সিকোর সাথে সৌদি আরব জয় না পেলে, এবং নিজেদের বাকি দুই ম্যাচে জয় তুলে নিতে পারলেই গ্ৰুপ সেরা হয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে চলে যাবে আর্জেন্টিনা।

আর্জেন্টিনার হার না মানতে পেরে হার্ট অ্যাটাক করে কুমিল্লায় এক যুবকের মৃত্যু

কুমিল্লায় টিভিতে আর্জেন্টিনার খেলা দেখার সময় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে কাউসার জাভেদ কাকন (৪০) নামে এক সমর্থক মারা গেছেন।

মঙ্গলবার (২২ নভেম্বর) সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে জেলার বুড়িচং উপজেলার নিমসারের শিকারপুর জুনাব আলী চেয়ারম্যান বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

কাকন কুমিল্লা শহরের রেইসকোর্স এলাকার বাসিন্দা। গ্রামের বাড়িতে পরিবারের অন্যদের সঙ্গে বসে খেলা দেখছিলেন তিনি।

বুড়িচং উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

কাউসার জাভেদ কাকনের ভাই আনোয়ার পারভেজ গণমাধ্যমকে জানান, তার ভাই আর্জেন্টাইন সমর্থক। মঙ্গলবার বিকেলে কুমিল্লার নিমারের শিকারপুরে জুনাব আলী চেয়ারম্যান বাড়িতে সবাই মিলে খেলা দেখছিলেন। খেলা শেষ হওয়ার দুই মিনিট আগে আর্জেন্টিনার পরাজয় যখন প্রায় নিশ্চিত, তখন তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন। কিছুক্ষণের মধ্যেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি।