বিশ্বকাপে মেক্সিকোর বিপক্ষে কখনো হারেনি আর্জেন্টিনা

আজ যদি অঘটন হয়, ভেঙে যাবে বিশ্বকাপ স্বপ্ন, চুরমার হবে ভক্তদের হৃদয়। তবে এখানেই স্বস্তি যে, বিশ্বকাপে সবসময় মেক্সিকোর বিপক্ষে জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনা। এমনকি ভালো করেছেন দলের অন্যতম ভরসা লিওনেল মেসি। আজ রাত ১টায় সেই লুসাইল স্টেডিয়ামে দুবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদেন মুখোমুখি হবে মেক্সিকো। চারদিন আগে এখানেই সৌদি আরবের বিপক্ষে ২-১ গোলে হেরেছিল আর্জেন্টিনা।

এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে মেক্সিকোর বিপক্ষে তিনটি ম্যাচ খেলেছে আর্জেন্টিনা। সবগুলোতেই জয়ের স্বাদ পেয়েছে ‘আলবিসেলেস্তেরা।’ প্রথম যে বার আর্জেন্টিনা–মেক্সিকো মুখোমুখি হয়েছিল, সেটি ছিল ফুটবল বিশ্বকাপের প্রথম আসর। ১৯৩০ সালের সেই বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা মেক্সিকোকে হারিয়েছিল ৬-৩ গোলে। আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার স্ট্যাবিল গুইলির্মো করেছিলেন হ্যাটট্রিক গোল। জোড়া গোল করেছিলেন অ্যাডলফো জুমেলজু।

একটি করেছিলেন ভারাল্লো। আর্জেন্টিনা খেলেছিল ফাইনালেও। তবে প্রথমবার ফাইনাল খেলে উরুগুয়ের বিপক্ষে আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি। এরপরে বিশ্বকাপে দ্বিতীয়বার মুখোমুখি হতে দুদলকে অপেক্ষা করতে হয়েছিল দীর্ঘ ৭৬ বছর। ২০০৬ সালের সেই বিশ্বকাপেও মেক্সিকোকে হারিয়েছিল আর্জেন্টিনা। যদিও প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা-মেক্সিকো ১-১ গোলে সমতায় ছিল।

কিন্তু সে দিন ৯৮ মিনিটে ম্যাক্সি রদ্রিগেজের গোলে জয় পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। এসময় দলের সঙ্গে ছিলেন লিওনেল মেসিও। খেলেছিলেন ১৯ নম্বর জার্সি গায়ে। তৃতীয়বারের মতো আর্জেন্টিনা-মেক্সিকো মুখোমুখি হয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকাতে ২০১০ সালের বিশ্বকাপে।

এবারও দলের সঙ্গে ছিলেন লিওনেল মেসি। তবে তাঁর জার্সি নম্বর ১০। শেষ ষোলোয় সে বার মেক্সিকোকে ৩-১ গোলে হারিয়েছিল আর্জেন্টিনা। আর্জেন্টিনার পক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন কার্লোস তেভেজ। এক গোল করেছিলেন গঞ্জালো হিগুয়েন। এদিকে আর্জেন্টিনার তারকা ফুটবলার ও ক্ষুদে জাদুকর লিওনেল মেসি এ পর্যন্ত ৫ বার মেক্সিকোর মুখোমুখি হয়েছেন।

আর এই পাঁচ দেখায় হারের স্বাদ পাননি মেসি। চারবার পেয়েছেন জয় ও একবার করেছেন ড্র। নিজে গোল করেছেন তিনটি, গোল করিয়েছেন দুটি। ফলে পরিসংখ্যান এবং শক্তির বিচারে আজকের ম্যাচে খানিকটা এগিয়েই থাকবে লিওনেল স্কালোনির দল। সঙ্গে থাকবেন মারিয়া-মেসিরা।

বাঁচা-মরার ম্যাচে রাতে মাঠে নামছে মেসির আর্জেন্টিনা

নিজেদের প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের সাথে হেরে বিশ্বকাপ শুরু করেছে আসরের অন্যতম ফেভারিট আর্জেন্টিনা। ২-১ গোলের সেই হার পালটে দিয়েছে গ্রুপের সব সমীকরণ। শেষ ষোলোতে উঠতে আর্জেন্টিনার ওপর বেড়েছে চাপ। আজ শনিবার রাতে মেক্সিকোর মুখোমুখি হওয়ার আগে মেসিরা চাইবেন সৌদি আরবের জয়। আজ শনিবার বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা-মেক্সিকো।

একই দিন সন্ধ্যা ৭টায় মাঠে নামবে রবার্ট লেভানদোস্কির পোল্যান্ড আর সৌদি আরব। এখন আর্জেন্টিনা যদি তাদের পরের দুই ম্যাচ জিতে যায়, তাহলে শেষ ষোলোতে যাওয়া নিয়ে কোনো চিন্তা নেই। আর যদি এর ব্যতিক্রম হয়, তাহলেই বিপদ। তখন তাদের তাকিয়ে থাকতে হবে সৌদি আরবের বিপক্ষে মেক্সিকো আর পোল্যান্ডের ম্যাচ দুটির দিকে। সি’ গ্রুপের পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে অবস্থান আর্জেন্টিনার।

আজ শনিবার পোল্যান্ডের বিপক্ষে সৌদি আরব জিতে গেলে ২ ম্যাচ থেকে ৬ পয়েন্ট নিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে ফেলবে। ওই ম্যাচে পোল্যান্ডের পয়েন্ট তখন ২ ম্যাচে হবে ১। গ্রুপের শেষ ম্যাচটা তারা খেলবে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে। নিজেদের শেষ ষোলোতে যাত্রা সহজ করতে পোল্যান্ডের বিপক্ষে সৌদির জয় চাইবে আর্জেন্টিনা।

আজ শনিবার পোল্যান্ডের বিপক্ষে সৌদি আরব আর মেক্সিকোর বিপক্ষে আর্জেন্টিনার জিতলে ‘সি’ গ্রুপের শেষ ম্যাচের আগে ৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থাকবে সৌদি আরব। ৩ পয়েন্ট নিয়ে আর্জেন্টিনা থাকবে দ্বিতীয় স্থানে। ১ পয়েন্ট করে নিয়ে এরপর থাকবে পোল্যান্ড ও মেক্সিকো। তখন ওই গ্রুপের শেষ দুই ম্যাচের একটিতে সৌদি আরবের বিপক্ষে মেক্সিকো জিতলে তাদের পয়েন্ট হবে ৪।

আর্জেন্টিনা তখন পোল্যান্ডকে হারাতে পারলেই শেষ ষোলো নিশ্চিত। আর যদি আর্জেন্টিনা হেরে যায়, তাহলে ছিটকে যাবে টুর্নামেন্ট থেকে। ম্যাচ ড্র হলে আর্জেন্টিনার পয়েন্ট হবে ৪। যা মেক্সিকোর সমান হবে। তখন শেষ ষোলোতে যেতে হলে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকতে হবে। গোলসংখ্যা যদি সমান হয়, তাহলে সব ম্যাচ মিলিয়ে বেশি গোল করা দল যাবে শেষ ষোলোতে।

‘আর্জেন্টাইনদের চেয়েও আর্জেন্টিনার সমর্থক বেশি বাংলাদেশে’

ফিফা বিশ্বকাপ এলেই দুইভাগে বিভক্ত হয়ে যান বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীরা। একপক্ষ ব্রাজিল, আরেকপক্ষ আর্জেন্টিনার সমর্থক। এ নিয়ে উন্মাদনার খবর দেশের সীমানা পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়েছে বিদেশে। এর হাওয়া পৌঁছে গেছে সুদূর যুক্তরাষ্ট্রেও। সেখানে এক আর্জেন্টাইন অধ্যাপকের দেখা হয়েছিল প্রবাসী এক বাংলাদেশির সঙ্গে। তার কাছ থেকে বাংলাদেশে আর্জেন্টিনা সমর্থকের আধিক্যের কথা জেনে রীতিমতো বিস্মিত তিনি।

সেই ব্যক্তির নাম মার্টিন বেরাজা। আর্জেন্টাইন এ নাগরিক যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) একজন সহকারী অধ্যাপক। সম্প্রতি নিজের টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে করা পোস্টে মার্টিন জানান, তিনি ট্যাক্সিতে চড়ে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে যাচ্ছিলেন। এ সময় গাড়ির চালক তাকে জিজ্ঞেস করেন, ‘আপনি কোথা থেকে এসেছেন?’ আমি বলি, ‘আর্জেন্টিনা।’

এরপর চালক পেছনে ঘুরে তার জ্যাকেট খুলে দেখান। তিনি আর্জেন্টিনার ১০ নম্বর জার্সি পরা ছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি। আমরা অনেক বড় ভক্ত! আমার কথা বিশ্বাস হচ্ছে না তো? দাঁড়ান দেখাচ্ছি…’ প্রথমে ওই বাংলাদেশি ট্যাক্সিচালক তার বাড়ির ছবি দেখান। এর বারান্দায় আর্জেন্টিনার বড় একটি পতাকা ঝুলছিল। তারপর ইউটিউব চালু করেন এবং শত শত বাংলাদেশি ভক্ত আর্জেন্টিনার জার্সি পরে মিছিলের একটি ভিডিও দেখান।

আর সেই ভিডিওর লিংকও শেয়ার করেছেন আর্জেন্টাইন অধ্যাপক মার্টিন। এটি ছিল ‘বাগেরহাটে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের উন্মাদনা’ শিরোনামে একটি বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন। এই ঘটনা এখনো শেষ হয়নি। এরপর ওই গাড়িচালক তার ভাইকে (মার্টিনের মতে) ফোন করেন এবং জানতে চান, ‘তুমি কোন দল সমর্থন করো?’ তার ভাই তখন চিৎকার করে বলেন, ‘আর্জেন্টিনা! আর্জেন্টিনা!’ এ সময় গাড়িচালক ও তার ভাইয়ের মধ্যে বাংলায় কিছু কথাবার্তা হয়েছিল।

কিন্তু বাংলাদেশে ব্যবহৃত ভাষার নাম জানতেন না মার্টিন। তিনি স্বীকার করেছেন, এটি জানতে তাকে খোঁজ-খবর করতে হয়েছে (হয়তো গুগলে সার্চ করেই জেনেছেন)। মার্টিন আরও জানান, সেই বাংলাদেশি তাকে বলেছেন, বাংলাদেশের ৮০ শতাংশ মানুষ আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করেন এবং কাতার তাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিবাসন গন্তব্য। এরপর আমি উইকিপিডিয়া দেখি। কাতারে চার লাখ বাংলাদেশি রয়েছেন।

এ সময় মার্টিন বলেন, ‘এই পর্যায়ে আমি হতবাক! বাংলাদেশের জনসংখ্যা প্রায় ১৫ কোটি (আবারও উইকিপিডিয়াকে ধন্যবাদ)। তার (গাড়িচালক) হিসাব অনুযায়ী, আর্জেন্টাইনদের চেয়েও আর্জেন্টিনার সমর্থক বেশি রয়েছে বাংলাদেশে। এমনকি, কাতারেও আর্জেন্টাইনদের চেয়ে বেশি বাংলাদেশি সমর্থক থাকবে।’ হিসাবে হয়তো খুব একটা ভুল করেননি মার্টিন। আর্জেন্টিনার জনসংখ্যা সাড়ে চার কোটির মতো।

আর বাংলাদেশে যদি অর্ধেকও হয়, তাহলে অন্তত আট কোটি আর্জেন্টিনা ভক্ত রয়েছে। কাতারের হিসাবও একই। সেখানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে অর্ধেক, অর্থাৎ দুই লাখ আর্জেন্টিনা ভক্ত হলে এটিও বিশ্বকাপ দেখতে যাওয়া আর্জেন্টাইনদের সংখ্যার চেয়ে বহুগুণ বেশি। এ ঘটনার শেষ পর্যায়ে মার্টিনকে আলিঙ্গন করেন আর্জেন্টিনা-ভক্ত সেই বাংলাদেশি। এরপর গাড়ি থেকে নেমে যান আর্জেন্টাইন অধ্যাপক।

হতাশ হয়ে ব্রাজিলে যোগ দিলেন আর্জেন্টিনা সমর্থক

চলতি কাতার বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের বিপক্ষে খেলে ২-১ গোলে হেরেছে আর্জেন্টিনা। এ হতাশায় ব্রাজিল সমর্থকদের দলে ভিড়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সনেট। গতকাল শুক্রবার ২৫ নভেম্বর রাতে সংবাদ সম্মেলন করে আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে ব্রাজিল সমর্থক ফরম পূরণ করে এ ঘোষণা দেন তিনি।

এদিকে সমর্থক ফরমে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘আমি সনেট রাবি অর্থনীতি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। ২০১২ থেকে ২০২২ পর্যন্ত একজন ঘোরতর আর্জেন্টাইন ফুটবলের কট্টর সমর্থক ছিলাম। কিন্তু ভ্যামোসদের গত ৩৬ বছরের শিরোপা খরা এবং অধরা বিশ্বকাপ অর্জনের অভিপ্রায়ে কাতার বিশ্বকাপে সৌদি আরবের কাছে শোচনীয় পরাজয়ে আমি মানসিকভাবে হতাশ।’

এতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ‘আর্জেন্টিনার পক্ষে ভবিষ্যতে বিশ্বকাপ জেতা সম্ভব নয়। বাস্তবতা উপলব্ধি করতে পেরে কারও দ্বারা প্রভাবিত ও প্ররোচিত না হয়ে ঘোষণা করছি আজ থেকে আমি ব্রাজিল সমর্থক হিসেবে যোগদান করলাম। ব্রাজিলীয় ফুটবলের ঐতিহ্য মর্যাদা রক্ষায় সব পরিস্থিতিতে দৃঢ়, সতর্ক এবং সাহসী অবস্থান নিতে সচেষ্ট থাকবো।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক ছাত্র ব্রাজিল সমর্থক মেহেদি হাসান বলেন, ‘সকালে খেলা নিয়ে কথা বলার সময় ছোট ভাই সনেট আর্জেন্টিনা দলের প্রতি অনীহার কথা জানায়। ব্রাজিলের খেলা দেখে মুগ্ধ হয়ে সমর্থনের কথা বলে। তখন আমরা তাকে অভ্যর্থনা দেওয়ার মাধ্যমে ব্রাজিল সমর্থক গোষ্ঠীতে স্বাগত জানাই।’

এ সময় আর্জেন্টিনা থেকে হতাশ হয়ে ব্রাজিলে যোগ দেওয়ার বিষয়ে সনেট বলেন, ‘আমি অনেক আগে থেকে আর্জেন্টিনা করি। কিন্তু এখন এ দলের প্রতি খুব হতাশ। আর্জেন্টিনার প্রতি ভালো প্রত্যাশা ছিল। তারা সুন্দর একটা ম্যাচ আমাদের উপহার দেবে। কিন্তু ফিফা র‍্যাংকিংয়ে ৫১ নম্বর দল সৌদি আরবের সঙ্গে ধরাশায়ী খেললো, এতে আমি চরম হতাশ।’

তিনি আরও বলেন, ‘ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচে যে নান্দনিকতা ফুটে উঠেছে এবং রিচার্লিসনের শর্টে গোল দেখে আমি ব্রাজিলের ফ্যান হয়ে গেছি। তাই আজ থেকে আর্জেন্টিনাকে বাদ দিয়ে ভালো লাগার কারণে ব্রাজিলে যোগ দিয়েছি।’

About admin

আমার পোস্ট নিয়ে কোন প্রকার প্রশ্ন বা মতামত থাকলে কমেন্ট করে জানাতে পারেন অথরা মেইল করতে পারেন admin@sottotv.com এই ঠিকানায়।